জিয়াউল হক জিয়া:
দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী রশিদ আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক দূর্নীতি,চেক জালিয়াতি,নিয়োগ বাণিজ্য সহ স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে দৈনিক রূপালী সৈকত পত্রিকা সহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিউজ প্রকাশিত হয় এবং সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগও করেছিলেন স্কুলটির এক সহকারী শিক্ষক শহীদুল ইসলাম।কিন্তু রহস্যজনক কারণে স্কুলের প্রধানের চেয়ারে বহাল তবিয়তে থাকা দূর্নীতিবাজ সমালোচিত প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন কে অবশেষে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
গত ৪ আগষ্ট (সোমবার) স্কুলের নতুন এডহক কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শাহেদুল মোস্তফা’র স্বাক্ষরিত
স্মারক নংঃ রউবি/২০২২/৩২(১১) মূলে প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।
বরখাস্ত করার প্রজ্ঞাপনে এডহক কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শাহেদুল মোস্তফা উল্লেখ করেছেন-
স্কুলের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন (ইনডেক্স নং ৩০৮৯৬৭) বিভিন্ন বিষয়ের স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য পরপর তিনবার কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করা হয়েছে।তিনি নোটিশের কোন জবাব না দিয়ে যে উদ্ধত্যতা দেখিয়েছেন তা চাকুরীবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।বিধায় কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত পরিসরে বরখাস্ত করার প্রজ্ঞাপনে তিনি অভিযোগের যে আংশিক চিত্র তুলে ধরেন-তা হলো,
গত ২৪সালের ২৮ জানুয়ারী অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী (জানুয়ারী ২০২৩ হতে জুলাই ২০২৩ পর্যন্ত) আপনার নিকট উদ্বৃত্ত চার লক্ষ আটান্ন হাজার ছয়শত একান্ন টাকা ১৮ মাস অতিক্রান্ত হলেও বিধিবহির্ভুতভাবে অদ্যাবধি বিদ্যালয়ের ব্যাংক একাউন্টে জমা না করে আত্মসাৎ করা।
অগ্রণী ব্যাংক খুটাখালী শাখা হতে উত্তোলিত উপবৃত্তির টিউশন ফি এর হিসাবের সাথে কলামনার ক্যাশ বহিতে লিখিত হিসাবের মধ্যে কোন সামঞ্জস্য নেই। এমনকি বিগত ২৩সালে ১৬ এপ্রিল বিদ্যালয়ের তৎকালীন সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ আহমদ ও আপনার স্বাক্ষরিত হিসাব নং- ০২০০০০৫৮৬৯১৭৬ (২০০০০৮৩৫) খুটাখালী শাখা চেক নং- ০৭৭৮০০১ এর মাধ্যমে উত্তোলিত সাতাশি হাজার টাকা কলামনার ক্যাশ বহিতে হিসাব করেন নাই। উপরন্তু চেকের বাম পার্শ্বের অংশে বাতিল বলে স্বাক্ষর করেছেন; যা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ফৌজদারী অপরাধ বলে বিবেচিত।
চলিত বছরের ১৭ জুলাই তারিখে দাখিলকৃত অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী আপনি সতের লক্ষ তিন হাজার পাঁচশত টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ছাত্র/ছাত্রীদের মাসিক বেতন হিসাবে সংগৃহীত টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা অথবা শিক্ষক/কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ না করে বিগত দুই বছর ধরে আপনি নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার করেছেন; যা চাকুরীবিধি লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট প্রমাণ।
এছাড়াও স্কুল আঙ্গিনায় আপনার জুয়া খেলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল এবং বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, যার ফলে বিদ্যালয়ের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে গঠিত তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা পায়। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় আপনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, নৈতিক স্খলন এর সংবাদ প্রচারিত হয়, যেসব কারণে বিদ্যালয়ের ইমেজ নষ্ট হয়েছে দাবি করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সুতরাং বরখাস্ত বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিটি দপ্তরে অনুলিপি পাঠানো হয় বলে এডহক কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শাহেদুল মোস্তফা।
Leave a Reply