পেকুয়া প্রতিনিধি :
কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলায় ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে এক ব্যাংক কর্মকার্তাকে হাতুড়িপেটা করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যাংক কর্মকার্তাকে হাতুড়িপেটা করার তার বড় ভাইয়ের বসতঘরে ব্যাপক লুটতরাজ ও ভাংচুর করা হয়েছে। খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। গুরুতর আহত ব্যাংক কর্মকার্তাকে পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে, গতকাল ২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭ঘটিকার দিকে উপজেলার পেকুয়া বাজার মিয়ার বাড়ির জামে মসজিদের সামনে। গুরুতর আহত ব্যাংক কর্মকর্তার নাম এস এম ইখতিয়ার উদ্দিন। তিনি উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের শরৎঘোনা গ্রামের মৃত আবু সাঈদের ছেলে এবং ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রিন্সিপাল অফিসার পদে কর্মরত রয়েছে। এ ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী মোছাম্মৎ রহিমা খানম বাদী পেকুয়া থানায় আজ ২৭ ডিসেম্বর সকালে হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাকে প্রধান আসামী করে একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
পেকুয়া থানায় দায়েরকৃত লিখিত এজাহারে ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী দাবি করেছেন, তার স্বামী গতকাল ২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পেকুয়া চৌমুহনী থেকে বাড়ী ফেরার পথে পেকুয়া বাজারস্থ মিয়ার বাড়ি জামে মসজিদ এর রাস্তার সামনে পৌঁছানো মাত্র পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা পেকুয়া কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও একই এলাকার এছারুল হকের পুত্র মাইন উদ্দিন (২৪) এর নেতৃত্বে মোঃ আক্কাস (২২), এছারুল হক, (৪৭), নেজাম উদ্দিন (২০), মোজাম্মেল হক (৪৩), নেছারুল হক (৪০), আবু বক্কর (২০) সহ আরো অজ্ঞাত নামা ১০-১২ জনের নেতৃত্বে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এসময় তার স্বামী ব্যাংক কর্মকর্তাকে হাতুড়িপেটা করে গুরুতর আহত করা হয়। এসময় ছাত্রলীগ নেতা মাঈন উদ্দিন তার স্বামীর কাছ থেকে ২লাখও টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে বাজারের পথচারী লোকজন এগিয়ে তার স্বামীকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এদিকে ব্যাংক কর্মকর্তাকে হাতুড়িপেটার ১ঘন্টা পর ছাত্রলীগ নেতা মাঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে ১০-১২ জন লোক মগনামা শরৎঘোনা গ্রামে ব্যাংক কর্মকর্তার বড় ভাই ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারান সম্পাদক এস,এম, জাকের হোছাইনের বসতঘরের দরজা, জানালা ভাংচুর ও ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছে। বসতঘরে ভাংচুর ও লুটপাটের সংবাদ পেয়ে পেকুয়া থানার এসআই ইব্রাহিম পাশার নেতৃত্বে একদল পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল যায়। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছার পূর্বেই হামলাকারী ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে।
পেকুয়া থানার এসআই ইব্রাহিম পাশা জানান, খবর পেয়ে ব্যাংক কর্মকার্তার ভাইয়ের বাড়িতে সরেজমিনে যাই। পুলিশ যাওয়ার পূর্বেই হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
ব্যাংক কর্মকার্তার বড় ভাই ও মগনামা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারান সম্পাদক এস এস জাকের হোছাইন অভিযোগ করেছেন, হামলাকারীরা আমার বসতঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর, বসতঘরে থাকা নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, টিভি, কাপড়-চোপড়, আলমিরায় থাকা নগদ তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা ও তিন লক্ষ বিশ হাজার টাকা মূল্যেওর চার ভরি স্বর্ণালংকার, জমির দলিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে পেকুয়া কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাঈন উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জায়গা জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ব্যাংক কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিনের নেতৃত্বে আমার চাচা মোজাম্মেল হককে মারধর করে মুখের তিনটি দাঁত উপড়ে ফেল হয়েছে। তবে, তার বাড়িঘরে কোন ধরনের লুটচপাট করা হয়নি। আমার এক ফুফাতো ভাই ব্যাংক কর্মকর্তার ভাইয়ের বসতঘরে জানালা ভাংচুর করেছে বলে ছাত্রলীগ নেতা স্বীকার করেছেন।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: ইলিয়াছ জানান, আহত ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী বাদি হয়ে থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। তদন্ত করে মামলা নেওয়া হবে।
Leave a Reply