বিজন কুমার বিশ্বাস, কক্সবাজার:
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বিরতিহীন ট্রেন ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ এর টিকিট প্রতিনিয়ত কালোবাজারি হওয়ার অভিযোগে আদালতের দায়ের করা স্ব-প্রণোদিত মামলা র্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটালিয়ান (র্যাব) তদন্ত করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।
গত মঙ্গলবার ২৬ ডিসেম্বর দুপুরে কক্সবাজার আইকনিক রেল স্টেশনে গিয়ে সরেজমিন প্রাথমিক তদন্ত কাজ শুরু করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তদন্তের নেতৃত্ব দেয়া কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সালাম চৌধুরী প্রতিনিধিকে বলেন, ট্রেনটি এ অঞ্চলের মানুষের আবেগ ও স্বপ্ন। এখন এই স্বপ্ন নিয়ে খেলছে কিছু দুষ্কৃতকারী কালোবাজারির দল। তদন্তকারী দল সরেজমিন তদন্ত শুরু করেছেন। কালোবাজারিতে যারাই জড়িত থাকুক তাদের সম্পৃক্ততার তথ্যসহ আদালতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও বলেন, শুধু কালোবাজারি নয়, সারাদেশে রেল লাইনে যে নাশকতা চলছে তার প্রভাব কক্সবাজারে এখনও পড়েনি, আশা করছি ভবিষ্যতে যাতে না ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখছি। স্টেশনের যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্ক দৃষ্টি থাকবো।
আগামী ১ জানুয়ারির মধ্যে আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানান আবু সালাম চৌধুরী।
গত ১৭ ডিসেম্বর কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত-১ এর বিচারক শ্রীজ্ঞান তঞ্চঙ্গ্যা কালোবাজারি দমনে জনস্বার্থে মামলা দায়ের করেন।
মামলার আবেদনে বলা হয়, কক্সবাজার এক্সপ্রেসের টিকিট কালোবাজারি হচ্ছে বলে সম্প্রতি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদে বলা হয়েছে- একটি কালোবাজারি সিন্ডিকেট টিকিট বাগিয়ে নেওয়ার জন্য সাধারণ যাত্রী ভোগান্তিতে পড়ছেন। যা ফৌজদারি কার্যবিধিতে আমলযোগ্য। বিষয়টি নিয়ে কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত স্বপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে র্যাব-১৫কে তদন্তের নির্দেশ দেন। টিকিট কালোবাজারি হচ্ছে কিনা তদন্ত করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
গত ১১ নভেম্বর কক্সবাজার এক্সপ্রেসের উদ্বোধন হলেও বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু করে ১ ডিসেম্বর থেকে। প্রথম দিন থেকেই এই ট্রেনের টিকিটের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী টিকিট না পাওয়া যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগ উঠেছে অনলাইন ও কাউন্টারে টিকিট পাওয়া না গেলেও কালোবাজারে বেশি দামে টিকিট বিক্রি হচ্ছে।
Leave a Reply