বিজন কুমার বিশ্বাস:
একটি দেশের উন্নয়নের পরিচয় সে দেশের ট্রাফিক ব্যবস্থা। শুধু তাই নয় ট্রাফিক শৃঙ্খলা একটি জাতির সভ্যতার প্রতীক এবং অত্যান্ত গুরুত্ব বহন করে দেশ ও জাতির উন্নয়নে। সড়কের বিশৃঙ্খলা কেড়ে নেয় মুমুর্ষ রোগীর জীবন, নষ্ট করে মুল্যবান সম্পদ ও সময়, বাধাগ্রস্থ হয় মুল্যবান শিক্ষা জীবনের গুরুত্বপূর্ন সময়। সবাই সচেতন ও আন্তরিক হলে ট্রাফিক বিভাগের সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব। সেই কাজটিই চকরিয়া ট্রাফিক পুলিশ সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দিনরাত কাজ করছে নিষ্ঠা ও দ্বায়িত্বের সাথে।ফল স্বরুপ কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) নির্বাচিত হয়েছেন চকরিয়া ট্রাফিক জোনের মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সরকার।
গত সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে জানুয়ারি মাসের ক্রাইম কনফারেন্সে তাকে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত করা হয়।ক্রাইম কনফারেন্সে শ্রেষ্ঠ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়। এ সময় তাকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়।জানা যায়, চকরিয়া সড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মানবিক পুলিশিং কার্যক্রম, জানজট নিয়ন্ত্রণে দক্ষতা ও পেশা দায়িত্বের অবদান রাখা, পথচারী , মালিক ও চালকদের মধ্যে সচেতনা মুলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ট্রাফিক পুলিশি সেবা সকলের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেওয়া সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভালো কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) হিসেবে তাকে নির্বাচিত করা হয় এবং শ্রেষ্ঠত্ব ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।এছাড়া চকরিয়া থানার ওসিকেও জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত করা হয়।
চকরিয়া শ্রমিকলীগের সভাপতি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ট্রাফিক আইন মানার কোনো বিকল্প নেই। আমরা দীর্ঘদিন ধরে মালিক-শ্রমিকদের সচেতন করতে কাজ করছি। অনেকে সচেতনতার বিষয়টি গভীরভাবে নিচ্ছে না বিধায় সড়কে দুর্ঘটনা ও জানজট সৃষ্টি হচ্ছে। যানজটের বড় সমস্যা সড়কে ধীর গতি ও গতিশীল গাড়ি একসঙ্গে চলাচল করে। প্রধান সড়কে অটো রিকশা, থ্রীহুইলার সহ অনুমোদনহীন যানবাহন চলতে না দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।তিনি আরো বলেন, সবাই আইন মানলে সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব। দীর্ঘদিনের আইন না মানার অনিয়ম এক দিনে ঠিক হবে না। তবে আমরা আশাবাদী সবাই আইন মানবে। সড়কের দুর্ঘটনারোধে চালকের পাশাপাশি পথচারীকেউ আইন মানতে হবে।
মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সরকার প্রতিনিধিকে বলেন, বিদেশের অনেক দেশে গাড়ির পরিবর্তে সাইকেল ব্যবহার করে। এতে যেমন যানজট হ্রাস পায়, তেমনি স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। বিদেশের মতো এ দেশেও সাইকেলের জন্য আলাদা লেন থাকা দরকার। এরপরও প্রতিনিয়ত সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলা, সাবধানে ড্রাইভ এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সচেতনতামূলক পরামর্শ দিচ্ছি। একদিন উন্নত বিশ্বের মত আমাদের দেশের মালিক, শ্রমিক, চালক ও যাত্রীরা সচেতন হবে বলে আমার বিশ্বাস। একদিন আমার এ প্রচেষ্টা আলোর মুখ দেখবে।
ক্রাইম কনফারেন্স ও সনদ প্রদান সভায় উপস্থিত ছিলেন- কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার সহ পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা বৃন্দ।
Leave a Reply