পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় আদালতের ১৪৪ ধারা অমান্য করে বিধবার বসতবাড়ি পুঁড়ে দিয়ে বসতভিটা ও দোকানঘর জবর দখলের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার ভোর ৫ টার দিকে উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের সোনালী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভূক্তভোগী ছেনুয়ারা বেগম বলেন, পৈত্রিকভাবে ৩০ শতক জায়গা প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসতভিটা ও দোকানঘর নির্মাণ করে ভোগ দখল করে আসতেছি। সাবেক চেয়ারম্যান ও জায়গার ওয়ারিশরা পরষ্পর আত্মীয়। বিগত ১ যুগ পূর্বে ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হককে ওই জায়গা দেখভাল এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। জায়গাটি সোনালীবাজার সংলগ্ন হওয়ায় দেখভাল’র দায়িত্বে থাকা আজিজ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেক ওই জায়গা ভাড়া দেন। এমনকি কৌশলে জায়গার মালিকদের কাছ থেকে ননজুডিসিয়াল খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন। পরবর্তীতে ওই স্ট্যাম্পটি বিক্রিনামা চুক্তিপত্র দেখিয়ে বিধবা, তার বোনও মানসিক প্রতিবন্ধী একমাত্র ভাইকে চিরতরে জায়গা থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এরপর থেকে পেকুয়া উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হক বিভিন্ন কৌশলে জায়গাটি জবর দখল করার চেষ্টা করে। পরে আমি আদালতের আশ্রয় নিয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত কক্সবাজার ৪৮৪/২৫ রুজু করি। ওই জায়গা নিয়ে চকরিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে অপর মামলা ১৩৮/১৮ চলমান রয়েছে। সরকার পট পরিবর্তনের পর থেকে জায়গাটি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় ওই সময়ে আমার দোকানঘর ও বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় আমি দেখতে চিৎকার করি। আমিসহ এলাকাবাসীরা এগিয়ে এসে আগুন নিভিয়ে দেয়। স্থানীয়রা জানান, পরিত্যক্ত একটি মোটরসাইকেলে পরিকল্পিতভাবে ওই বসতবাড়িতে ঢুকিয়ে দিয়ে অকটেন দিয়ে একইদিন সকাল ৯ টার দিকে উজানটিয়া ঠান্ডারপাড়া এলাকার ছাবের আহমদের ছেলে করিম আগুন লাগিয়ে দিয়ে দৌড় দিলে তাকে স্থানীয়রা ধরে ফেলে। পরে তাকে স্থানীয়রা ছেড়ে দেন। পরে বিধবা মহিলাটি জানতে পেরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আছে। এ বিষয়ে সাবেক ভাইসচেয়ারম্যান আজিজুল হক জানান, বসতবাড়ি ও দোকানঘরে আগুন দেওয়ার কথা আমি জানি না। আসলে জায়গাটি নিজের বলে দাবী করেন। এ ব্যাপারে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল মোস্তফা জানান, অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply