বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনের পক্ষে একাট্টা হয়ে কাজ করার ঘোষণা দিলেন মনোনয়ন বঞ্চিত তিন নেতা। তারা হলেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জামাল হোসেন ও অপর যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান।চট্টগ্রাম নগরীর একটি রেস্তোঁরায় এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় দলের মনোনয়ন বঞ্চিতরা মনোনয়নপত্র প্রাপ্ত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেন। এ সময় এ আসনের কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে অনেককেই আবেগাপ্লুত হতে দেখা গেছে।
জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিল চারজন। এদের মধ্যে বিগত বছরের ৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য নাজমুল মোস্তাফা আমিনকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। মনোনয়ন প্রদানের দিনই মনোনয়ন প্রত্যাশী মুজিবুর রহমানের সমর্থকরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে গাছের গুড়ি ও টায়ারে আগুন দিয়ে অবরোধ করে। শুধু তাই নয় ; নাজমুল মোস্তফার মনোনয়ন পরিবর্তন করে মুজিবকে মনোনয়ন দিতে দলীয় হাই কমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সাতকানিয়া এলাকায় দফায় দফায় মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন মুজিবের সমর্থকরা। অন্য দুই প্রার্থী অধ্যাপক শেখ মহিউদ্দিন ও জামাল হোসেন মাঠে মান-অভিমানের কোন প্রতিফলন ঘটায়নি। তবে, এদের মধ্যে জামালকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য জামাল এর সমর্থকরা ফেসবুকে লেখালেখি করেন। কিন্তু শেখ মহিউদ্দিন দলের হাই কমান্ড ও তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের প্রতি অটল থেকে প্রথম থেকেই নাজমুল মোস্তফা আমিনের সাথে কাজ করার ঘোষণা দিয়ে বিভিন্ন গণসংযোগ, সংবাদ সম্মেলন ও উঠান বৈঠকসহ নির্বাচনী প্রচারের বিভিন্ন কাজে অংশ নেন। তবে তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে সারা দেশে দলীয় কোন্দল মিটিয়ে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দিলে মুজিব ও জামাল এমপি প্রার্থী নাজমুল মোস্তফার পক্ষে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। এরই আলোকে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ঘোষণা দেন মনোনয়ন বঞ্চিত নেতারা।
যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মো.মহিউদ্দিনের বলেন, কিছুদিন আগেও দলীয় নেতাকর্মী যারা দ্বিধা বিভক্ত ছিল, আজকের পর থেকে সকল অনৈক্য ভুলে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে কাজ করব। এটা দলীয় চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের ম্যাসেজ।
অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান বলেন, দলের হাই কমান্ডের নির্দেশে নির্বাচনে আমরা শুধু চারজন নয়, এ আসনের জাতীয়তাবাদী পরিবার ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয় করার জন্য ঐক্যবদ্ধ আছি। আজকে থেকে দলীয় নেতাকর্মী যারা যে অবস্থায় আছেন, তাদের ধানের শীর্ষের পক্ষে কাজ করার জন্য আহবান জানাচ্ছি।
এদিকে, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আরেক যুগ্ন-আহ্বায়ক জামাল হোসেন বলেন, আমাদের মাঝে আগে মান অভিমান থাকলেও আজকে থেকে আমাদের মধ্যে কোন মতভেদ নাই। ধানের শীষকে বিজয়ী করতে দলীয় নেতাকর্মীদের বিনীত আবেদন জানাচ্ছি। আজ থেকে নির্বাচনী ওয়ার্ড ও সেন্টার কমিটি গঠন করে পুরোদমে কাজ শুরু করতে হবে।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, চট্টগ্রাম-১৫ আসন থেকে আমরা যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম মনোনয়ন চূড়ান্ত না হওয়ায় একটু দৌড়াদৌড়ির মধ্যে ছিলাম। প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর আগের মত অতীতে যেমন আমরা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম, বর্তমানেও আমরা তেমন ঐক্যবদ্ধ। আগামীতে এ ঐক্যের ধারা অব্যাহত থাকবে। ঐক্যবদ্ধ বিএনপি ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করে তবেই ঘরে ফিরবে। মনে রাখতে হবে এ আসনে ঐক্যবদ্ধ বিএনপিকে কেউ নির্বাচনে হারাতে পারবে না, অতীত ইতিহাস তাই বলে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট এরশাদুর রহমান রিটু বলেন, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য সংসদ নির্বাচনে মতভেদ ভুলে এক সাথে কাজ করার ঘোষণা, দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করেছে। বিষয়টি তৃণমূল পজিটিভলি নিয়েছেন। পাশাপাশি সাধারণ ভোটার, যারা বিএনপিকে ভালোবাসে তবে কোন দল করে না, তারাও তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে আনন্দিত হবে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদ্য বিলুপ্ত আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জসিম উদ্দিন আবদুল্লাহ বলেন, মত দ্বৈততা ভুলে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এক মঞ্চে একত্রিত হওয়া দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের জন্য একটি ভালো ম্যাসেজ। ঐক্যবদ্ধভাবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নাজমুল মোস্তফা আমিনের পক্ষে কাজ করলে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত। আর নেতাদের এমন ঐক্যবদ্ধতা দেখতে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মুখিয়ে ছিলেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো, ইদ্রিস মিয়া বলেন, সারা জীবন দল করে সবাই মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। আবার কিছু সময়ের জন্য থাকতে পারে মান-অভিমানও। তবে দল থেকে যখন কাউকে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তখন সেখানে কোন ভেদাভেদ থাকে না। এখন মনোনয়ন প্রত্যাশীসহ জাতীয়তাবাদের কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে কেউ হারাতে পারে না।তিনি বলেন, তাঁরা এখন এক হয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ করবে। আমি তাদের সাথে বসে কিভাবে প্রার্থীকে বিজয়ী করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করব।
Leave a Reply