পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় বয়োবৃদ্ধ নারীর বসতি গুড়িয়ে দিল ছেলে। সরকারী খাস জায়গায় মাথা গোঁজার ঠাই করে ৮০ বছর বয়সী অসহায় মহিলা। গভীর রাতেই ভাড়াটে জড়ো করে ছেলে মা থাকার ঘরটি চুরমার করে দেয়। এ দিকে নিজের ছেলের এহেন অত্যাচার ও জোর জুলুম নিয়ে চরম বেকায়দায় গর্ভধারিণী মা। ছেলের নিপীড়ন ও বৈষম্যের শিকার অসহায় বয়োবৃদ্ধ মহিলা বিচার নিয়ে ঘুরছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে। স্বামীর রেখে যাওয়া বসতবাড়ি ছাড়তে হয়েছে তাকে। মারধর, জোর জুলুম ও আতংকের মধ্যে তাকে ভীতি সন্ত্রস্ত করা হয়। এরপর বিতাড়িত করে স্বামীর রেখে যাওয়া বসতবাড়িসহ সম্পত্তি থেকে। শুধু ৮০ বছর বয়সী ওই নারী একা নন। তার ৬ মেয়েকেও পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চলছে অপপ্রয়াস। তারা ৭ ভাইবোন। একজন মাত্র ভাই। ওই ভাইয়ের লোলুপ দৃষ্টিতে এখন পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করছে ৬ বোন ও তাদের মাকে। এ দিকে শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে একদল দুবৃর্ত্তরা উজানটিয়া ইউনিয়নের পেকুয়ারচরের আনোয়ারা বেগমের বসতি ভাংচুর করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নতুনঘোনা পেকুয়ারচরে মৃত শফিকুর রহমানের জায়গা জমি নিয়ে রেখে যাওয়া ওয়ারিশদের মধ্যে বনিবনা চলছিল। শফিকুর রহমানের স্ত্রীসহ ওয়ারিশ ৮ জন। ৬ মেয়ে ও ১ ছেলে। ১ মেয়ে মারা যান। একমাত্র ছেলে মৌলভী জালাল উদ্দিন পৈত্রিক সম্পত্তি একাই ভোগ করার কুমানসে লিপ্ত। তার মাকে ৪ বছর আগে বাড়িছাড়া করে। মা আনোয়ারা বেগম বৃদ্ধ বয়সে মেয়েদের সংসারে থাকেন। ছেলে খরপোষ এমনকি বৃদ্ধ মায়ের ভরণপোষন করেননা। পুত্রবধূ ছেলে মিলে মাকে ঘরছাড়া করে। সম্প্রতি আনোয়ারা বেগম স্বামীর জায়গায় একটি ঘর করে। তবে ওই ঘরটি ১০/১৫ দিনের মধ্যে উচ্ছেদ করে। উজানটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ গ্রাম আদালতে বিচার ছিল। সরকারী খাস জায়গায় পৈত্রিক সম্পত্তি প্রত্যেক মেয়েকে ১২ শতক করে বন্টন করে দেয়। স্বামীর রেখে যাওয়া জায়গায় আনোয়ারা বেগমকে বাড়ি তৈরির রায় দেওয়া হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য গ্রাম পুলিশ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ রায় কার্যকর করে। পরবর্তীতে পেকুয়া থানায় বিচার ছিল। সেখানে মৌলভী জালাল অনুপস্থিত থাকেন। ইউপির চেয়ারম্যান এম, তোফাজ্জল করিম বলেন, আমি হিস্যামতে জায়গাটি পরিমাপসহ বন্টন করে দিয়েছি। ছেলে একজন আলেম। অথচ সে নিজেই তার মায়ের উপর অন্যায় করছে। এ ব্যাপারে আনোয়ারা বেগম জানান, যে ছেলে পেটে ছিল আমার। সে ছেলেই এখন আমার উপর অবিচার করছে। আমার খোঁজ খবর নেয়না। মেয়েরা আমাকে দেখছে। আমি স্বামীর ভিটায় গিয়ে মরতে চাই। আর কতদিন বাইরে থাকব। একটি ঘর বেঁধে দিয়েছিল। রাতে সেটি ভেঙ্ েদিয়েছে। এ ব্যাপারে মৌলভী জালাল উদ্দিন জানান, আমি সন্ত্রাসী আনিনি। তবে ঘরটি উচ্ছেদ করার কথা স্বীকার করেছে। আনোয়ারার মেয়ে ফাতেমা বেগম, আমেনা বেগম, রাশেদা বেগম, খালেদা বেগম জানান, আমরা বাপের ভিটায় যেতে পারছিনা। খাস জায়গা হলেও ওই সম্পত্তি আমার বাবাই অর্জন করেছে। জালালতো একা পাবেনা। আমরা কিছু সম্পত্তি তাকে বেশী রাখতে বলছি। কিন্তু আমাদের অংশগুলিতেও দিতে হবে। আমরা সবাই পরের ছেলেদের নিয়ে ঘর সংসার করছি। তারা সম্পত্তির কথা বলছে। আনোয়ারা বেগমের মেয়ে রাশেদার ছেলে স্বেচ্ছাসেবকলীগ উজানটিয়ার ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, নানীকে এ ঘর আমরা তৈরী করে দিয়েছি। আমার মামা জালাল কেমন লোক, নিজের মায়ের ঘর সন্ত্রাসী এনে রাতেই ভেঙ্গে দিতে পারে।
Leave a Reply