পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়া সদর ইউনিয়নের চৌমুহনীতে গভীর রাতেই ৬ টি দোকান ঘর গুড়িয়ে দিল দুবৃর্ত্তরা। কোটি টাকা মূল্যমানের জায়গা নিয়ে স্থানীয় দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি ওই স্থানে ৬ টি দোকান ঘরসহ স্থাপনা নির্মিত হয়েছে। ১৯ ডিসেম্বর ভোর ৪ টার দিকে কলেজ গেইট চৌমুহনীতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, সদর ইউনিয়নের কলেজ গেইট চৌমুহনীতে জায়গা নিয়ে বাঁশখালী পুঁইছড়ির রেজাউল আজিমের স্ত্রী মেহেরুন্নেছা ও পেকুয়া চৌমুহনী জমিদারবাড়ীর নাজেম উদ্দিন চৌধুরীর পুত্র আমিন ইনতিয়াজ চৌধুরী বিপ্লব গংদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। জায়গাটি চৌমুহনীর পশ্চিম পাশে ক্রেমলিন মার্কেটের নিকটে বনৌজা শেখ হাসিনা সড়কের লাগোয়া। এটি মকবুল আহমদ চৌধুরী জমিদার বাড়ির রেকর্ডীয় অংশ। এ জায়গাটি জমিদার বাড়ির মৃত নুরুল হক চৌধুরীর পুত্র সরফরাজ আল নেওয়াজ চৌধুরী, মৃত ছৈয়দুল হক চৌধুরীর পুত্র সাহাব উদ্দিন চৌধুরী গংদের পৈত্রিক সুত্রে প্রাপ্ত অংশ। শত বছর ধরে এ জায়গাটি তারাই ভোগ করছিলেন। সরফরাজ আল নেওয়াজ চৌধুরী গংদের পক্ষে সম্প্রতি ওই স্থানে ৬ টি দোকানঘর নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হয়। আমিন ইনতিয়াজ চৌধুরী বিপ্লব ওই কাজের তদারকি ও দেখভাল করছিলেন।
গত ১ মাস পূর্বে ওই স্থানে টিনের ছালাসহ গাছের খুটি দিয়ে ৬ টি দোকানঘর তৈরী করে। এ দিকে ঘটনার দিন ভোর ৪ টার দিকে একদল অস্ত্রধারী দুবৃর্ত্তরা সদ্য নির্মিত ওই দোকানঘরে অনুপ্রবেশ করে। তারা অভিনব কায়দায় গাছের খুঁটি কেটে দিয়ে দোকানঘরগুলি মাটিতে ফেলে। এ ব্যাপারে পেকুয়া থানায় পূর্বে মেহেরুন্নেছা বাদী হয়ে অভিযোগ পৌছান। পেকুয়া থানা পুলিশ এ নিয়ে বৈঠকও করেন। তবে মেহেরুন্নেছা নিজেই থানায় বৈঠক না করে পারিবারিকভাবে নিষ্পত্তির জন্য আগ্রহী ছিলেন। এর প্রেক্ষিতে মেহেরুন্নেছা ও বিপ্লবের নিকট আত্মীয়দের মাধ্যমে নিষ্পত্তির কথা চুড়ান্ত হয়। এমনকি ঘটনার একদিন পর পারিবারিকভাবে বৈঠকের দিনক্ষণ ঠিক ছিল। আমিন ইনতিয়াজ চৌধুরী বিপ্লব জানান, এ জায়গায় মেহেরুন্নেছার কোন যৌক্তিক স্বত্ত নেই। এটি আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। নি:স্বত্তবান ব্যক্তিদের কাছ থেকে অগ্রহণযোগ্য দলিল নিয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়েছে। মেহেরুন্নেছার অনুগত জাফর আহমদের পুত্র নাজেম উদ্দিন, বজল আহমদের পুত্র নাজেম উদ্দিনসহ ১৫/২০ জনের দুবৃর্ত্তরা রাতে গিয়ে দোকানঘর ভাংচুর করে। এ ব্যাপারে পেকুয়া জমিদারবাড়ির সন্তান মকবুল আহমদ চৌধুরী ওয়াকফ সম্পত্তির মোতোয়াল্লী সরফরাজ আল নেওয়াজ চৌধুরী জানান, মেহেরুন্নেছা নিজেই থানা থেকে বিচারটি নিয়ে আসে। আমরা ফায়সালাকারী ছিলাম। কাগজপত্র দিতে বলেছিলাম। দিবেন না বলে জবাব দেন। বৈঠকের কথা ছিল। না এসে কান্ড করেছে। এ জায়গাটি আমাদের ১শ বছরের দখলীয় জায়গা। এ ব্যাপারে জানতে মুঠোফোনে মেহেরুন্নেছার সাথে যোগাযোগ করা হয়। পরে কথা বলবেন এমন বলে তিনি মুঠোফোন কেটে দেন। পেকুয়া থানার এস,আই শফিউল করিম জানান, পারিবারিকভাবে মিটমাট করার কথা ছিল। দোকান ভাংচুরের বিষয়টি শুনেছি। তারা যদি আইনের সহযোগিতা চান পুলিশ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তপক্ষকে সহায়তা করবে।
Leave a Reply