উপকূল সংবাদদাতা:
বোট বা ট্রলার মালিকদের হাতে নানা হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূলের মৎস্যজীবীরা। বেশিরভাগ শ্রমিক অসহায় ও অক্ষরজ্ঞানহীন হওয়ায় সূযোগ নিচ্ছে মালিকপক্ষরা। সাগরে মৎস্য আহরণের নিষেধাজ্ঞার সীমা পার না হতেই সাগরে যেতে জেলেদের বাধ্য করা হচ্ছে। এসব অভিযোগ ভুক্তভোগি শ্রমিকদের।
জানাগেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার গভীর সামিদ্রিক মৎস্য আহরণকারি বিহিন্দী জাল বোট মালিকদের একটি সংগঠন রয়েছে৷ সংগঠনের নাম চট্টগ্রাম-কক্সবাজার গভীর সামিদ্রিক মৎস্য আহরণকারি বিহিন্দী জাল বোট মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেড (রেজিষ্ট্রেশন নং১২৩২০), যা স্থাপিত হয় ২০১৪ সালে।
অনুসন্ধ্যানে দেখা গেছে, সমিতি নিজস্ব একটি চুক্তিপত্রের ফরম তৈরি করেছে রেখেছে, অভিযোগ উঠে, একই রেজিষ্ট্রেশন নং লাগিয়ে চুক্তি ফরম তৈরি করে একেক রকম শর্ত দিয়ে, শ্রমিকদের আর্থিক দৈন্যদশার সূযোগ কাজে লাগিয়ে বোট বা ট্রলার মালিকপক্ষ ইচ্ছেমাফিক শ্রমিকদের চুক্তিতে আবদ্ধ করে। মালিকপক্ষের সৃজিত ২৪৪৪ নং ফরমে চুক্তির শর্তগুলো পড়ে দেখা যায় নানা অসঙ্গতি, শর্তগুলোর বেশির ভাগ অংশই মানবিক নয়, শ্রম আইনেরও পরিপন্থী, যে কারণে শ্রমিকদের কপালে জুটে কল্যাণের তুলনায় অকল্যাণ।
চুক্তির ১নং শর্ত হলো-মজুরির দিন ৯ মাস ১৫ দিন। সাগরে ইলিশের প্রধান প্রজনন মওসুমে যতদিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে ততদিন মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। বন্ধ দিনগুলোর যে পরিমাণ একজন শ্রমিকের বেতন আসবে ওই পরিমান বেতন উল্টো মালিকপক্ষকে ফেরত দিতে হবে। চকরিয়া উপজেলার বরইতলীর বাসিন্দা মরহুম মুস্তাক আহমদের ছেলে ভুক্তভোগি শরীফ বাদশা বলেন, ৯মাস ১৫ দিনের জন্য আমাদের সাথে চুক্তি করে, আমরা ৯মাস ১৫ দিনই ওই কাজের জন্য বসে থাকি, অন্যকোন কাজ আমাদের নেই, অথচ মৎস্য আহরণে সরকার কতৃক নিষিদ্ধ সময়গুলোর বেতন আমাদের কাছ কেটে নেয়, যা বড়ই অমানবিক। ৯মাস ১৫ দিনে আমার মোট বেতন ৩লক্ষ টাকা, বন্ধের দিনগুলোর জন্য প্রতি হাজারে ২০টাকা করে মূল বেতন থেকে ২২ দিনে কেটে নেওয়া হয়েছে ১লাখ ৩২ হাজার টাকা, ৯মাস ১৫ দিনের শ্রম চুক্তি করা হলেও আমরা এই সময় পাইনা।
অসুস্থতার কারণে সাগরে যেতে না পারলে মুল বেতন থেকে প্রতিহাজারে ২০ টাকা করে ১০দিনের ৬০ হাজার টাকা বেতন কেটে নেয়।
ভুক্তভোগি শ্রমিক শরিফ বাদশার ছেলে তৌহিদ বলেন, আগামী ২৩ জুন পর্যন্ত সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে, কিন্তু মালিকপক্ষ মৎস্য বিভাগেরে সাথে গোপনে হাত করে আমাদের এখন থেকে সাগরে যেতে বাধ্য করছে, তিনি বলেন, আমরা নিষিদ্ধ সময় সাগরে গেলে আকস্মিক ক্ষতি হলে দায়ী কে নেবে। আমরা যারা সাগরে মাছ ধরে জীবীকা নির্বাহ করি, তারা অন্যকাজ করতে পারিনা, তাই বোট মালিকরা যা ইচ্ছে তাই চুক্তি সৃজনপূর্বক আমরা শ্রমিকদের নির্যাতন করে যাচ্ছেন। আমি এ সংক্রান্তে চট্টগ্রাম কক্সবাজার গভীর সামূদ্রিক মৎস্য আহরণকারি বিহিন্দী জাল বোট মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি/সম্পাদক বরাবরে আইনী নোটিশ প্রদান করেছি।
আমরা এ অনিয়ম ও নির্যাতন থেকে পরিত্রান চাই।
এদিকে সমিতির সভাপতি সেলিমউল্লাহর কাছ থেকে মুঠোফোনে শ্রমিকদের নানা অনিয়ম ও নির্যাতনের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে শ্রমিকের সাথে বোট মালিকের সমস্যা হয়েছে সেই বোট মালিক আমাদের সমিতির সদস্য নন এবং সে দেউলিয়া। সমিতির সদস্য না হলে সমিতির ছাপানো চুক্তিপত্রে কিভাবে শ্রম চুক্তি হয়েছে জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি, এছাড়া মৎস্য আহরণে নিষিদ্ধ সময় সীমা পার না হতে এখন থেকে কেন শ্রমিকদের সাগরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে এমন অভিযোগের জবাব চাইলে তিনি অফিসে এসে যোগাযোগ করার কথা বলে ফোন কেটে দেন।
Leave a Reply