পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় “এফবি কহিনুর” নামক ফিশিং বোট থেকে মাছ ধরার জালসহ সরঞ্জামাদি লুট হয়েছে। সাগরে মাছ ধরার সময় জলদস্যুরা ওই ফিশিং বোটে হানা দেয়। এ সময় মাছ ধরার ফিশিং বোট থেকে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার জাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে আটবিউ নামক বঙ্গোপসাগরে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে এফবি কহিনুর নামক ফিশিং বোট থেকে লুটকৃত জালসহ দ্রব্যাদির সন্ধান মিলছে। সাগরে দস্যুতার ৩ দিন পর লুট হওয়া মালামালগুলি সনাক্ত করা হয়েছে। পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের বকশিয়াঘোনায় সাগর মোকামে এ সব মালামাল দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে এফবি কহিনুর ফিশিং বোটের মালিক রাজাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ সুন্দরীপাড়ার আক্তার কামাল কোম্পানীসহ স্থানীয় ফিশিং বোটের মালিক ও মাঝিমাল্লারা সেখানে গিয়ে কহিনুর নামক ফিশিং বোট থেকে লুটকৃত মালামালগুলি চিহ্নিত করে। এ সময় বকশিয়াঘোনায় তুমুল বাকবিতন্ডা হয়।
স্থানীয় সুত্র জানায়, শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজাখালীর দক্ষিণ সুন্দরীপাড়ার আক্তার কামাল কোম্পানীর মালিকানাধীন এফবি কহিনুর নামের ফিশিং বোট সাগরে মাছ ধরতে যায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে ফিশিং বোটটি জলদস্যুদের কবলে পড়ে। এ সময় গভীর সাগরে জলদস্যুরা এফবি কহিনুর ফিশিং বোট থেকে অন্তত ১০ লক্ষ টাকার জালসহ দ্রব্যাদি লুট করে। এফবি কহিনুর ফিশিং বোটের মালিক রাজাখালী দক্ষিণ সুন্দরীপাড়ার আক্তার কামাল কোম্পানী জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে জলদস্যুরা আমার বোটের মাঝিমাল্লাদের জিম্মী করে। এ সময় আমার বোট থেকে জালসহ মাছ ধরার সামগ্রী লুট করে। আনুমানিক ১০ লক্ষ টাকার দ্রব্যাদি নিয়ে যায়। বকশিয়াঘোনার রেজাউল করিম প্রকাশ কালুর একটি ফিশিং বোট থেকে জলদস্যুরা এ ঘটনা সংঘটিত করে। এফবি কহিনুর ফিশিং বোটের মাঝি আবু তাহের বলেন, আমরা শনিবারে মাছ ধরতে সাগরে যায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে জালগুলি লুট হয়েছে। শুক্রবার সকালের দিকে লুট হওয়া মালামালের সন্ধান পাওয়া যায়। ছনুয়া নদীর মোহনায় বকশিয়াঘোনায় কালুর বোটে এ সব ধরা পড়েছে। সাগরে জাল পাতানোর সময় আমরা ঝান্টা দিয়ে থাকি। যাতে করে আমাদের জালের চিহ্ন থাকে। আমি নিজে গিয়ে দেখেছি কালুর ফিশিং বোটে আমার নিয়ন্ত্রণাধীন ট্টলারের ঝান্টা, রশি (নওল্যা) আছে। এ ব্যাপারে রেজাউল করিম কালুর মালিকানাধীন ফিশিং বোটের সাবেক মাল্লা শাহাদাতসহ আরো অনেকে জানান, যে জালগুলি রাজাখালীতে পাওয়া গেছে সেগুলি আক্তার কামালের ফিশিং বোট থেকে উধাও হয়ে গেছে। সুন্দরীপাড়া, বকশিয়াঘোনাসহ নদীর পাড়ের জেলেরা জানান, রেজাউল করিম কালুর মালিকানাধীন এফবি আল্লাহর দান ফিশিং বোট নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। এ ফিশিং বোটটিতে শক্তিশালী ইঞ্জিন ব্যবহৃত হয়। ২২৫ হর্স পাওয়ার ইঞ্জিন চালিত ফিশিং বোটটি সাগরে মাছ ধরার সময় আকাম কোকামে লিপ্ত থাকে। এ ব্যাপারে আল্লাহর ফিশিং বোটের মালিক রেজাউল করিম কালু জানান, আক্তার কামালের ফিশিং বোট থেকে জাল কেটে ফেলানো হয়েছে সেটি আমি শুনেছি। সকালে তারা এসে আমার মাঝিমাল্লাদের বিরুদ্ধে আপত্তি জানায়। তবে ঝান্টা ও নওল্যা আমার বোটে তারা দেখতে পেয়েছে। জাল কোথায় গেছে এ বিষয়ে আমি বলতে পারিনা। আমার মাঝিকে বলেছি জাল নিয়ে থাকলে দিয়ে দিতে। পেকুয়া থানার ওসি ওমর হায়দার জানান, বিষয়টি আমরা এখনো জানিনা। লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply