পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের চকরিয়ায় বরইতলী ইউনিয়নের পহরচাঁদা ফাজিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ নেই। ঝুলন্ত আছে প্রতিষ্ঠান প্রধানের এ গুরুত্বপূর্ণ পদটি। অপরদিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে নিয়ে দেখা দিয়েছে বিতর্ক। শুন্যপদে নিয়োগের জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া চুড়ান্ত ছিল। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তবে শূন্যপদের নিয়োগ নিয়ে অচলাবস্থা তৈরী হয়েছে। প্রবিধানে বলা আছে শুন্যপদটি ৩ মাসের মধ্যে পূরণ করতে হবে। নীতিমালাতে এ শর্তাবলী আরোপ থাকলেও কাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হচ্ছেনা পহরচাঁদা ফাজিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে। এতে করে ঐতিহ্যবাহী ওই প্রতিষ্টানে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। তবে এ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। গভর্ণিং বডি ও অভিভাবকদের একটি অংশ থেকে বলা হয়েছে নীতিমালা অনুসৃত না করে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জিএম সাইফুল হক স্বপদে বহাল আছেন। মাদ্রাসার সর্বোচ্চ এ পদটি ধরে রাখতে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কৌশলে ঝুলন্ত রাখা হয়েছে। ওই পদে তিনি নিজেও একজন আগ্রহী প্রার্থী। প্রশ্ন উঠেছে, নীতিমালার আলোকে অধ্যক্ষপদে প্রার্থী হওয়ার পূর্বে স্বপদে থাকা পদবী থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। এ দিকে চলতি বছরের ১১ আগষ্ট পহরচাঁদা ফাজিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। শুন্যপদে নিয়োগের জন্য নিয়োগ কমিটিও চুড়ান্ত ছিল। অপর একটি সুত্র থেকে জানা গেছে, পহরচাঁদা ফাজিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ পদবী নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি রীটি পিটিশন দায়ের করা হয়। মহামান্য হাইকোর্ট রীটের প্রেক্ষিতে রুল জারি করে। রীট আবেদনের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ আবু সাইদ আনসারী উচ্চ আদালতে লিভ টু আপীল করেন। এ দিকে নিয়োগ প্রক্রিয়া চুড়ান্ত হওয়ার পরেও ওই মাদ্রাসায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু সাইদ আনসারী অবসরে যান। ১ ফেব্রæয়ারী জিএম সাইফুল হককে ওই পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। নীতিমালায় বলা হয়েছে ৩ মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের শুন্যপদে নিয়োগ দিতে হবে। জিএম সাইফুল হক নীতিমালার এ অনুসরণকে তোয়াক্কা না করে নির্দিষ্ট সময়ের অনেকদিন পরেই নিয়োগের প্রক্রিয়া করেন। চলতি বছরের ২৭ আগষ্ট পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে জিএম সাইফুল হকের দায়িত্বকালীন সময় নির্দিষ্ট ছিল। অভিযোগ উঠেছে, তার মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩ মাস অতিবাহিত হয়েছে। অথচ তিনি এখনো ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ ক্ষেত্রে নীতিমালার সুষ্পষ্ট লংঘন বলে অভিভাবক ও গভর্ণিং বডির কয়েকজন সদস্য অভিযোগ করেন। গভর্ণিং বডির সদস্য বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার বলেন, ভারপ্রাপ্ত পদ নিয়ে প্রশ্ন আছে। যেহেতু অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে। এরপরও ভারপ্রাপ্ত থাকাটা নীতিমালার সাথে সাংঘর্ষিক। প্রতিষ্ঠান প্রধান না থাকলে সমস্যাতো থাকবে। আমরা চাই শূন্যপদটি দ্রæত সময়ে পূরণ করা হউক। পহরচাঁদা ফাজিল মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক মুফতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ মাদ্রাসায় ১৩৮৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া চুড়ান্তকরনের ক্ষেত্রে আইনী কিছু জটিলতা আছে। আমরা আশা করছি দ্রæত সময়ে এ সব নিরসন হবে। মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জিএম সাইফুল হক জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়া চুড়ান্ত ছিল। বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে। উচ্চ আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন। তিনি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্বে বহাল আছেন কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে জিএম সাইফুল হক ওই প্রশ্ন এড়িয়ে যান এবং দ্রæত তার মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এ ব্যাপারে পহরচাঁদা ফাজিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) তাপ্তি চাকমা বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনো চুড়ান্ত হয়নি। অধ্যক্ষ পদ নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলন্ত রয়েছে।
Leave a Reply