এ এম ওমর আলী:
চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর গেছেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত মধ্য রাতের একটি ফ্লাইটে তিনি সিঙ্গাপুর যান। দেশের একজন স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান দেশের চিকিৎসা সেবার প্রতি আস্থা নেই বলে তিনি বিদেশে পাড়ি দিলেন। প্রতিবছরই দেশে হাজারও মেডিকেল শিক্ষার্থী বের হন শিক্ষা শেষ করে। এরা হয় বিসিএস দিয়ে সরকারি হাসপাতালে অথবা বেসরকারি হাসপাতালে প্র্যাক্টিস করে।
বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ১১০টি, এতে সরকারি মেডিকেল কলেজ ৩৭ টি। সরকারি হাসপাতাল ৬৫৪টি। চিকিৎসকের সংখ্যা ১,২৩,৮৫৩জন।
এত সংখ্যক চিকিৎসক এবং হাসপাতাল থাকতে আমাদের বাইরে চিকিৎসার জন্য কেন যেতে হবে?
নিশ্চই এটি রাষ্ট্রের ব্যর্থতা বললে চলে। মানুষের ৫টি মৌলিক অধিকারের মধ্যে চিকিৎসা সেবা অন্যতম। উপদেষ্টা, মন্ত্রী, অর্থ ও বিত্তবানদের টাকা আছে বলেই তারা সামান্য রোগের চিকিৎসা করতে দেশের বাইরে যেতে পারেন। কিন্তু মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের সংখ্যাতো বেশি। এদেরতো অত টাকা নেই, তাহলে ওরা উন্নত চিকিৎসার অভাবে মারা যাবে? দেশের চিকিৎসার প্রতি যদি দেশের সরকারে থাকা লোকজনের আস্থা না থাকে তাহল বছরে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে হাসপাতালে ডাক্তার লালন-পালন করার কি প্রয়োজন? প্রতিদিন বেসরকারি হাসপাতালের সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে ডাক্তারের সংখ্যাও। ডাক্তারেরা যদি চিকিৎসা দিতে না পারে তাহলে এদের সনদ কেন দেবে? আমাদের কথা হলো-বিদেশী নির্ভর চিকিৎসা থেকে বেরিয়ে আসতে কেন ব্যবস্থা নেয়না সরকার। গবেষনা মুখি কেন নয়। এই জন্য দায়ী দেশের ডাক্তার বা জনগণ নয়, দায়ী দেশের কর্তাবাবুরা। দেশে নিয়ম করতে হবে চিকিৎসার জন্য কোন মন্ত্রী/এমপি/প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে চিকিৎসা করতে যেন যেতে পারবেনা। এদের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দিলে দেশের স্বাস্থ্য সেবার প্রতি আন্তরিকতা তৈরি হবে, জনস্বাস্থ্য সেবার উন্নতি হবে, গবেষণা বাড়াবে, ডাক্তাররা আন্তরিক হবে। সকল শ্রেনীর মানুষ কমখরচে উন্নত চিকিৎসা পাবে।
Leave a Reply