নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের চকরিয়ায় হত্যার শিকার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় নিহতের স্ত্রী মামলার বাদী হাসিনা বেগম ও তার দুই ছেলেকে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। সোমবার দুপুর ১টার দিকে চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই মানববন্ধন করে তারা।
মানববন্ধনে নিহতের ছেলে মো. আবু দাবী করেন, পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড করাইয়াঘোনায় একটি মুরগিকে পিটিয়ে মারার প্রতিবাদ করায় ছোট ভাই গিয়াস উদ্দিনকে (৪৫) পিটিয়ে হত্যা করে বড় ভাই শাহাবউদ্দিন ও তার ছেলে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা বেগম। অপর দিকে ঘটনার দিন ঘটনাস্থল থেকে নিহত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মো. নোমানকে (২৩) আটক করে পুলিশ। পরে হত্যা মামলার একদিন পর গিয়াস উদ্দিনের বড় ভাই শাহাবউদ্দিনের স্ত্রী নুর আয়েশা বেগম পাল্টা একটি মারামারি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় নোমানকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয় ।
একইভাবে ওই মামলায় গত রবিবার চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলার বাদী হাসিনা বেগম জামিন নিতে গেলে আদালতের বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠনোর নির্দেশ দেন।
তিনি আরো দাবী করেন, হত্যা মামলা তোলে নিতে বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছে আসামীরা। মামলা তুলে না নেয়ায় পাল্টা মারামারি মামলা দিয়ে আমার মা, ৪ বছর বয়সীসহ ছোট দুই ভাইকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ঘটনার পর থেকে ঘরে আমি ও ছোট বোন ছাড়া আর কেউ নেই। আসামীরা প্রকাশ্যে বাড়ি ছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে। আমরা এলাকাবাসীর সহায়তা নিয়ে প্রশাসনের কাছে জান-মালের নিরাপত্তা চাই।
এদিকে হত্যা মামলার পর ওসি আমাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা দাবী করেন। আমরা তাতে রাজি না হওয়ায় এই মামলা দিয়ে আমার পরিবারকে হয়রানী করা হচ্ছে।
মানববন্ধনে অংশ গ্রহণকারী এলাকাবাসী হত্যা মামলার বাদী মা ও ছেলেকে হয়রানীমূলক মামলা প্রত্যাহারে প্রশাসনের কাছে দাবী জানিয়েছেন।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাবেদ মাহমুদ বলেন, মুরগি মেরে ফেলার ঘটনার জের ধরে ছোট ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়। একই ঘটনায় শাহাবউদ্দিনের ছেলে সাজ্জাদ হোসেনকে ছুরি দিয়ে জখম করা হয়। ওই ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় মো. নোমানকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
Leave a Reply