জিয়াউল হক জিয়া:
কক্সবাজারের চকরিয়ায় মায়ের বন্ধকীয় স্বর্ণের টাকা চাওয়ায় হামলাকারীর “কোটিপতি হিজরা ভাই হামিদুল্লাহ প্রঃ গোলাপি”র উস্কানীমূলক টাকার দাপটিয়ে কথায় পরিকল্পিত ভাবে মোঃ ইউনুস (২২) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে গোলাপির ভাইয়েরা।আহত যুবক নিহত হওয়ার গুজব খবরে আহতের আত্মীয়-স্বজনরা সহ এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতার বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে ঘর-ঘেরাও।
রবিবার (৩১ আগষ্ট) সকাল ১০টার দিকে খুটাখালীর ৩নং ওয়ার্ডের ইসলাম বাজার সংলগ্ন আবুল কালামের বাড়ীর সামনে আর উঠানে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
আহত যুবক-খুটাখালীর ৩নং ওয়ার্ডের ছারিঘোনা এলাকার রহমত উল্লাহ ছেলে।
হামলাকারীরা হলেন-একই এলাকার মৃত খুইল্যা মিয়ার ছেলে রহমত উল্লাহ ও মোহাম্মদ উল্লাহ এবং ৪নং ওয়ার্ডের নলবুনিয়া এলাকার আব্দুল সালামের ছেলে ছমিদুল্লাহ আর একই ওয়ার্ডের কেফায়েত উল্লাহ’র ছেলে কামাল হোসেন।হামলাকারী এই চারজনকে জনতার ঘেরাও রাখায় থানার ওসি তদন্ত ইয়াছিন মিয়া সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে এসে আটক করে থানায় নিয়ে যান।
গুরুতর আহত ইউনুসের বড়ভাই আল আমিন,নিকটতম আত্মীয় সাইফুল ইসলাম ও শহীদুল্লাহ সহ বিক্ষুব্ধ জনতারা প্রতিবেদককে জানান-ইউনুস ঘটনার দিন সকালে ইসলাম বাজার এক দোকানের সামনে হামলাকারী রহমত উল্লাহ থেকে তাঁর” মা আসমাউল হুসনা”থেকে নেওয়া স্বর্ণ কোথায় জানতে চাই।রহমত তাকে স্বর্ণ বন্ধক দিয়েছেন বলেছে।তখন ইউনুস কখন তাঁর মায়ের স্বর্ণ বন্ধক থেকে ফিরিয়ে আনবে জানতে চাওয়ায়,তাদের মধ্যে এক পর্যায়ে বাকবিতন্ডা হয়।এসময় দোকানে থাকা লোকজন তাদেরকে আলাদা করে দেন।তখন রহমত উল্লাহ তার বাড়ীর দিকে চলে যায়।পরে রহমত তার ভাই কোটিপতি হিজরা ভাই গোলাপির সাথে পরামর্শ হামলাকারীরা পরিকল্পিত ভাবে এসে একা পেয়ে ইউনুসকে বড় সাইজের শক্ত গাছের টুকরো দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করে।মারধরের এক পর্যায়ে ইউনুস রক্তাক্ত জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে,তারা ইউনুস মারা গেছে যেনে হামলাকারীরা তাদের বাড়ীর ফাঁকাফাকি করে চলে যাচ্ছে।এমতাবস্থায় প্রতিবেশীরা ইউনুসকে মেরে ফেলেছে বলে চিৎকার মারতে থাকলে,আত্মীয়-স্বজন সহ এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতা জড়ো হয়।পরে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলাকারীর খুনি বিচার চাই বলে-বলে মিছিল করে তাদের বাড়ী-ঘেরাও করে রাখেন।এসময় জড়ো হওয়া ৫-৬ হাজার ক্ষুব্ধ নারী-পুরুষেরা হামলাকারীদের ধরতে তাদের বাড়ীর দরজা-জানালায় লাঠিসোটা দিয়ে আঘাত করে।এমন সংবাদে চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রহমান,৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল আউয়াল,৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার সৈয়দ হোসাইন,৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার জিশান শাহরিয়ার সহ ৪-৫জন চৌকিদারেরা গিয়ে কোন রকম বিক্ষুব্ধ জনতার উত্তেজনা থামলেও,কাউকে সরাতে পারেনি।তখন থানা খবর দিলে ওসি তদন্ত মোঃ ইয়াছিন মিয়া সঙ্গী পুলিশ ফোর্স নিয়ে এসে হামলাকারী চারজনকে ঘেরাও করা বাড়ী থেকে নিরাপদে বিকেল আড়াইটার দিকে থানা নিয়ে যান।
আহতের মা আসমাউল হুসনা জানান-আমার ব্যবহারিত স্বর্ণ নিয়ে গিয়ে বন্ধক দেন রহমত উল্লাহ।বিনিময়ে আমাকে হাজনা দেওয়ার কথা ছিল।কোন কিছু না দিয়ে আজ ১৮ মাস পরে আমার ছেলে ইউনুস,যখন তা ফেরত চাইছে তারঁ কোটিপতি হিজরা ভাই গোলাপির পরামর্শে আমার ছেলেকে মেরে ফেলতে চাইছিল।এবিষয়ে আমি আইনী সহযোগিতায় চেয়ে এজাহার জমা দিতে প্রস্তুতি নিয়েছি,এখনো থানায় আছি।ঘটনা চলাকালীন সময়েও হিজরা ফোন করে মেরে ফেলার নিদেশ দেন।মরে গেলে তা চুপাতে ১০ লাখ টাকা দিবে বলে উস্কানিমূলক কথা বলে,এলাকার কিছু লোক কথাটি শোনেছেন।কারণ এই হিজরা গোলাপি চট্টগ্রাম শহরের প্রায় তিন হাজার হিজরা লিডার বলে জেনেছি।এখনো আমার ছেলে কক্সবাজার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধিন আছেন,তবে অবস্থা সংকটাপন্ন।
স্হানীয় মেম্বার আব্দুল আউয়াল জানান-সামান্য মারধরের ঘটনায় গুরুতর আহত যুবক ইউনুস মারা গেছে বলে গুজব কথাতে,এলাকার হাজারো লোকজন ক্ষিপ্ত হয়।তাৎক্ষণিক আমরা উপস্থিত না ঘটনাটি বিরল আকারে ধারণ করতো।তবে স্বর্ণ বন্ধক দিয়ে টাকা নেওয়া কথাটি সত্যি বলে জানান তিনি।
এবিষয়ে চকরিয়া থানার ওসি তদন্ত মোঃ ইয়াছিন মিয়া জানান-স্হানীয় জনপ্রতিনিধির খবরে প্রথম ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।এরপরও উত্তেজিত বিক্ষুব্ধ জনতার ভীড় সামলাতে না পেরে,আবারো খবরটি থানায় জানানো হলে,আমি সহ আরো কিছু পুলিশ সদস্য নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়।ঘন্টাখানিক জড়ো হওয়া হাজার-হাজার বিক্ষুদ্ধ জনতাকে শান্ত্বনা দিয়ে হামলাকারী চারজনকে থানায় নিয়ে আসি।আহতের মা বাদী হয়ে লিখিত এজাহার জমা দিবেন বলে জানিয়েছেন।এজাহার পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ওসি।
Leave a Reply