দেলোয়ার হোসেন রশিদী:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ছাত্র জনতার জুলাই বিপ্লবে ঢাকার চাংকারপুলে শাহাদাত বরণকারী চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার গর্বিত সন্তান শহীদ ইশমাম আমাদের অহংকার, আমাদের প্রতিরোধের প্রতীক। শহীদ ইশমামসহ জুলাই বিপ্লবে সকল শহীদদের পাশে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী আজীবন পাশে থাকবে। এই শহীদদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও জুলাই ঘোষণাপত্র রাষ্ট্রীয়ভাবে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য তিনি প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহবান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার(১৫ জুলাই) লোহাগাড়া আমিরাবাদের দর্জিপাড়া এলাকার সন্তান জুলাই বিপ্লবে শহীদ ইশমাম ও চট্টগ্রামে ইসকনের হাতে হত্যাকান্ডের শিকার পুটিবিলার ফারাঙ্গা এলাকার সন্তান শহীদ এ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফের কবর জিয়ারত শেষে আমিরাবাদ ও পুটিবিলা ইউনিয়নে পৃথক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, দ্রুত জুলাই আন্দোলনে গণহত্যার বিচার, প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার, জুলাই সনদ ও ঘোষণাপ্রত্র বাস্তবায়ন, শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন, পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান, প্রবাসীদের ভোট প্রদানের ব্যবস্থা এবং লেভেল প্লেলিং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। এসব দাবী দ্রুত বাস্তবায়নের দাবীতে ১৯ জুলাই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াত ইসলামীর জাতীয় সমাবেশ সফল করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহবান জানান ।
এসময় উপস্থিত জামায়াত নেতৃবৃন্দসহ শহীদ ইশমাম ও শহীদ এ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফের পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের কবর জিয়ারত করেন।
এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরীর ভারপ্রাপ্ত আমীর পরিবেশবিদ নজরুল ইসলাম। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ, জনসংযোগ সম্পাদক আবু হেনা মোস্তফা কামাল ও ছাত্রশিবিরের দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি আসহাব উদ্দিন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর ভারপ্রাপ্ত আমীর নজরুল ইসলাম বলেন, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত ও সম্ভাবনাময় একটি বাংলাদেশ পেয়েছি। শহীদদের এই জীবনদান এবং আহত ও নির্যাতিতদের ত্যাগকে মূল্যায়ন করতে হবে। ফ্যাসিবাদী শাসনের যাতাকলে দীর্ঘ ষোলো বছরে আমরা অনেক মুরব্বি ও সহকর্মীকে হারিয়েছি। আমরা হারিয়েছি ইশমামের মতো অনেক তরুণকে। আমরা হারিয়েছি আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতৃবৃন্দকে। শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে কারার অন্তরালে বিনা চিকিৎসায় শহীদ করা হয়েছে। তাদের সম্মিলিত ত্যাগ-কুরবানির বিনিময়ে আমরা একটি সম্ভাবনাময় দেশ গঠনের সুযোগ পেয়েছি। সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। ইনসাফের বাংলাদেশ গঠনে আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করতে হবে।
লোহাগাড়া উপজেলা আমীর আসাদুল্লাহ ইসলামাবাদীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি অধ্যাপক আবুল কালামের সঞ্চালনায় শহীদ ইশমামুল হকের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর লোহাগাড়া উপজেলা নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ হাফিজুল হক নিজামী, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আ ন ম নোমান, ছাত্রশিবিরের সাবেক দক্ষিণ জেলা সভাপতি আইয়ুব আলী, সাবেক সেক্রেটারি আবু সুফিয়ান, জামায়াতের আমিরাবাদ ইউনিয়ন আমীর অধ্যাপক মুহাম্মদ হাসান, বটতলি শহর আমীর অধ্যাপক জালাল আহমদ, সাবেক চেয়ারম্যান কাজী নুরুল আলম, দাওয়াহ ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা ছৈয়দ আহমদ, লোহাগাড়া সদর ইউনিয়ন সেক্রেটারি মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, আমিরাবাদ ইউনিয়ন সেক্রেটারি আনোয়ার হোসাইন, শ্রমিকনেতা রফিক দিদার, পুটিবিলা ইউনিয়ন জামায়াত ইসলামীর আমীর মাওলানা সেলিম উল্লাহ, লোহাগাড়া সদর ইউনিয়ন সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান, যুবনেতা আরিফুল্লাহ চৌধুরী ও মাস্টার মোহাম্মদ ফারুক প্রমুখ।
Leave a Reply