নিজস্ব প্রতিবেদক,পেকুয়া:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় ৫০ একর ধানি জমিতে তৈরী করা হচ্ছে লবণ মাঠ। বেআইনীভাবে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমতি ছাড়াই বসানো হয়েছে দুটি গভীর নলকূপ। তিন ফসলী জমিতে নলকূপ বসিয়ে একটি প্রভাবশালীচক্র ভূগর্ভস্থ লোনা পানির সাহায্যে উৎপাদন করবে লবণ। এতে করে স্থানীয় দুটি পক্ষ মুখোমুখি হয়েছে। লবণ মাঠ তৈরী ও এর প্রতিহত করতে কৃষক এবং অবৈধ কাজে জড়িত থাকাদের মধ্যে যে কোন মুহুর্তে মারপিটসহ রক্তক্ষয়ী সংর্ঘের আশংকা দেখা দিয়েছে। এ দিকে ১২৫ কানি জমি আসছে লবণ চাষের আওতায়। এ সব জমিতে কৃষক ধান উৎপাদন করে। রবি, আমন ও আউস মৌসুমে সন সন ফসল ফলান কৃষক। তবে সম্প্রতি মাটির উর্বরতা হ্রাস ঘটিয়ে ওই চক্র পেকুয়া সদর ইউনিয়নের স্কুলঘোনা নামক ধানি জমির বিলে লবণ মাঠ প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছে। শ্রেণি পরিবর্তন করে ধান উৎপাদনের ব্যাঘাত ঘটিয়ে ওই চক্র সেখানে লবণ উৎপাদনের কাজ অব্যাহত রাখে।
এ দিকে তিন ফসলী জমিতে লবণ মাঠ তৈরী না করতে বারণ করা হয়। গভীর নলকূপের মালিক সদর ইউনিয়নের জালিয়াখালীর নুরুল ইসলামের পুত্র জিয়াবুল করিম নামক ব্যক্তি এ সব না মেনে লবণ মাঠ তৈরীর কাজ অব্যাহত রাখে। স্কুলঘোনায় লবণ মাঠ তৈরীর কার্যক্রম বন্ধ রাখতে জমির মালিকপক্ষ পেকুয়ার ইউএনও ও পেকুয়া থানার ওসি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ রবিবার সকালে সদর ইউনিয়নের জালিয়াখালীর স্কুলঘোনা নামক বিল পরিদর্শন করেন। এ সময় পুলিশ লবণ মাঠ প্রস্তুতি না করতে বারণ করেন। স্থানীয়রা জানান, সদর ইউনিয়নের জালিয়াখালীর উত্তর পাশে স্কুলঘোনা নামক ধানি জমির বিলে প্রায় ৫০ একর জমিতে চলতি শুষ্ক মৌসুমে লবণ উৎপাদনের জন্য মাঠ প্রস্তুতির কাজ চলছে। জালিয়াখালীর নুরুল ইসলাম প্রকাশ নুরুর ছেলে জিয়াবুল করিম লবণ মাঠ তৈরী করছেন। ওই বিলে জিয়াবুল করিম দুটি গভীর নলকূপ স্থাপন করে। স্থানীয়রা জানান, ভূগর্ভস্থ লোনা পানির সেচ মাঠে সরবরাহ করা হবে। ওই পানি থেকে উৎপাদিত হবে লবণ। তবে জিয়াবুল ফসলী জমিতে গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য নেননি অনুমতি। এ ব্যাপারে সদর ইউনিয়নের বকসুচৌকিদারপাড়ার আবু ছৈয়দের পুত্র পেকুয়া বাজারের ব্যবসায়ী শাহজাহান জানান, ওই বিলে আমাদের প্রায় ৭ একর জমি রয়েছে। শত বছর ধরে আমরা এ সব জমি থেকে ধান উৎপাদন করি। এ বিলের জমি খুবই উর্বর। তিন ফসলী জমি। আমি বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। জিয়াবুলকে নিষেধ করেছি। কিন্তু সে মারমুখী আচরণ করে। হুমকি ধমকি দিয়েছে আমাকে। তবে এ ব্যাপারে ফসলী জমিতে লবণ মাঠ প্রস্তুতির সাথে জড়িত জিয়াবুল করিম জানান, নলকূপ আমি বসিয়েছি। জমির মালিকরাই নিজদের জমিতে ধানের পরিবর্তে লবণ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি অনুমিত নিইনাই নলকূপ বসাতে। সদরের ১ নং ওয়ার্ড সদস্য নুরুল আজিম জানান, জিয়াবুল ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। কিন্তু আমার ১ নং ওয়ার্ডে এসে পরিবেশ বিধ্বংসী কাজ করছে। সদর ইউপির চেয়ারম্যান এম, বাহাদুর শাহ জানান, এটি ক্ষতিকারক উদ্যোগ। আমি মেম্বারকে পাঠিয়েছিলাম। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পেকুয়ার প্রকৌশলী জয় প্রকাশ চাকমা বলেন, ফসল উৎপাদনের জন্য আমরা নলকূপে অনুমোদন দিই। লবণ পানি উত্তোলনের জন্য কাউকে নলকূপের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। পেকুয়া থানার ওসি মো: ইলিয়াছ জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বেআইনী কাজে লিপ্ত থাকলে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। পেকুয়ার ইউএনও চাই থোয়াইহ্রলা চৌধুরী জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অবশ্যই জনস্বার্থ বিরোধী যে কোন কাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply