নিজস্ব প্রতিবেদক:
বান্দরবানের লামা বনবিভাগের মাতামুহুরি রেঞ্জের আলীকদম বিটে পরিচালনা ব্যয় খাতের চারা রোপণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি অর্থ বরাদ্দ থাকলেও প্রকৃতভাবে মাঠপর্যায়ে কাজ হয়নি, বরং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে মাতামুহুরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীমান্ত সড়কে ৬০ কিলোমিটার এলাকায় ৬০ হাজার চারা লাগানোর জন্য সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, নামেমাত্র কিছু চারা রোপণ করা হলেও প্রকল্পের বেশিরভাগ কাজের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, আলীকদম বিট কর্মকর্তা রনি পারভেজ, সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন এলাহী এবং বর্তমান ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান মিলে পুরো প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করেন।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সৃজিত বাগান রক্ষায় পাহারাদার নিয়োগের বরাদ্দ থাকলেও মাঠপর্যায়ে কোনো পাহারাদার পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, বর্তমান ডিএফও ও বিট কর্মকর্তা যৌথভাবে ভুয়া পাহারাদার দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ করছেন। ফলে রক্ষণা-বেক্ষণ না থাকায় সৃজিত বাগান এখন ধ্বংসের মুখে।
অন্যদিকে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরেও একইভাবে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বছর আলীকদম সীমান্ত সড়কের দুই পাশে ৪০ কিলোমিটার এলাকায় ৪০ হাজার চারা লাগানোর প্রকল্পেও একই কৌশলে নামেমাত্র কাজ করে পুরো অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেনাবাহিনীর সৃজিত বাগানের ফাঁকে ফাঁকে কিছু চারা লাগিয়ে বনবিভাগের সাইনবোর্ড টানানো হয় এবং প্রকল্পের পুরো অর্থ তুলে নেওয়া হয়।
তদন্তে জানা যায়, বিট কর্মকর্তা রনি পারভেজ ২০২০ সালে চাকরিতে যোগ দেন এবং লামা বনবিভাগের সবচেয়ে কনিষ্ঠ ফরেস্টার হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান তাকে রেঞ্জের দায়িত্ব দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যক্তিগত নানা কাজ করিয়ে নেন। এ কারণে তিনি রেঞ্জ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা উপেক্ষা করতেন।
এ ঘটনায় সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন এলাহী উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়ে অন্যত্র বদলি হয়ে যান।
বর্তমানে লামা বনবিভাগে কর্মরত দুই সিনিয়র ফরেস্টার মোস্তাফিজুর রহমান ও রেজাউল করিমকে তিন মাস ধরে কোনো পোস্টিং না দিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে, যা প্রশাসনিক অনিয়মের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে বিট কর্মকর্তা রনি পারভেজ বলেন, “গত এক বছরে কোনো পাহারাদার নিয়োগের বরাদ্দ ছিল না। ৬০ কিলোমিটার রাস্তার দুইপাশের চারা গরু ও ছাগলে নষ্ট করেছে।”
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা বলেন, “এই প্রকল্পে কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে। সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি তদন্ত প্রয়োজন।”
Leave a Reply