বিজন কুমার বিশ্বাস:
চকরিয়া উপজেলার ১ টি পৌরসভা ও ১৮ ইউনিয়নে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ২৮৬টি রাস্তার মধ্যে ৫৪টি রাস্তার ১৪ হাজার ৫৩০ মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা ১৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কার্যালয়।
উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর আলম বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর দৈনিক বার্তা কে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিভিন্ন এলাকার স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে এ ক্ষতি নির্ণয় করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বেসরকারি হিসেবে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হবে বলে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
এদিকে সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট সম্প্রতি বন্যায় চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের হারবাং মগপাড়া সড়কের বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে হারবাং মগপাড়া সড়ক হারবাং জমিদারপাড়া-নাপিতের চিতা সড়কের নাজুক অবস্থায় হয়েছে বলে হারবাং স্থানীয় সমাজসেবক আজিজুল হক, রফিকুল ইসলাম ও গ্রাম পুলিশের দফাদার জাহেদ জানিয়েছেন।
বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খালেকুজ্জামান দৈনিক বার্তা কে বলেন, বরইতলী ইউপি নাসির মুখের ঘাটা সড়ক, বরইতলী আরএইচডি-আলমনগর সড়ক, বিবিরখিল দক্ষিণ পাড়া সড়ক, একতা বাজার পোকখাইয়া ঝিরি সড়কের নাজুক অবস্থা দেখা দিয়েছে। গাড়ি চলাচল করতে পারছে না। এ নিয়ে মানুষ চলাচলের ক্ষেত্রে বিপাকে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গ্রামীণ জনপদের ভেওলা-ঢেমুশিয়া-কোনাখালী সড়ক, সাহারবিল ইউপি টু বেতুয়া বাজার সড়ক, দৈংগাকাটা ব্রিজ চাঁদের বাপের পাড়া ও হারবাং বরইতলী সড়ক, পহরচান্দা শিকদারপাড়া গোবিন্দপুর সড়ক, হারবাং পশ্চিম বড়ুয়া পাড়া সড়ক, হারবাং ফরেস্ট অফিস-কোরবানিয়াঘোনা সড়কেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রাস্তা মেরামতের জন্য এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু ও দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এসব রাস্তা দ্রুত মেরামত না হলে এলাকায় উৎপাদিত পণ্য ও কাঁচামাল সরবরাহ করতে সমস্যায় পড়বে বলে স্থানীয় কৃষক বেলাল উদিন, কামাল হোসেন, আবুল কালাম মেম্বার, হেলাল উদিন সাওদাগর ও নুরুল আলম জানিয়েছেন।
এদিকে ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর আলম জানান, কোনো বরাদ্দ না পাওয়ায় ফের মেরামতের কাজে হাত দিতে পারছি না। তবে বরাদ্দ পেলে দ্রুত মেরামতের কাজ করা হবে।
Leave a Reply