পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় পূর্ব শত্রæতার জের ধরে আপন সহোদরের হামলায় গৃহবধূ, শিশুসহ ৪ জন গুরুতর জখম হয়েছে। এ সময় বসতবাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। ১২ মে ও ৫মে পৃথকভাবে মো: কফিলের বসতবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে জানা যায়, বারবাকিয়া ইউনিয়নের বারাইয়াকাটা গ্রামের মৃত মফজল মিয়া ও তার ভাই মো: কফিলের মধ্যে বসতবাড়ির যৌথ চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য বেলাল উদ্দিনের নিকট বিচার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ দিকে কফিল জানান, আমার বসতবাড়ির রাস্তায় চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে আসতেছে আমার আপন ভাই মো: শফিক। তাছাড়া নদীর পশ্চিম পাশে বাগানবাড়িতে হানা দেয়। এ সময় বাগানের গাছ গাছালি কেটে নেয়। এ নিয়ে গত ৫ মে আমি না থাকা অবস্থায় আমার মেয়ে হাফেজখানায় যাওয়ার সময় পথিমধ্যে ফারিহা (০৭), কাফা (০৬)কে মারধর করে। তারা চিৎকার করায় তাদের মা পারভীন আক্তার (৩৫) এগিয়ে গেলে তাকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে বামহাতে গুরুতর জখম করে। এ সময় মায়ের কুলে থাকা ১০ মাসের শিশু ছোবাইদকে মারধর করে। খবর পেয়ে আমি এসে তাদেরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করি। এ বিষয়ে চকরিয়া সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০৮৫/২৫ মামলা রুজু করায় তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার উপর ও পরিবারের শিশু সন্তানদের উপর মারধর ও বসতবাড়িতে হামলা করে এবং ভাংচুর চালায়। এমনকি আমাকে ও পরিবারের শিশু সন্তানদের প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। শফিক চোরাগোপ্তা হামলা করে লাশ গুম করবে বলে হাকাবকা করছে। এ ঘটনাকে পুঁজি করে নিজেকে বাঁচানোর জন্য অন্যজনের প্ররোচনায় মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে মামলা করার পাঁয়তারা করতেছে। এ ঘটনায় প্রবাসী শফিক বাদী হয়ে রবিবার বারবাকিয়া ইউনিয়ন পরিষদে বিচার দায়ের। পরদিন কফিলের বসতবাড়িতে হামলা করে নিজ স্ত্রীকে সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা রুজুর তৎপরতা চালাচ্ছে। এ দিকে বিগত ২০২৩ সালের দিকে আমার সহোদর মো: শফিক ও কয়েকজন মিলে আমার বাগান বাড়িতে হামলা করে। আমাকে গুম করবে বলে হুমকি প্রদান করায় আমি গত ২০২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজধারী কার্যবিধি ৪৪ ধারা মতে ডায়েরী রুজু করি। যার জিডি নং ৪৪৬/২৩। জিডি করায় আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর আমি না থাকা অবস্থায় আমার স্ত্রী ও শিশু সন্তানদের উপর হামলা করে গুরুতর জখম করে। এ ঘটনায় আমি চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করি। যার মামলা নং সিআর ২৪৪৯/২৩। স্থানীয় ইউপি সদস্য পরিবার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মীমাংসা করায় মামলা আপোষ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো চুড়ান্তভাবে মীমাংসা হয়নি। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য বেলাল উদ্দিন জানান, কফিলের ভাইদের মধ্যে চলাচলের রাস্তা নিয়ে মারপিট নিয়ে মারামারির বিষয়ে আমি অবগত আছি। বর্তমানেও যদি এ ধরনের মারামারি হয় তাহলে আইন অনুযায়ী যা হবার তাই হবে। পেকুয়া থানার সোহেল বলেন, আমরা ৯৯৯ কল পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনায় আদালতে মামলা রুজু হলে পুলিশ তদন্ত করবে। আদালতে যথাযথ তদন্ত রিপোর্ট পাঠাবে।
Leave a Reply