এ এম ওমর আলী: এডিবি ওয়াল্ড ব্যাংকের সহায়তা প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজারের চকরিয়ায় উপজেলার চিরিঙ্গা-বদরখালী সড়কের ২১২.২৭ চেইনের শাখা সড়ক জকরিয়া (সাহারবিল-বেতুয়াবাজার) সড়কের ৪কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে সুরক্ষা ও সম্প্রশারণ কাজটি এক মাস সময়ের মধ্যে ছয় মাসেও শেষ করতে পারেননি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দিমান কনস্ট্রাকশন এন্ড লিপি এন্টারপ্রাইজ। এ অবস্থায় সড়কটির জন্য নির্ধারিত সমূদয় ৪কোটি ৯০ লাখ টাকা নয়-ছয় করার পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন সড়ক থেকে বেতুয়া বাজার সড়কের সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের কাজে ব্যপক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।
সড়কটি সংস্কারের কাজ শুরু হয় চলতি বছরে ১ লা জুন। যা শেষ করার কথা ছিল একই মাসের ৩০ জুন ।
স্থানীয় লোকজন জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার কাজ শুরু না করে যথাসময়ে দীর্ঘদিন অদৃশ্য হয়ে যান। হঠাৎ শনিবার (২০ডিসেম্বর) পুরনো ইট ও ব্যবহার অনুপযোগী কংক্রিট দিয়ে কাজ শুরু করে। কাজ শুরু করলেও জানেন না উপজেলা এলজিইডি অধিদপ্তর। উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুন থেকে ৩০ জুনেরর মধ্যেে বিশ্ব ব্যাংক /এডিবি ‘র অর্থ সহায়তায় ২১২.২৭ চেইন সড়কটি সুরক্ষা ও সম্প্রশারণের জন্য ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত ৩০ জুনই ওই কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ঠিকাদারের খামখেয়ালিতে যথাসময়ে কাজটি সম্পন্ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় লোকজন। স্থানীয়রা বলেন, এই কাজের শুরু থেকেই দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার গড়িমসি করেছেন। যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দা, যানবাহন চালক ও পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে ছিলেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বেশ কয়েকবার জানানোর পরেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি। তবে বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে ঠিকাদার সড়কে ব্যবহার অনুপযোগী কংকর, পুরোনো ইট দিয়ে নামমাত্র সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করেন।
অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত ঠিকাদার আকরামকে এবিষয়ে জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও রিসিভ করেননি তিনি।
কাজটির তদারকি করেন চকরিয়া উপজেলা উপ-সহকারি প্রকৌশলী মিরাজ। তিনি বলেন- তিনি কেবল তদারকি করেন। কাজ চলমান থাকলে ভাল-মন্দ দেখার দায়িত্ব তার। বিলম্ব কেন হল এবং কাজের মেয়াদ কত বাড়িয়েছে সেটা জানেন না তিনি।
এ বিষয়ে এলজিইডির চকরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা বলেন, কার্যাদেশ অনুযাযায়ি কাজ শেষ করার মেয়াদ একমাস, বর্তমাসে ৬মাস অতিক্রম হয়েছে। তিনি আরও বলেন-ঠিকাদার যেহেতু এখন কাজ শুরু করেছেন তাই নিশ্চয়ই কাজের মেয়াদ আবার বাড়ানো হয়েছে। কতসময় বাড়ানো হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন- এটা এলজিইডির কক্সবাজার অফিস জানেন।
এলজিইডি কক্সবাজার জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুজ্জামান সাদেক বলেন, কাজ যেহেতু শুরু করেছে তাকে আশা করি সময় দেয়া হয়েছে। তবে তিনি কাজের মেয়াদ কতটুকু বাড়িয়েছেন সেটা সঠিক জানাতে পারেননি।
Leave a Reply