পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় হামলায় বয়োবৃদ্ধ মা, প্রতিবন্ধী বোনসহ একই পরিবারের ৪ জন আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৫ টার দিকে উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের কুতুবপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন ওই এলাকার মৃত মাও: ইব্রাহীমের স্ত্রী ছেমন আরা বেগম (৭৫), মেয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী মোহছেনা বেগম (৩৫), ছেলে আবু বক্কর (৩০), ওমর ফারুক (৪০)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পৈত্রিক সম্পত্তি ও বসতভিটার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে বারবাকিয়া ইউনিয়নের কুতুবপাড়ায় মৃত মাও: ইব্রাহীমের পুত্র ওমর ফারুক গং ও তার বড় ভাই আজগর হোসেনের মধ্যে বনিবনা চলছিল। এ নিয়ে সম্প্রতি উভয়পক্ষের মধ্যে বিরোধ প্রকট আকার ধারণ করে। ওয়ারিশদের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ উভয়পক্ষের নিকটাত্মীয়রা সালিশি বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেয়।
ঘটনার দিন বিকেলে মৃত মাও: ইব্রাহীমের বসতবাড়িতে সালিশি বৈঠক চলছিল। স্থানীয়রা জানান, বৈঠকে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়েছে। এর জের ধরে মৃত মাও: ইব্রাহীমের পুত্র আজগর হোসেন ও তার ছেলে তৌহিদুল আলম, মুবিনসহ ৫/৬ জনের উত্তেজিত লোকজন সালিশি বৈঠকে মারপিট শুরু করে। এ সময় ধারালো ছোরা, দা, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।
এতে মৃত ইব্রাহীমের স্ত্রী ছেমন আরা বেগম, বিবাহিত মেয়ে মোহছেনা বেগম, দুই ছেলে আবু বক্কর ও ওমর ফারুক আহত হন। এ ব্যাপারে মৃত ইব্রাহীমের ছেলে আবু বক্কর জানান, তৌহিদ ও মুবিন আমাকে ছুরিকাঘাত করেছে। আমার পায়ে ও শরীরে আঘাত আছে। তারা আমাদের উপর হামলা করেছে। শুনেছি মাথায় বেন্ডেজ লাগিয়ে হাসপাতালে ভর্তি দেখাচ্ছে। আমাদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির পাঁয়তারা করছে। মৃত ইব্রাহীমের স্ত্রী ছেমন আরা বলেন, আমার ছেলে আজগর হোসেন অনেক আগে থেকে আমাকে মারধর করছে। তার স্ত্রী ও ছেলেদের অত্যাচারে আমিসহ আমার ছেলে-মেয়েরা অতিষ্ট। আমাকে ভিটা থেকে উচ্ছেদ পাঁয়তারা করছে। আমার মেয়ে মোহছেনা প্রতিবন্ধী, রাজাখালী থেকে বেড়াতে এসেছে। মেয়েকে মারধর করেছে। প্রত্যক্ষদর্শী তৌহিদ, মুসলিম শাহ, ছরওয়ার কামাল, মহিউদ্দিনসহ আরো অনেকে জানান, বৈঠকের মধ্যে মারপিট হয়েছে। আজগর হোসন ও তার ছেলেদের শান্ত রাখার চেষ্টা করছিলাম আমরা। কিন্তু এরপরেও হামলা হয়েছে। পেকুয়া থানার (ওসি) ওমর হায়দার জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply