মোহাম্মদ কানন:
চকরিয়াকে মডেল উপজেলায় রুপান্তরের লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি’র চকরিয়া উপজেলা শাখার নেতাকর্মীরা, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আতিকুর রহমানের কাছে ৩৮ টি প্রস্তাবনা পেশ করেছেন।
০৮ সেপ্টেম্বর সোমবার এনপিপির চকরিয়া উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেনের নের্ত্বেত্বে যুগ্ম-সমন্বয়কারি জয়নাব সাকিল সানি, যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্ ও যুগ্ম-সমন্বয়কারি আমিনুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এইসব প্রস্তাবনা পেশ করেন ।
এনসিপি চকরিয়া উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন জানান, চকরিয়া উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ৩৮ টি প্রস্তাবনা পেশ করেছি।
প্রস্তাবনা গুলো বিবেচনা করে বাস্তবায়ন করতে পারলে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ উপকৃত হবে। উপজেলা নিররবাহী কর্মকর্তা মোঃ আতিকুর রহমান আমাদের প্রস্তাবনাগুলো দেখে ভূঁয়সী প্রসংশা করেন এবং সবগুলো বাস্তবায়ন করতে চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দেন।
প্রস্তাবনা গুলো হলো :
১) কক্সবাজার চট্টগ্রাম মহাসড়ক এ কোন প্রকার টমটম ত্রী হুইলার গাড়ি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
২) বাস, সিএনজি ও টমটম ইত্যাদির জন্য বাস স্টপ নির্ধারিত করতে হবে।
৩) ইজারা বহিঃ ভূত কোন প্রকার টমটম সিনএনজি ও অন্যান্য গাড়ি থেকে টাকা উত্তোলন করা যাবে নাহ। উত্তোলন করলে সাথে সাথে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
৪) অবৈধ কোন প্রকার ফুটপাত এবং ভ্যান রাস্তায় রাখা যাবে নাহ।
৫) মার্কেটের সামনের দখলকৃত অতিরিক্ত অবৈধ অংশ ছেড়ে দিতে হবে।
৬) প্রতিটি দোকান ও মার্কেটে এবং প্রতিষ্ঠান সমূহে বাধ্যতামূলক ডাস্টবিন রাখার আদেশ প্রদান করতে হবে, অন্যতায় আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
৭) কোন দোকানের সামনে ডাস্টবিন বা ময়লার স্তুপ থাকলে সে দোকানদারের বিরুদ্ধে জরিমানার ব্যবস্থা করতে হবে।
৮) ফুটফাতের হকারদের জন্য পৌরসভার নির্দিষ্ট জায়গায় স্থানান্তর করিতে হইবে।
৯) গ্রামগঞ্জের বাজারে স্টেশন গুলো গাড়ির জন্য নির্দিষ্ট স্টেশনের স্থান নির্ধারিত করে দেওয়া হোক।
১০) চকরিয়া উপজেলার মধ্যে যতগুলো পতিতালয় ব্যবসা রয়েছে সব গুলো বন্ধ করতে হবে ও জরিমানা না করে সকল অপরাধীদের জন্য নিয়মিত মামলা রজু পূর্বক আইনের আওতায় আনা হোক।
১১) প্রতিটি রেষ্টুরেন্ট ও হোটেলের সেবার মূল্য যথাযথ বিবেচনার মধ্য দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত মূল্য নির্ধারণকরে টাঙ্গিয়ে রাখতে হবে।
১২) সকল প্রকার ঔষধের মূল্য তালিকা ফার্মেসীর সামনে টাঙ্গীয়ে রাখতে হবে।
১৩) লাইসেন্স বিহীন হসপিটাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ল্যাব বাতিল করে যথাযথ আইনের আওতায় আনতে হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের স্বার্থে এবং চকরিয়াকে উন্নত ও নিরাপদ আধুনিক চকরিয়া গঠনের লক্ষ্যে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এসব প্রস্তাবনা পেশ করে বলে জানিয়েছেন তারা।
১৪) প্রত্যেকটি মেডিকেল টেস্টের দাম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত মূল্য তালিকা টাঙ্গিয়ে রাখতে হবে।
১৫) নদী বা খাল থেকে অনুমোদন বিহীন অবৈধ বালি উত্তোলন পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে পাড় ভাঙ্গন রোধ করতে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে বন্ধে করতে হবে।
১৬)২০২৪ এর, আগেও ইটের সর্বোচ্চ দাম ছিল পারপিচ ৮ টাকা জুলাই গণঅভ্যুত্থান এর পর থেকে ইটের দাম বৃদ্ধি করে একটি সিন্ডিকেট মহল ১২ টাকা করে গ্রহণ করা হচ্ছে। ইটের নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।
১৭) ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা, খুটাখালী ইউনিয়ন এর নিলাম যুক্ত বালির বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হোক।
১৮) ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে ইয়াবা, মাদক, ক্যাসিনু খেলা থেকে দূরে রাখার জন্য খেলাধুলার প্রতি উজ্জীবিত করার জন্য সরকারি খাস জায়গায় খেলার মাঠ নির্ধারণ করা হোক।
১৯) প্রতিটি ইউনিয়ন এ দৃষ্টি নন্দন পার্ক বা গ্রীণ জোন প্রস্তাবানা বিবেচনা করা হোক, যাতে প্রতিটি ইউনিয়নে নিজ ইউনিয়ন এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে।
২০) ইউনিয়ন পরিষদ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন সবুজ ছায়াতলের ব্যবস্থা ও বটগাছ রোপন করতে হবে।
২১) প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার মধ্যে সেবার সরকারি ধার্য্যকৃত মূল্য তালিকা প্রতিটি কক্ষে টাঙ্গিয়ে রাখা হোক এবং সরকারি ধার্য্যকৃত মূল্যের অধিক হারে আদায় করলে বা হয়রানি করিলে হট লাইন নাম্বার দ্বারা শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
২২) ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে বয়স্ক ভাতা মাসিক চাউল, মৎস্য চাউল, কিছু টাকার বিনিময়ে নিজের সুবিধার স্বার্থে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা কার্ড থেকে বঞ্চিত হয়েছে। নতুন ভাবে তাঁদের পারিবারিক ছবি সহ অবস্থান এবং সংখ্যা সহ তালিকা প্রদান করা হোক।
২৩) জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি সচেতন মহল থেকে প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে ছোট বা বড় রাস্তার সংস্কার বা উন্নয়ন কাঠামো বরাদ্দের প্রস্তাব জানাচ্ছি। যেহেতু ১৮ টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বা মেম্বার এই মুহুর্তে পলাতক রাষ্ট্রীয় কর্মকাজ ও সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন এর লক্ষ্যে এনসিপি সার্বিক সহযোগিতায় বড্ড পরিকর।
২৪) প্রতিটি ইউনিয়ন এ ডাকাত, প্রতারক, ইয়াবা, মাদক ব্যবসায়ী উৎপাতের কারণে সমাজ কে রক্ষার স্বার্থে প্রতিটি ইউনিয়ন এ নূন্যতম তিনদিন করে যৌথ বাহিনীর অভিযান চালানোর প্রস্তাব। নতুন বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রা এই অভিযান অনেক বেশি ভূমিকা রাখবে।
২৫) পরিবেশ ও বন রক্ষার স্বার্থে বনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
২৬) চকরিয়া উপজেলায় একটি মাত্র কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার মহিলা কলেজের সামনে অবস্থিত তাঁর টিক পাশ্বে একটি ডাস্টবিন এর স্তুপ রাখা হয়েছে যা জাতির জন্য লজ্জা জনক। এই স্থানকে একটি ভাস্কর্য জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও জুলাই স্মৃতিচারণ অংকন করা হোক। শহিদ মিনারের সামনের অংশে মাঠের উপর অবৈধ হোটেল বা রেষ্টুরেন্ট করা
হয়েছে সে স্থানকে শহিদ মিনারের স্থানকে উল্লেখ করে একটা বর্ডার গ্রীণ ডিজাইন করা হোক বা বাউন্ডারি গেইট স্থাপন করা হোক।
২৭) চকরিয়া থানা এবং ভূমি অফিসে কারণ ব্যতীত প্রবেশ বন্ধের প্রস্তাব।
২৮) চকরিয়া কোটের বিল্ডিং একটি পাবলিক টয়লেট অতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে, ভুক্তভোগীদের প্রস্তাবে জানা যায় এতে সাধারণ মানুষের কষ্ট দূর হবে। বিশেষ, করে মহিলাগণ।
২৯) বিশেষ অভিযান এর মধ্য দিয়ে অতিরিক্ত টমটম বানানোর কারখানায় অভিযান বাস্তবায়ন করা হোক।
৩০) রাস্তার দ্বারে কবরস্থান সংলগ্ন স্থানে বৈদ্যুতিক লাইটিং ব্যবস্থা করতে হবে এবং এর সাথে প্রতি বাজারে লাইট স্থাপন করতে হবে।
৩১) প্রতিটি বাজারের কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে বাজার পরিচালনা এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব বণ্ঠন করে দিতে হবে।
৩২) যৌতুক নেওয়া ও দেওয়া নারী হয়রানি কর্মকান্ডের আংশিক প্রমান ফেলে সরকারি ভাবে আইনি উদ্যোগ গ্রহণ করার প্রস্তাব জানাচ্ছি।
৩৩) বর্ষা মৌসুমে জলবায়ু পরিবর্তন এর লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকা এবং মিনি কালভাট প্রয়োজন হইলে যাচাই-বাছাই করে দ্রুত পদক্ষেপ নিবেন।
৩৪) প্রতিটি ইউনিয়ন এ পরীক্ষা মূলক মৎস্য চাষীদের উৎজীবিত করানোর জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হোক।
৩৫) নেপিয়া ঘাস, উন্নত মানের ঘাস গবাদি পশুর পুষ্টিকর খাদ্যের লক্ষ্যে কৃষি খাতকে উজ্জীবিত করতে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
৩৬) প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার বিঘ্ন না ঘটার, লক্ষ্যে কোন প্রকার ছাত্র রাজনীতি কমিটি গঠন না করার লক্ষ্যে দিকনির্দেশনা প্রদান করার জন্য প্রধান শিক্ষক বরাবর অবগত করা হোক অন্যতায় এই আদেশ অমান্য করলে শিক্ষক প্রধানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
৩৭) ফ্যাসিস্ট সরকারের আমল থেকে দীর্ঘ দিনের অবহেলিত থানার সেন্টারের সামনে থেকে পালাকাটা মাছঘাট পর্যন্ত দ্রুত রাস্তার উন্নতিকরণ করতে হবে।
৩৮) স্কুল, কলেজে ও মাদ্রাসার সামনে ইভটিজিং প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
Leave a Reply