সাইফুল ইসলাম সাইফ/বিজন কুমার বিশ্বাস :
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারায় সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জনকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় চকরিয়া থানায় মামলা হয়েছে।
সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ৪টার দিকে উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া ৭নং ওয়ার্ড গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
হত্যা মামলাটিতে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় ৭/৮জনকে আসামি করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছে ৬ জন।
বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে চকরিয়া সেনা ক্যাম্পের কর্মকর্তা ( সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার) আব্দুল্লাহ আল হারুনর রশিদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সোমবার রাতে যৌথ বাহিনীর টহল দল মালুমঘাট বাজারে অবস্থানকালে সংবাদ পায় ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের পূর্ব মাইজপাড়া কৈয়ারডেবা গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল করিমের বাড়িতে ২৪/২৫ জন অস্ত্রধারী ডাকাত জড়ো হয়েছে।
তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় টহল দলটি যাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।
এসময় তাদের আটকের জন্য এগিয়ে যায় যৌথ বাহিনীর সদস্যরা। সম্মুখ সারির নেতৃত্বে থাকা লেফটেন্যান্ট তানজিম একজন ডাকাতকে ধরে ফেলেন। ঐ ডাকাতকে ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে আটক হওয়া মোহাম্মদ বাবুল প্রকাশ বাবুল ডাকাত ও এজাহারভুক্ত আসামি মোহাম্মদ নাসির তানজিমের উপর হামলা চালিয়ে ছুরিকাঘাত করে। চোখে ও বাম হাতের বাহুতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে রক্তক্ষরণ হয় নিহত সেনা কর্মকর্তার।
পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই ঘটনায় বাবুল স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দিতে তানজিমকে ছুরিকাঘাতের বিষয়টি জানিয়েছে।
বাবুল এলাকায় দুর্ধর্ষ ডাকাত হিসেবে কুখ্যাত বলে তাকে স্থানীয়রা কসাই নামে চিনে।
এছাড়াও এজাহারে ঘটনাস্থল থেকে ২টি দেশীয় অস্ত্র, ১১ রাউন্ড কার্তুজ, ১ টিপ ছুরি,৭টি মোবাইল ফোন,একটি টর্চ লাইট,একটি মোটরসাইকেল, একটি পিকআপ,একটি মানিব্যাগ সহ নগদ ২,২৮০ টাকা,ব্যাংকের এটিএম কার্ড উদ্ধার করার কথা উল্লেখ করা হয়।
চকরিয়া থানা সূত্রে জানা গেছে, হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ৬ আসামীদের আদালতের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আপনবাংলা নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক বিজন কুমার বিশ্বাস জানান, কক্সবাজারের চকরিয়ায় অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের সময় ডাকাতের ছুরিকাঘাতে সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার হত্যার ঘটনায় ১৭ জনের নামোল্লেখসহ ২৫ জনের নামে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে সেনা বাহিনীর ফাঁসিয়াখালী ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আব্দুল্লাহ আল হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে ডাকাতি ও হত্যা এবং পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে অপর মামলাটি দায়ের করেন।
চকরিয়া থানার ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন দৈনিক বার্তা প্রতিনিধিকে।
তিনি জানিয়েছেন, এ মামলায় দুটিতে ১৭ জনের নামোল্লেখ করে এবং ৮ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে।
এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত ৬ আসামি যৌথ বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে চকরিয়া উপজেলার ডুলহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল করিমের বাড়িতে ১৪/১৫ জনের একটি ডাকাত দল হানা দেয়। খবর পেয়ে লেফটেন্যান্ট তানজিমের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর অভিযানিক দল ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় এক ডাকাতেরর ছুরিকাঘাতে লেফটেন্যান্ট তানজিম নিহত হন।
এ সময় যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে ৬ জন ডাকাতকে আটক সহ একটি পিকআপ গাড়ি জব্দ,একটি মোটরসাইকেল, একটি বন্দুক ও ছোরা উদ্ধার করে।
Leave a Reply