জাহাঙ্গীর আলম কাজ
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় নাইক্ষ্যংছড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছে “প্রবারণা আনন্দ” উৎসব।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার অফিসার্স ক্লাবের মিলনায়তনে রবিবাব ২২ অক্টোবর সকাল সাড়ে থেকে চলে দিনব্যাপী এই আয়োজন।
বৌদ্ধধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর “প্রবারণা পূর্নিমা” কে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই উৎসবে শতাধিক দুস্থ, অসহায় পরিবার চাল,ডাল, তেল, চিনি সহ প্রায় ২৫ টি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস মাত্র ১৪ টাকার টোকেন মানিতে কেনার সুযোগ পায়। পাশাপাশি ছিল থামিন, লুঙ্গী সহ বাচ্চাদের বিভিন্ন কাপড়। ছিলো খাবারের ব্যবস্থাও।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব রোমেন শর্মা উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উক্ত কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যানন্দের কর্মকতা,সেচছাসেবকগন এবং নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক আব্দুল হামিদ এবং সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম কজল, সদস্য জয়নাল অবেদ্দীন টুক্কু।
বাংলাদেশের যে কোন ধর্মীয় উৎসবে দুঃস্থদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন প্রতিবছর ঈদ, পূজা, প্রবারণা পূর্ণিমা, বড়দিন সহ বিভিন্ন উৎসবে সেবামূলক উদ্যোগ নিয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন প্রবারণা পূর্নিমা উৎসবে দুঃস্থ পরিবারগুলো যেন উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য এই ভিন্নধর্মী আয়োজন। শুধু নাইক্ষ্যংছড়ি নয় ধারাবাহিক ভাবে এই আয়োজন হবে কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটির আরও কয়েকটি উপজেলায়।
বিদ্যানন্দ মনে করে উৎসব শুধু ধনীদের জন্য নয়, এতে গরীবদেরও অংশ গ্রহণের অধিকার আছে। আর বিদ্যানন্দ বঞ্চিতদের সে অধিকার নিশ্চিতে কাজ করে।
সাত টাকার মধ্যে প্রতীকী মূল্য চাল, ডাল, তেল, লবণ, আটা, চিনি, মাছ, মুরগী, শুটকি, সবজি, বাচ্চাদের শিক্ষা সামগ্রী সহ প্রায় ২৫ টি আইটেম কেনার সুযোগ পায় একেকটি পরিবার। পাশাপাশি সাত টাকার মাঝে পরিবারের জন্য থামিন, লুঙ্গিন কিংবা বাচ্চাদের জামাকাপড় কেনার সুযোগ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রতিটি পরিবার সাধারণ বাজার মূল্যে প্রায় দেড় হাজার টাকা সমমূল্যের পণ্য পায়।
দেশ বিদেশে ভিন্নতর ও অভিনব সব আইডিয়া নিয়ে সেবামূলক কাজ করে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে বিদ্যানন্দ। বিশেষ করে করোনাকালীন সময়ে কেউ যখন ভয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছেনা তখন জীবনবাজি রেখে করোনা মহামারী মোকাবেলায় সম্মুখসমরে যুদ্ধ করে সাধারণ মানুষের ভালবাসা অর্জন করে নেয় এই প্রতিষ্ঠান। সমাজসেবায় তাদের অসামান্য সব অবদানের জন্য ২০২৩ সালে সরকার তাদের একুশে পদকে ভূষিত করে। এছাড়াও ২০২২ সালে সমাজকল্যান মন্ত্রনালয় কতৃক জাতীয় মানবকল্যান পদক ও ২০২১ সালে বৃটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ কতৃক “কমনওয়েলথ পয়েন্টস অফ লাইট” পদকে ভূষিত হয় এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।
Leave a Reply