নিজস্ব প্রতিনিধি,পেকুয়া:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় প্রভাবশালীর চক্রান্তে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভূক্তভোগী ভাই-বোন ও বৃদ্ধ মা। পেকুয়া সদর ইউনিয়নে ৭ নং ওয়ার্ডের চৈরভাঙ্গা পাড়া এলাকায় সম্প্রতি নিজের ঘর নিজে পুঁড়িয়ে দিয়ে আপন ভাই বোনকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করছে বলে দাবী করছে ভূক্তভোগী পরিবার। মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারী) বেলা ১২ টার দিকে পেকুয়া প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ওই এলাকার মৃত মৌলভী আমিরুজ্জামানের মেয়ে নিলুফা আক্তার ও রোকেয়া বেগম জানান, আমার ভাই শাহ আলম প্রকাশ মুচ শাহ আলমের ইন্দনে আমাদেরকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর জন্য এ ঘরপোঁড়া কান্ড ঘটিয়েছে। এর আগেও একটি পরিত্যক্ত গোয়াল ঘর পুড়ানো মামলায় আমাদেরকে হয়রানি করে। সেটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়। আমরা বর্তমানে আমাদের সাবেক মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করছি।
হাফেজ ইব্রাহীমের স্ত্রী নুসরাত জাহান ডালিয়া বলেন, ঘটনার দিন আমি অসুস্থ থাকা স্বত্তে¡ও আমাকে হামলা করে সারা শরীর জখম করে। তাছাড়া তারা আমার স্বামী হাফেজ ইব্রাহীম, আমার স্কুল পড়–য়া মেয়ে ও বড় ভাই শামশুল আলমকে হামলা করে আহত করে। তাদের অত্যাচারে আমরা বসতবাড়িতে থাকতে পারছিনা। শাহ আলম প্রকাশ মুচ শাহ আলম গং নিজেরা নিজেদের ঘর পুঁড়িয়ে দিয়ে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা রুজু করছে। ঘর পোড়ানোর আগে তারা বৈদ্যুতিক লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরে আমার ঘরে পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ পাই নাই।
শাহ আলমের বড় ভাই শামশুল আলম জানান, ঘর পোডানোর দিন, দুপুর থেকে শাহ আলম গং আমার পিতার পুরাতন বসতবাড়ি ভেঙে ফেলে। সেখান থেকে মৃল্যবান জিনিসপত্র, টিন, বেড়া, কাপড় চোপড় ও অন্যান্য মালামাল শাহ আলমের বসতবাড়িতে সরিয়ে ফেলে। কিছু জিনিস আমার ভাইপো আশরাফুল ইসলাম, তুহিন গংদের বসতঘরে নিয়ে যায়। এরপর মাগরিবের পর তারা আমাদেরকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর জন্য তারা নিজেদের ঘর নিজেরা পুড়িয়ে দেয়। আমার পিতার পুরাতন বসতভিটা থেকে অর্ধ কিলোমিটার দূরে আমার বসতঘর। বসতঘরে আগুন লাগছে খবর পেয়ে মসজিদের ইমামসহ আমি ঘটনাস্থলে আসলে শাহ আলম প্রকাশ মুচ শাহ আলমের ইন্দনে আশরাফুল আলম আমাকে মাথায় ইট দিয়ে জখম করে। এরপর তুহিন ও খালেকুজ্জামান আমাকে কাঁধে নিয়ে মাটিতে স্বজোরে আঘাত করলে আমি গুরুতর জখম হই। স্থানীয়রা সেখান থেকে উদ্ধার করে আমাকে পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। পরে আমার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আমকে চমেক হাসপাতালে রেফার করে। আমি প্রশাসনের নিকট এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বৃদ্ধ মা চেমন খাতুন, শাহ আলমের ভাতিজা ওমর ফারুক, শাহ আলমের বোন এলমুন্নাহার, শামশুল আলমের স্ত্রী তাহামিনা আক্তার প্রমুখ।
Leave a Reply