পেকুয়া প্রতিনিধি :
কক্সবাজারের পেকুয়ায় সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা বাগগুজারা পয়েন্টে বেড়িবাঁধে চলছে মাটি ভরাট কাজ। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বান্দরবানের আওতাধীন ৬৪/২বি পোল্ডারের বাগগুজারা পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরু হওয়ার আগেই পাউবো ওই স্থানের বেড়িবাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। শুরু হয়েছে বেড়িবাঁধে পুন:সংস্কারকাজ। ঝুঁকিপূর্ণ থাকা বেড়িবাঁধে চলছে মাটি ভরাট কাজ। জরুরী বরাদ্ধ থেকে পাউবো ওই সংষ্কারকাজ বাস্তবায়ন করছে। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের অনুন্নয়ন (রাজস্ব) খাত থেকে ২৭ লক্ষ টাকা বেড়িবাঁধ সংষ্কারে বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। আয়েশা কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওই কাজের কার্যাদেশ পান। গত ১ সপ্তাহ আগে থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সদর ইউনিয়নের বাগগুজারা পয়েন্টে সংষ্কার কাজ শুরু করে। মাতামুহুরী নদীর রাবার ড্যামের ব্রীজ থেকে উত্তর পূর্বদিকের বেড়িবাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে পুন:সংষ্কারকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মাতামুহুরীর শাখা নদী ভোলা খালের প্রতিরক্ষা বাঁধে মাটি ভরাট কাজ চলমান রয়েছে। ওই অংশে এ বরাদ্ধ থেকে ৫৩০ মিটার বেড়িবাঁধে মাটি ভরাট চলছে। স্থানীয় সুত্রে জানান, গেল ২০২৩ সালে বাগগুজারা পয়েন্টে বেড়িবাঁধ বিলীন হয়। প্রচন্ড বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানি মাতামুহুরী নদীতে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। স্রোতের পানির ধাক্কায় সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা পয়েন্টের ওই স্থানে বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়। মাতামুহুরী নদীর পানি প্রবেশ করে লোকালয়ে। ফলে পেকুয়া সদর ইউনিয়নসহ শিলখালী, বারবাকিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। পাউবোর দায়িত্বশীল সুত্র থেকে জানা গেছে, চলতি বর্ষা মৌসুমের আগেই বাগগুজারা পয়েন্টে অধিক ঝুঁকিতে থাকা বেড়িবাঁধের অংশ চিহ্নিত করা হয়। সরকারের অনুন্নয়ন খাতের অর্থ থেকে পাউবোর জরুরী বরাদ্ধ দিয়ে বেড়িবাঁধের এ অংশে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মেহেরনামার লোকজন জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শাহেদুল ইসলাম বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য তৎপর ছিলেন। মেহেরনামার ওই অংশটি সদরের ৮ নং ওয়ার্ড। গেল বর্ষায় বেড়িবাঁধের বিলীন অংশ দিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। ঝুঁকিপূর্ণ এ অংশ শাহেদুল ইসলাম মেম্বারের ওয়ার্ডের সীমারেখায়। বেড়িবাঁধ সংষ্কারের জন্য শাহেদ মেম্বার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন। এমনকি পাউবো শাহেদ মেম্বারের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ওই স্থানে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি টীমও পাঠান। এরপর শুরু হয়েছে বেড়িবাঁধের সংষ্কার কাজ। এ ব্যাপারে পাউবোর বান্দরবানের শাখা কর্মকর্তা মো: জমির হোসেন জানান, ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের জরুরী বরাদ্ধ থেকে আমরা বেড়িবাঁধের এ অংশের কাজ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। বেড়িবাঁধের এ অংশটি ঝুঁকিতে থাকে। খরস্রোতা মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে থাকে। এ সময় বেড়িবাঁধ বিলীন হয়। বিলীন অংশের পানিতে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। কাজ চলমান রয়েছে। আরো কিছু স্থান চিহ্নিত করা হবে। আমরা সমীক্ষা করবো। এরপর ঝুঁকিপূর্ণ অবশিষ্ট অংশেও বেড়িবাঁধে কাজ আরম্ভ করা হবে। পেকুয়া সদরের ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য শাহেদুল ইসলাম জানান, আমি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তারা অন্তত বৃষ্টির আগেই এখানে কাজ শুরু করেছে। আমার এ দাবী ছিল জনগনকে সুরক্ষিত রাখা। আরো ৫/৬ টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে এ সব সংষ্কার না হলে আমার পেকুয়াবাসী আবারো চরম ক্ষতি ও দুর্ভোগে পড়বে। পাউবোর বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী অরুপ চক্রবর্তী জানান, জরুরীভাবে ৫৩০ মিটারের কাজ হচ্ছে। ঝুঁকিতে থাকা বেড়িবাঁধ চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্রুত সেখানেও কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
Leave a Reply