পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় রাজাখালীতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বরফ উৎপাদন করছে এশিয়া নামের একটি বরফকল। বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেল সংশ্লিষ্ট ছনুয়া নদীর ত্রিমোহনায় রাজাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ সুন্দরীপাড়ায় এ বরফকলটির অবস্থান। ২০০৭ সাল থেকে তারা অবৈধ উপায়ে তৈরী করছে বরফ। নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন কাগজপত্র। হিমবাহ সংরক্ষণ, বিপননে আছে নীতিমালা। বরফকলের যন্ত্রাংশ ক্রয়, মজুদ ও সংরক্ষণের জন্যও আছে সরকারের নির্দেশিকা। এ সব ছাড়াই সেখানকার এ বরফকলটিতে দীর্ঘ ১৭ বছর যাবৎ উৎপাদন কাজ অব্যাহত রেখেছে। আছে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি। বৈধ কোন লাইসেন্স বা কাগজপত্র না থাকলেও প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়নি বরফকলের মালিকপক্ষের। এতে করে সরকারের আইনী প্রয়োগ ও নীতিমালার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েও মানুষের মাঝে নানান ধরনের প্রশ্ন তৈরী হয়েছে।
অবৈধ প্রতিষ্ঠানসমুহে সারা দেশে অভিযান জোরদার আছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ সব বিষয়ে নিজস্ব উদ্যোগে নিয়ে থাকেন আইনগত পদক্ষেপ। এ ছাড়াও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটদের ভ্রাম্যমান আদালতও এ সব অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেসি অভিযান পরিচালনা করে। তবে পেকুয়ার রাজাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ সুন্দরীপাড়ায় এশিয়া বরফকলে দায়সারা ভাবে এ সব উৎপাদন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সরকারী বেড়িবাঁধের অংশের জায়গার উপর এ বরফকলটি। ছনুয়া নদীর চরে তারা বরফ সরবরাহ দিতে তৈরী করেছেন কাঠের তৈরী জেটি। এ জেটিটিও উপকুলীয় বনবিভাগকে ম্যানেজ করে তৈরী করে।
২০০৭ সালে বরফ উৎপাদন শুরু করে আনোয়ারুল্লাহ ভূইয়া নামক ব্যক্তি। ২০২২ সালে বরফকলটির স্বত্ত বিক্রি হয়। পূর্বের মালিক এর নামকরণ করেন আসিফ বরফকল। নতুন মালিক পূর্বের নামটি বিলুপ্ত করেন। তবে ট্রেড লাইসেন্স ও বিদ্যুত বিলে এখনো নাম আছে পূর্বের নাম আসিফ বরফকল হিসেবে। পল্লী বিদ্যুতের কয়েকলক্ষ টাকা বকেয়া আছে। বকেয়া পরিশোধের জন্য বিদ্যুত বিভাগ এ বরফকলের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপও নেন। জানা গেছে, সম্প্রতি ওই বরফকলের পরিধি আরো বাড়ানো হয়েছে। সাইন বোর্ড আছে আসিফ বরফকলের। কিন্তু বরফ বিক্রয় ও এ সংক্রান্ত কাগজে এখন নাম দেয়া হয়েছে এশিয়া বরফকল। নতুন করে বর্ধিত অংশে পূর্বের দ্বিগুণ বরফ উৎপাদন করছে এ প্রতিষ্ঠানটি। উৎপাদন ব্যবস্থা এখন আরো বেড়ে গেছে। বরফকলটির চারপাশে জনবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানে হাজার হাজার মানুষেরও বসতি। নেই কোন সুরক্ষা ব্যবস্থাও। এ ব্যাপারে বরফকলের ম্যানেজার মোহাম্মদ খোকন জানান, কাগজপত্র সব বৈধ আছে। আমার কাছে নেই, মালিকের কাছে আছে কাগজপত্র। মালিকের সাথে কথা বলা যাবেনা ।
Leave a Reply