পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় সদর ইউনিয়নের মইয়াদিয়ায় ১ একর ৯৬ শতক জায়গা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম উত্তেজনা। চিংড়ি ঘের ও বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে একটি প্রভাবশালী চক্র শক্তির মহড়া দিচ্ছে। এর জের ধরে পল্লী চিকিৎসক, তার স্ত্রীসহ একই পরিবারের ৪ জনকে প্রাণনাশ চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, সদর ইউনিয়নের মইয়াদিয়ায় ১ একর ৯৬ শতক জায়গা নিয়ে মইয়াদিয়ার মৃত আবদুল মজিদের পুত্র মোহাম্মদ নবী ও সিরাদিয়ার মৃত মোহাম্মদ শরীফের পুত্র শাহাব উদ্দিন গংদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। দীর্ঘ ৫০ বছর আগে মোহাম্মদ নবী মইয়াদিয়ায় বসবাস করছিলেন। ১৯৭৭-৭৮ সালের বন্দোবস্তীমূলে ১ একর ৩৮ শতক জায়গার মালিক তিনি। এ ছাড়াও ৪০ শতক জায়গা শাহাব উদ্দিনের পিতা মোহাম্মদ শরীফ থেকে ক্রয় করেন। ১০ শতক জায়গা মোহাম্মদ শরীফের ভাই ছৈয়দ মাস্টার থেকে খরিদ করেন। শাহাব উদ্দিনসহ তারা ৪ ভাই ৮ শতক জায়গা ননজুড়িসিয়াল স্ট্যাম্পমূলে মোহাম্মদ নবীকে বিক্রি করছিলেন। এ দিকে সম্প্রতি ওই জায়গা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তথ্য সুত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে সাহাব উদ্দিন গং ওই জায়গায় অনুপ্রবেশ চেষ্টা চালায়। সেই সময় হামলায় মোহাম্মদ নবীর স্ত্রী খতিজা বেগম, মেয়ে ইসমত জাহান ও রওশন আক্তারকে কুপিয়ে জখম করে। জখমী অবস্থায় মোহাম্মদ নবীর স্ত্রী খতিজা বেগম মারা যান। এ ঘটনায় সাহাব উদ্দিন গংদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়। এমনকি জখমী ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা হয়। বুধবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ৯ টার দিকে সাহাব উদ্দিন গং সেখানে ফের দখল তৎপরতা চালায়। এ সময় তারা ১৫-২০ জনের উত্তেজিত লোকজন মোহাম্মদ নবীর বাড়িতে হানা দেয়। এমনকি সেখানে জবর দখল চেষ্টা চালায়। এ সময় মোহাম্মদ নবীর পুত্র পল্লী চিকিৎসক মোহাম্মদ মানিক, মানিকের স্ত্রী কুলসুমা বেগম, মানিকের বোন রওশন আক্তার এর প্রতিবাদ করে। এক পর্যায়ে তারা বাড়িতে গিয়ে ধারালো কিরিচ দিয়ে প্রাণনাশ চেষ্টা চালায়। এ দিকে জবর দখল ও সন্ত্রাসী হামলা থেকে বাঁচতে প্রশাসনিক সহযোগিতার জন্য মোহাম্মদ নবী পেকুয়ার কর্মরত সাংবাদিকদের ডেকে প্রেস ব্রিফিং করেছেন। এ ব্যাপারে মোহাম্মদ নবী জানান, আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীন। ভিটা থেকে উচ্ছেদ পাঁয়তারা করছে। আমার বাড়ির পাশে একটি চিংড়ি ঘের আছে। সেটিও জবর দখল চেষ্টা করছে। সেই দিনের ঘটনায় আমরা ত্রিপল নাইনে ফোন দিয়েছিলাম। পেকুয়া থানার এস,আই সাইজুদ্দিনসহ পুলিশ এসে এ কান্ড দেখেছে। পুলিশ দেখতে পেয়ে তারা পালিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে পেকুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
Leave a Reply