পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় মোহাম্মদ শেফায়েত প্রকাশ সাইফুল্লাহ (২২) নামক এক যুবককে জিম্মি করে খালি স্ট্যাম্পে সই নিল সংঘবদ্ধ চক্র। এ সময় ফিল্মি স্টাইলে ওই যুবককে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে নগদ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকাও লুট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সকাল ৭ টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কলেজ গেইট চৌমুহনীতে এ ঘটনা ঘটে।
মোহাম্মদ শেফায়েত প্রকাশ সাইফুল্লাহর বাড়ি মগনামা ইউনিয়নের পশ্চিমকুল এলাকায়। তার পিতার নাম আহসান উল্লাহ। সুত্র জানায়, ওই দিন সকালে আহসান উল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ শেফায়েত প্রকাশ সাইফুল্লাহ চট্টগ্রাম শহরে যাওয়ার জন্য মগনামা পশ্চিমকুলের নিজ বাড়ি থেকে বের হন। সকাল ৭.২০ মিনিটের দিকে সদর ইউনিয়নের কলেজ গেইট চৌমুহনীতে সিএনজির জন্য রাস্তায় অবস্থান করে। এ সময় পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা মগনামা ইউনিয়নের পশ্চিমকুল এলাকার ছমুদুল করিমের পুত্র আতিক, মো. কাইছারের পুত্র খোকন, মিয়াজিপাড়ার মৃত জালাল আহমদের পুত্র কলিম উল্লাহ, একই এলাকার বজল করিমের পুত্র দিদারুল ইসলামসহ ৫ জন মিলে শেফায়েতকে রাস্তায় জিম্মি করে। এ সময় তারা ওই যুবককে জোরপূর্বক টানা হ্যাচড়া করে মোটর সাইকেলে তুলে নেয়। এক পর্যায়ে ফুলকলির বিপরীত দিকে গলিতে নিয়ে গিয়ে ধারালো ছুরা তাক করে শেফায়েতের কাছ থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর একই দুবৃর্ত্তরা শেফায়েতকে মোটর সাইকেলে ব্র্যাক অফিসে সামনের শেখেরকিল্যাঘোনা যাতায়াত সড়কে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে শেফায়েতকে প্রাণনাশের ভয় দেখানো হয়। এক পর্যায়ে শেফায়েতের কাছ থেকে তারা ননজুড়িসিয়াল একটি অলিখিত স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষরও নিয়ে ফেলে। এ ব্যাপারে শেফায়েতের পিতা আহসান উল্লাহ বলেন, আমার ছেলে মগনামায় নৌঘাঁটিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো। আমার ২ ছেলে সৌদি আরব থাকে। শেফায়েতকেও বিদেশ পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। শেফায়েতের মামা মোশারফ চট্টগ্রাম শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে। সেখানকার একটি মাদ্রাসায় আমার শ্যালক মোশারফ চাকুরী করে। সৌদি আরবের ভিসা প্রসেসের জন্য আমার বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে ছেলে শেফায়েত মামাকে দিতে যাচ্ছিল। তারা দেড় লক্ষ টাকা আমার ছেলের কাছ থেকে ছিনতাই করেছে। দিদার, কলিম, আতিক, খোকন এরা সংঘবদ্ধ চক্র। মগনামায় এদের নেতৃত্বে কিশোর গ্যাং আছে। আমার ছেলেকে জিম্মি করে স্টাম্প নিয়েছে। এ ব্যাপারে শেফায়েত প্রকাশ সাইফুল্লাহ বলেন, আমি চট্টগ্রামে যাচ্ছিলাম। সিএনজির জন্য চৌমুহনীতে রাস্তায় দাড়ায়। এ সময় আতিকসহ ৫ জন এসে আমাকে জিম্মি করে ফেলে। ছুরি তাক করে আমার কাছ থেকে নগদ দেড় লক্ষ টাকা নিয়ে ফেলে। দ্বিতীয় দফায় তারা ফুলকলির গলির ভিতরে আমাকে নিয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে মোটর সাইকেলে করে ব্র্যাক অফিসের দিকে নিয়ে গিয়ে গলির ভিতরে একটি নির্জন স্থানে আটকিয়ে রাখে। এরপর ৩শ টাকা মূল্যমানের ননজুড়িসিয়াল খালি স্ট্যাম্পে জোর করে সই নিয়ে ফেলে। তারা হাকাবকা করছিল এ স্ট্যাম্প পূরণ করবেন এবং পরবর্তীতে ওই স্ট্যাম্পে চুক্তিনামা তৈরী করবে তারা । পেকুয়া থানার ওসি ওমর হায়দার জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply