পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় বারবাকিয়া ইউনিয়নের পাহাড়িয়াখালীতে সৎ ভাসুর পুত্রের মামলায় বাড়ি ছাড়া হয়েছে ৪ গৃহবধূ। মামলার ছড়াছড়ি ও ফের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির ভয়ে এ সব নারীরা স্বামীর সংসার থেকে অন্যত্র গিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে। এ দিকে বসতভিটার জায়গা জবর দখল কুমানসে রাতে বাড়িতে ছোড়ানো হচ্ছে মল। দুবৃর্ত্তরা গভীর রাতে দফায় দফায় ৪ টি বাড়িতে নিক্ষেপ করেছে মল। নজিরবিহীন হয়রানি ও মামলা দিয়ে ক্লান্ত হননি মামলাবাজ চক্র। ওই চক্রটি এবার মল নিক্ষেপের মতো আরও ভয়ানক পরিস্থিতির দিকে ঝুকছে। এদিকে ৬ শতক পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বারবাকিয়া ইউনিয়নের পাহাড়িয়াখালী গ্রামে স্থানীয় দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ প্রকট আকার ধারণ করেছে। জায়গা থেকে শত বছর ধরে বসবাসরত পরিবারকে উচ্ছেদ করতে চলছে কাল্পনিক ঘটনায় মিথ্যা মামলা দায়েরের ছড়াছড়ি। জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার বৈঠক করেছে। জায়গা স্থিতি নির্ধারণসহ পরিমাপ হয়েছে। এরপরও ১২ শতকের আয়তন বিশিষ্ট একটি পুরানো বসতভিটা থেকে ৪ টি পরিবারকে উচ্ছেদ পাঁয়তারা করছে। বসতভিটার বিরোধ নিয়ে ৩ টি মামলা হয়েছে। এ সব মামলা করেছে একপক্ষ। অপরপক্ষ শুধুমাত্র হয়রানির শিকার। তারা মামলা মোকদ্দমার দিকে না গিয়ে পৈত্রিক সম্পত্তি থাকা একমাত্র মাথাগোজার ঠাইটুকু রক্ষার সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করেছে।
স্থানীয় সুত্র জানায়, বারবাকিয়ায় পাহাড়িয়াখালীতে ৬ শতক জায়গা নিয়ে মৃত নুরুল ইসলামের পুত্র ফরিদুল আলম গং ও মৃত ছৈয়দুল আলমের পুত্র মোহাম্মদ মানিক গংদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। জায়গার রেকর্ডীয় মালিক নুরুল ইসলাম মারা যান। তার দুই স্ত্রী ছিল। দুই স্ত্রীর সংসারে ১২ জন ওয়ারিশ আছে। দ্বিতীয় স্ত্রী খালেদা বেগমের ছেলে সন্তান ফরিদুল আলম গং ও ১ম স্ত্রীর সন্তান মৃত ছৈয়দুল আলমের পুত্র মানিক গংদের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছে। দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে ফরিদুল আলম গং ৪ টি বসতবাড়ি আছে। মানিক গংদের বসতবাড়িও পৃথকভাবে আছে। এ দিকে ৬ শতক জায়গা থেকে ফরিদুল আলমসহ তার ৪ ভাইকে উচ্ছেদ করতে পেশীশক্তির মহড়াও দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে বাকবিতন্ডা হয়েছে। এ সব বিরোধকে কেন্দ্র করে মানিক গং ফরিদুল আলম গংদের বিরুদ্ধে ৩ টি মামলা করে। এ সব মামলায় আসামী হয়েছে ফরিদুল আলম গংদের নারী-পুরুষ। মামলায় জেলেও যেতে হয়েছে। সম্প্রতি বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ পাঁয়তারা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর জের ধরে মানিক ও তার অনুগত লোকজন রাতে এসে আতংক ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। এমনকি ফরিদুল আলমসহ তার ৪ ভাইয়ের পৃথক বসতবাড়িতে ছোড়ানো হচ্ছে মল। পয়:প্রণালী ও নিক্ষেপ করা মলের দুর্গন্ধে ৪ টি বাড়িতে বসবাস করা দুষ্কর হচ্ছে। মলের উৎকট দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশেও। ফরিদুল আলম জানান, নজিরবিহীন হয়রানি চলছে। তারা মামলাবাজ। মানিক নিজের মাকে আঘাত করেছে। হাসপাতালে ভর্তি করে মামলা দিয়েছে আমাদের বিরুদ্ধে। আমার ১৬ বছর বয়সী ছেলে, স্ত্রীকেও আসামী করা হয়। আমার দুই ভাইয়ের স্ত্রীদেরকেও মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। একভাই থাকে চট্টগ্রাম শহরে। সে বিয়ে করেছে। ভাইয়ের নববধূকেও আসামী করে। আরো মামলা দিবে এমন ভয়ে ভাইয়ের স্ত্রী স্বামীর সংসার থেকে বাপের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। ফরিদুল আলমের স্ত্রী রোজিনা আক্তার জানান, মানিক লোকজন নিয়ে এসে বাড়ি ভাংচুর করেছে একাধিকবার। ল্যাট্টিনে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। একটি ল্যাট্টিন গুড়িয়ে দেয়। এখন আমাদের প্র¯্রাব পায়খানায় যাওয়া বন্ধ। কিছু বললে মামলা দেয়। মামলার ভয়ে আমরা সহ্য করে আছি। ১ম স্ত্রীর ছেলে মনজুর আলম জানান, ফরিদ, রিদুওয়ানসহ তারা হচ্ছেন আমাদের সৎ ভাই। মানিকের পিতা ছৈয়দুল আলম আমার ছোট ভাই। আমি এখানে এসে সৎভাইদের পক্ষে এসে বক্তব্য দিচ্ছি। মানিকের অত্যাচার সহ্য হওয়ার মতো নয়। ফরিদ ও তার ৪ ভাইকে চরমভাবে হয়রানি করছে। আমি অনেকবার নিষেধ করেছি। এরপর আমাকেও মামলা দিয়েছে। এ বিষয়ে মোহাম্মদ মানিক কাগজপত্রমূলে ফরিদ গং জায়গা পাবেনা বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।
Leave a Reply