বিজন কুমার বিশ্বাস, নিজস্ব প্রতিনিধি:
কক্সবাজার পৌর এলাকায় সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ভবন নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। এক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না সরকারি কোনো নিয়ম-নীতি ও বিধি বিধান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে দখলদাররা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলেও অদৃশ্য কোনো এক কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। এতে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে।
জানা গেছে, পৌরসভার ঝাউতলা, বাহারছড়া, নতুন বাহারছড়া, মোহাজের পাড়া, পাহাড়তলী, লারপাড়া, সৈকত পাড়া, কস্তুরা ঘাট, এস এম পাড়া, আলির জাহালসহ আশপাশের এলাকায় সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে উঠছে ছোট-বড় অন্তত ৫০ টির মত পাকা ভবন। সবচেয়ে বেশি ভবন নির্মাণের কাজ চলছে বাহারছড়ায়। এখানে ১০ টি বহুতল ভবনের কাজ চলমান। নতুন বাহারছড়ায় ৬টি, পাহাড়তলী ২টি, ঝাউতলায় ২টি, লারপাড়ায় ২টি, মোহাজের পাড়ায় ১টিসহ ৫০টি অবৈধ ভবনের কাজ বর্তমানে চলমান আছে। ঝাউতলা শামছুল আলম গং’র দখলকৃত জায়গায় কলামের মাটি কাটার কাজ চলমান। বাহারছড়া পিটিআই স্কুলের সামনে রোজিনা আক্তারের ২য় তলা ইমারতের কাজ, শফিউল কবিরের কলামের কাজ, নতুন বাহারছড়া আনচার ক্যাম্প সড়কের সাকিব হাসানের সরকারি জায়গায় ২য় তলা ইমারতের কাজ, কলিম উল্লাহ’র ২য় তলা ভবনের, অজিত’র ১তলা বিশিষ্ট সেমি পাকা ঘরের নির্মাণ কাজ, আমান উল্লাহ আমানে’র বহুতল ভবনের ২য় তলার কাজ, নুরুল আমিনের বহুতল ভবনের ২য় তলার নির্মাণ কাজ, বাহারছড়া পিটিআই সড়কে হাবিবুর রহমানের বহুতল ভবনের ৩য় তলা, আমেন বেগমের ১ তলা, মোহাম্মদ নূর’র ১ তলা ভবনের কলামের কাজ, বাহারছড়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশে আমির হোসেনের বহুতল ভবনের ৩য় তলার কাজ চলছে ও মো: ইব্রাহীমের সরকারি দখলীয় জায়গায় ৩য় তলার কাজ প্রায় শেষের দিকে। দক্ষিণ বাহারছড়া জাফর আলমের বহুতল ভবনের ৪তলা ইমারতের কাজ, মো: মনিরের ভবনের কাজ, স্টেডিয়াম এলাকায় মোহাজের পাড়া শিমুল পালের বহুতল ভবনের ৩য় তলার কাজ, পাহাড়তলী ফতেরঘোনা, দক্ষিণ লাইট হাউজ পাড়া সৈয়দ আহমেদের ২ তলার কাজ, একই এলাকায় আনোয়ার হোসেনের ভবনের ১ তলার কাজ, বাস টার্মিনাল লারপাড়া আব্দুর রাজ্জাকের বহুতল ভবনের ৪ তলার কাজ প্রায় শেষের দিকে এবং আব্দুল গফুরের ১ তলা ইমারতের কাজ প্রায় শেষ। এছাড়া পৌরসভার আর-ও বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে ছোট-বড় আর-ও বেশকিছু ভবন ও সেমি পাকা স্থাপনার কাজ।
সূত্র বলছে, কক্সবাজার পৌরসভা এলাকায় তৃতীয়াংশ সরকারি খাস জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। যেখান সরকার একটি বিশাল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে। জেলা প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করলেও ফলদায়ক তেমন কিছু লক্ষ্য করা যায় না। ফলে এসব জায়গা দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠে দখলদারেরা। পুণরায় দখল হয়ে যায় এসব জায়গা। খবর নিয়ে আর-ও জানা যায়, গত ৫ আগস্টের থেকে প্রশাসনের দূর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সরকারি জায়গা দখলে মরিয়া হয়ে উঠছে কতিপয় ব্যাক্তিরা। এসব এলাকায় তারাহুরো করে ভবন নির্মাণ করছে তারা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জানলেও অদৃশ্য কোনো কারনে তাঁদের কাজে বাঁধা দিচ্ছে না। অন্যদিকে কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষ (কউক) খাস জায়গায় অনুমোদন বিহীন ইমারত নির্মাণ আইনেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছেনা। ফলে আইনের তোয়াক্কা না করে প্রতিনিয়ত ইমারত নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। শুধু তাই নয়, অধিকাংশ ভবনের নিচ তলায় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জামানত বাবদ নেওয়া হচ্ছে কয়েক লক্ষ টাকা। সব সুবিধা অবৈধ ভবন মালিকরা ভোগ করলেও সরকার পাচ্ছে না এক টাকারও রাজস্ব।
জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে খাস জমিতে অনুমোদন বিহীন নির্মানাধিন ইমারতের মালিকদের কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ইমারত নির্মাণ আইন অনুযায়ী নোটিশ প্রদান করেন। বিপরীতে ইমরত নির্মাণকারীরা কউকের দেওয়া নোটিশের কার্যকারিতা বন্ধে আদালতের স্বরণাপন্ন হওয়ার জন্য বলে। খাস জমি উদ্ধারে ও অনুমোদন বিহীন ইমারত অপসারণের ক্ষেত্রে আইনগত জটিলতা রয়েছে। এমতাবস্থায় খাস জমিতে অনুমোদন বিহীন অবৈধভাবে গড়ে উঠা ইমারতের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)।
জানতে চাইলে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর নুরুল আবছার বলেন, সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে। এছাড়া কউক’র অনুমতি না নিয়ে কেউ ইমারত নির্মাণ করছে এমন খবর পেলে সাথে সাথে কউক থেকে লোক পাঠানো হয়। খাস জায়গা হলে আমাদের করার কিছু থাকেনা। ভবন নির্মাণে কয়েকজন মালিকের সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। তাঁদের ভাষ্যমতে, পৌরসভার প্রায় এলাকায় খাস জায়গায় ইমারত নির্মাণ করছে। প্রশাসনের কাউকে তারা চোখে দেখেনি এবং কেউ বাঁধাও দেয়নি। ভবন নির্মাণকারী রোজিনা আক্তারের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে নাম না বলার শর্তে তার প্রতিনিধি হয়ে একজন বলেন, আপনাকে অভিযোগ কে দিয়েছে? কোথায় পেয়েছেন? আবারও জানতে চাওয়া হয় খাস জায়গায় ইমারত নির্মাণে কারোই অনুমতি নিয়েছেন কি-না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আপনি জায়গায় আসেন। আসলে বিস্তারিত কথা বলবো।
আমান উল্লাহ আমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অনেকে তো খাস জায়গার উপর ভবন করছে। এছাড়া আমি বিল্ডিং অনেক আগে করে ফেলেছি। কেউ আমাকে কোনো বাঁধা দেয়নি। লার পাড়া এলাকার ভবন নির্মাণকারী আব্দুল গফুর বলেন, তিন কড়া জায়গার উপর ২তলা একটি বাড়ির ফাউন্ডেশন দিয়েছি। একতলার কাজ শেষ হয়েছে। খাস জায়গায় বাড়ি করতে কেউ কোন বাঁধা দেয়নি? -এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কক্সবাজার তো বেশিরভাগ সরকারি জায়গা। সবাই দখল করে ভবন নির্মাণ করছে। আমিও করছি। আপনি একদিন এসে দেখে যান। দক্ষিণ লাইট হাউজ পাড়া এলাকার আনোয়ার হোসেন বলেন, এক গন্ডা খাস জায়গায় বাড়ি করে অনেক আগে থেকে বসবাস করছি। আশেপাশের অনেকে খাস জায়গায় ঘরবাড়ি করে বসতি স্থাপন করছে। আপনি শুধু আমাকেই দেখলেন?
অভিযুক্তদের মধ্যে অনেকের সা
Leave a Reply