এ এম ওমর আলী:
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা বনবিটের একটি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা নিয়ে লোকমূখে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সোমবার দুপুরে কক্সবাজার বনবিভাগের ফাসিয়াখালী রেঞ্জের ডুলাহাজারা রিংডং মৌজার রিজার্ভ বনভূমি এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করেন রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহরাজ উদ্দীনের নেতৃত্বে বনবিভাগের লোকজন। অভিযানে দাবী করা হয় রির্জাভ বনের ওই এলাকা থেকে একটি নতুন বসতি (ঘর) ও প্রায় ২ হেক্টর বনভূমির জায়গার ঘেড়াবেড়া উচ্ছেদ করা হয়েছে। ফাসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহরাজ উদ্দীন সাংবাদিকদের
বলেন, কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয়
বনকর্মকর্তার (ডিএফও) নির্দেশনা পেয়ে রেঞ্জাধীন ডুলাহাজারা বিটের রিংভং মৌজার রির্জাভ বন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জনৈক গিয়াস উদ্দিন কর্তৃক নির্মিত একটি নতুন
ঘর (বসতি) ভেঙে দিয়ে দুই হেক্টর বনভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী শাররীক প্রতিবন্ধী
চকরিয়া মালুমঘাট এলাকার বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন বনবিভাগের উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে দাবি করেছেন,
ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, গত আগস্ট মাসে বনবিভাগের স্থানীয় বিতর্কিত হেডম্যান দলিল আহমদ এর বিরুদ্ধে বনভূমি জবরদখল ও স্ট্যাম্পমুলে
বিক্রিতে জড়িত জানিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিভাগীয় বনকর্মকর্তার (ডিএফও)
দপ্তরে। এরই প্রেক্ষিতে ডিএফও অভিযোগটি তদন্তের নির্দেশ দেন সহকারী বনসংরক্ষককে(এসিএফ)। পরে তদন্তে অভিযোগ সত্যতা পেয়ে
প্রতিবেদন জমা দিলে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ডিএফও আনোয়ার হোসেন সরকার
গত ১৬ নভেম্বর অফিস আদেশ মতে হেডম্যান দলিল আহমদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন। এর জেরেই উল্টো প্রতিবন্ধী গিয়াসউদ্দিনের কুড়ে ঘরটি গুড়িয়ে দেয়। স্থানীয় লোকজনের খভিযোগ, কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগে কত হাজার একর জমি প্রভাবশালী লোকজনের দখলে তা বন বিভাগের সঠিক নির্ণয়ে আছে কিনা সন্দেহ। এছাড়া অবৈধ বসতি কত হাজার হবে তাও সঠিক নির্ণয় করা আছে কিনা প্রশ্নবোধক। এত লোকের অবৈধ দখলে থাকা বনভুমি উদ্ধার না করে কেবল প্রতিবন্ধী গিয়াসউদ্দিনের কুড়ে ঘরের উপর বনবিভাগের কু-নজর পড়লো কেন। এছাড়া হাজার হাজার অবৈধ বসতি উচ্ছেদ না করে শুধু এই অসহায় লোকের উপর কেন অভিযান। দুর্বলের উপর বনবিভাগের কথিত সফল অভিযান পরিচালনা করার খবরে বনের শেয়ালও নাকি হেসেছে! সচেতন মহলের দাবী-কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগে সড়কের নিকট কিছু গাছ ছাড়া বনে গাছ নেই বললে চলে। বৈধ-অবৈধ কাঠের গাড়ি, আসবাপত্রের গাড়ি ও অবৈধভাবে বনভুমি জবরদখল করে বসতি নির্মান করে থাকা লোক জনের কাছ থেকে মাসিক-সাপ্তাহিক মাসোহারা আদায় করাই হলো পরীক্ষণ ফাঁড়িগুলোর কাজ। বনবিভাগের এ ধরনের পরীক্ষণ ফাড়িঁ কালের বিবর্তনে এখন বিলুপ্ত করা প্রয়োজন মনে করেন সচেতন মহল।
Leave a Reply