নিজস্ব প্রতিবেদক,পেকুয়া:
বাংলাদেশ স্কাউটসের স্কাউট শাখার সর্বোচ্চ সম্মাননা “প্রেসিডেন্ট’স স্কাউট অ্যাওয়ার্ড” অর্জন করেছেন কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার পেকুয়া উপজেলার ৬ জন কৃতি ছাত্র। পেকুয়া উপজেলার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৬ জন স্কাউট সদস্যের এই মর্যাদাপূর্ণ অর্জন। যে সব কৃতি ছাত্র প্রেসিডেন্ট’স স্কাউট অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন তারা হলেন শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্র ও বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি পেকুয়া উপজেলা শাখার সভাপতি মাষ্টার মো: মহসীনের বড় ছেলে, শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্র মোহাম্মদ তাসীন কবির। একই বিদ্যালয়ের অন্যান্য স্কাউট গ্রæপের সদস্যরা হলেন-কামরুল হাসান হামিদ, তৌহিদুল হক ত্বাহা, তাসমীন মেহেরাজ, ইফতিয়ার মোহাম্মদ অকিব, পেকুয়া মুক্ত স্কাউট’স গ্রæপের সদস্য মোহাম্মদ ইমন।
গতকাল ১৮ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রোগ্রাম বিভাগের পরিচালক মোছাঃ মাহফুজা পারভীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে ওই ৬ জন কৃতি ছাত্রকে ২০২৪ সালের জন্য চূড়ান্তভাবে প্রেসিডেন্ট’স স্কাউট অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
স্কাউট সদস্যদের এই অর্জন কোনো তাৎক্ষণিক সাফল্য নয়, এটি দীর্ঘ দিনের কঠোর পরিশ্রম, নিয়মানুবর্তিতা, সমাজসেবা এবং নৈতিক মূল্যবোধ চর্চার ফল। এই অ্যাওয়ার্ড অর্জনে একজন স্কাউটকে উপজেলা, জেলা, অঞ্চল এবং জাতীয় পর্যায়ে লিখিত, মৌখিক, ব্যবহারিক ও সাঁতারসহ বহু ধাপের পরীক্ষায় সফলভাবে অতিক্রম করতে হয়।
এছাড়া বাধ্যতামূলকভাবে অর্জন করতে হয় কমপক্ষে ১৬টি পারদর্শিতা ব্যাজ, যার মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসা, ক্যাম্পিং, পরিবেশ সুরক্ষা, রান্না, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সমাজসেবা, নেতৃত্ব গুণাবলি ইত্যাদি।
পেকুয়া মুক্ত স্কাউট গ্রুপের সম্পাদক ও গ্রুপ স্কাউট লিডার স্কাউটার মো. আরকান বলেন, তাদের এই অর্জন শুধু পেকুয়া মুক্ত স্কাউট গ্রুপের জন্য নয়, বরং সমগ্র কক্সবাজার জেলার জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। স্কাউটিং শুধুমাত্র শারীরিক কৌশলের চর্চা নয়, এটি একজন মানুষকে আত্মনির্ভরশীল ও মানবিক করে গড়ে তোলে। আমরা এখন কোয়ালিটি স্কাউটিং নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছি যাতে ভবিষ্যতে আমাদের গ্রুপ থেকে আরও প্রেসিডেন্ট’স অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী স্কাউট তৈরি হয়।”
গ্রুপের সভাপতি স্কাউটার জাকের আহমদ বলেন, “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত এই অ্যাওয়ার্ড একজন স্কাউটের জীবনে অনন্য গৌরবের প্রতীক। এটি তার আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্ব গুণ বিকাশে অনুপ্রেরণা যোগাবে।”
স্কাউটিং শুধুমাত্র একটি সহ-শিক্ষা কার্যক্রম নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনমুখী শিক্ষা। স্কাউট সদস্যরা শেখে কীভাবে দুর্যোগে পাশে দাঁড়াতে হয়, কীভাবে সমাজকে এগিয়ে নিতে হয়, কীভাবে নিজের চরিত্র গঠন করতে হয়।
স্কাউট আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা লর্ড ব্যাডেন-পাওয়েল বলেছিলেন,“পৃথিবীকে যেমন পেয়েছ, তার চেয়ে সুন্দর করে রেখে যেতে চেষ্টা কর”। স্কাউটরা যেন সেই কথার প্রতিফলন।
ইমন তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান,“এই স্বীকৃতি আমার জন্য যেমন গর্বের, তেমনি দায়িত্বের। আমি আমার অর্জন উৎসর্গ করছি আমার অভিভাবক ও স্কাউট লিডারদের প্রতি, যাঁরা আমাকে সব সময় অনুপ্রাণিত করেছেন। ভবিষ্যতে আমি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।”
Leave a Reply