তৌহিদুল ইসলাম কায়রু
লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রাম লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর রশিদেরঘোনা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকদের মাঝে চলছে তুমুল টানাহেঁচড়া। দুই দিন যাবৎ কর্তৃক ক্লাস বর্জন সহ স্কুলের আসবাবপত্র ভাঙচুর করছে শিক্ষার্থীরা। দুশ্চিন্তায় দিনাতিপাত করছে অভিভাবকরা। অবিলম্বে বিরোধ নিরসনের দাবী সচেতন মহলের।
প্রিয় হেড-মাস্টারকে বহাল রাখতে আন্দোলনে নেমেছে ছাত্র-ছাত্রীরা। বিরোধ নিরসনে কমিটির সদস্য, উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও স্থানীয় প্রশাসন দফায় দফায় বৈঠক করে চলেছেন।
সূত্র মতে জানা যায়, ২৯ আগস্ট সকালে বিদ্যালয়ের সভাপতির অনুমোদনে স্বামী আকস্মিকভাবে বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে নানান অনিয়মের কথা বলে অভিযোগ সৃষ্টি করে প্রধান শিক্ষককে বহিষ্কারপত্র প্রদান করেন এবং স্কুলে আসতে বারণ করেন। এ খবর শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে পরদিন স্কুলে ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একসময় ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলের আসবাবপত্র ভাংচুর করে। এসময় উপজেলা পুলিশ প্রশাসনের সাহায্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়। এ উত্তেজনা ও আন্দোলন থামছে না কিছুতেই। পরিস্থিতি বিপাকে দেখে ৩০ আগস্ট সকালে উপজেলা শিক্ষা অফিসার নুরুল ইসলাম, থানা অফিসার ইন-চার্জ রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহ্জাহান, আধুনগর ইউপি চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দীন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদ আহমদ স্কুলে পরিদর্শনে গিয়ে পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ ও স্থানীয় মান্যগণ্য ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার নুরুল ইসলাম জানান, “প্রধান শিক্ষককে বহিষ্কার পদ্ধতি যথাযথ হয়নি। যার দরুন প্রধান শিক্ষক তার পূর্ববর্তী পদে বহাল থাকবেন। উত্তেজিত শিক্ষার্থীদেরকে ক্লাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা জানান, “সভাপতি মহোদয় আমাদের এলাকার একজন সম্মানিত ব্যক্তি। তিনি আমাদেরকে না জানিয়ে হঠাৎ নিজেই প্রধান শিক্ষককে সাসপেন্ড করে আমাদেরকে বেকায়দায় ফেলেছেন।” তারা আরও বলেন, “স্থানীয় কিছু কুচক্রী মহলের কানাঘুষায় এ জটিল বিরোধের সৃষ্টি হয়। স্কুলের শিক্ষক শহীদুল্লাহর সাথে প্রধান শিক্ষক বজলুর রহমানের সাথে সামাজিক খুঁটিনাটি বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্র হয়।”
স্কুলের একাধিক ছাত্র-ছাত্রী প্রতিবেদককে জানান, “স্কুলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, আমরা চাই বিদ্যালয়ের পড়ালেখার উন্নত মান এবং সবার মাঝে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক।”
সভাপতির স্বামী সাবেক মেজর জেনারেল রুকনুদ্দৌলা জানান, “প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি এবং অভিভাবক বিভিন্ন অনিয়ম ও অনৈতিকতার অভিযোগ করেন। এরই ভিত্তিতে সভাপতি তথা আমার স্ত্রী অসুস্থ থাকায় তার অনুমোদনক্রমে প্রধান শিক্ষককে বহিষ্কার করেছি।”
Leave a Reply