পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়াসহ উপকূলের দুর্ধর্ষ মানবপাচারকারী রাজাখালী ইউনিয়নের সুন্দরীপাড়ার বাসিন্দা ইদ্রিসের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে প্রতারিত হওয়া লোকজন। ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। অপরদিকে ওই মানবপাচারকারীর খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত হয়েছেন বহু মানুষ। স্বপ্নের দেশ ইতালীতে পাঠানোর কথা বলে শত শত মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে বিপুল অর্থ। তার মানবপাচারের শিকার বহু মানুষ লিবিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে মানবেতর জীবনযাপন করার তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সাগরপথে ইটালীতে পৌছানোর প্রলোভনে পড়ে অনেকে লিবিয়াতে আটক রয়েছে।
সেখানকার শক্তিশালী মানবপাচারকারী সিন্ডিকেটের সাথে রাজাখালীর ইদ্রিসের রয়েছে সখ্যতা। প্রথম দিকে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকায় ইউরোপে পাঠাবেন এমন প্রতিশ্রæতি দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় লিবিয়াতে নিয়ে গিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ও মানবপাচারচক্রের কাছে রাখা হয় বিদেশগামী লোকজনকে। এরপর সেখানে আটকিয়ে টাকার জন্য চালানো হয় অমানসিক নির্যাতন। মুক্তিপণের জন্য এ নির্যাতন অধিক তীব্রতর হয়ে থাকে। এ দিকে ইদ্রিসের পাঠানো লোকজনের মধ্যে অনেকের হদিস মিলছে না। সম্প্রতি এ নিয়ে পেকুয়াসহ উপকুলে উদ্বেগ বেড়েছে। ইদ্রিসের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়া লোকগুলোর মধ্যে বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণপুইছড়িতে বেড়েছে উৎকন্ঠা।
পুঁইছড়ির স্থানীয়রা এ নিয়ে মানবপাচারকারী ইদ্রিসের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছে। এ দিকে বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) চট্টগ্রামের বাঁশখালীর দক্ষিণ পুঁইছড়িতে প্রতারিত লোকজন সংবাদ সম্মেলন আহবান করেন। দক্ষিণ পুঁইছড়ি সাইয়ারপাড়া এবিসি সড়কের সীমান্তব্রীজ সংলগ্ন একটি বাড়িতে বিকেলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় লিখিত বক্তব্যে দক্ষিণ পুঁইছড়ির কোনারপাড়ার রহমত উল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ আলম ও একই এলাকার মোস্তাক আহমদের পুত্র সিএনজি চালক শফিউল্লাহ বলেন, ৪ মাস আগে আমরা ইদ্রিসকে টাকা দিয়েছি। এক মাসের মধ্যে ইটালীতে পাঠানোর কথা বলে তিনি টাকা নেন। ইদ্রিস পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ সুন্দরীপাড়ার বাসিন্দা। তার শ্বাশুড় বাড়ী আমাদের এখানে। ৬/৭ বছর ধরে ইদ্রিস মানবপাচারের সাথে জড়িত। সাইয়ারপাড়া, হাছিয়ারপাড়া, নুরাবরপাড়া, মওলারপাড়াসহ দক্ষিণ পুইছড়ি থেকে অনেক মানুষ তার মাধ্যমে বিদেশ গেছে। আমরাও তাকে বিশ্বাস করে টাকা দিয়েছি। কিন্তু আমাদেরকে বিদেশ না নিয়ে প্রতারণা করছিল।
মোস্তাক আহমদের পুত্র জয়নাল, জগুনাবর ছেলে কালু, সাইয়র পাড়ার দুলা মিয়ার দুই পুত্র জালাল, হেলাল, নুরুচ্ছফার পুত্র ইলিয়াছ, শাহ আলমের পুত্র মোজাহিদ, আবদুল হাকিম, আবদুল হাকিমের পুত্র মিনহাজ, নজু সওদাগরের পুত্র জয়নালসহ আরো অনেকে লিবিয়াতে গিয়ে জিম্মী দশায় ছিল। এরা ইদ্রিসের মাধ্যমে গেছে। এখন অনেকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ইদ্রিসের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত আছে। লোকজন কিভাবে বিদেশ যাচ্ছে তার মাধ্যমে এ সংক্রান্ত আলাপচারিতা মুঠোফোনে হয়েছে। ইদ্রিস বলেছে, তার মাধ্যমে অনেক লোক ইটালীতে গেছে। বাংলাদেশ থেকে ইটালী পর্যন্ত বিমানে যাবে। এরপর সাগরপাড়ি দিয়ে ইটালীতে যাবে। স্থানীয় ইসকান্দর জানান, ইদ্রিস পেকুয়াসহ উপকুলের শীর্ষ ও দুর্ধর্ষ মানবপাচারকারী। ২ বছর আগে ইদ্রিসকে নাপোড়ার স্থানীয়রা আটকিয়েছিল। লিবিয়াতে স্বজনদের আটকিয়ে টাকা নেওয়ার এ তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয়রা ইদ্রিসের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছিল। তার দুই ছেলে পারভেজ ও রুমান সাগরপথে লিবিয়া থেকে ইউরোপে গেছে। ছেলেদের সিন্ডিকেট আছে লিবিয়াতে। রাকিব নামক ছাত্রলীগ নেতা জানান, ইদ্রিস অনেক মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে। এখান থেকে মানুষ পাঠিয়ে লিবিয়াতে ইদ্রিসের সিন্ডিকেট মুক্তিপণ নিয়েছে। আমরা তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা চাই। রাকিব আরো জানান, সাগরপথে ইউরোপ যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকি।
ভূমধ্যসাগরে শত শত মানুষের সলিল সমাধি ঘটেছে। সারা বিশ্ব এ নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন। মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে পৃথিবীর কোন রাষ্ট্র ছাড় দিচ্ছে না। বাংলাদেশ সরকারও এ নিয়ে কঠিন অবস্থায়। আমরা চাই ইদ্রিসসহ যারা এ অকর্মের সাথে জড়িত এদেরকে আইনের আওতায় আনা হউক। এ ব্যাপারে পেকুয়ার রাজাখালী ইউনিয়নের সুন্দরীপাড়ার বাসিন্দা ইদ্রিস জানান, আমার দুই ছেলে ইটালীতে আছে। আমি একজন গরীব মানুষ। আমাকে তারা জিম্মী করে টাকা নিয়েছে। আমি মানবপাচারের সাথে জড়িত নই।
Leave a Reply