বিজন কুমার বিশ্বাস:
মিয়ানমার ক্ষমতাসীন জান্তা সরকার বিরোধী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি যোদ্ধাদের তুমুল আক্রমণে নিজ দেশ থেকে পালিয়ে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের ১৪ জন বিজিপি সদস্য বাংলাদেশের বান্দরবানে তুমব্রু ফাঁড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। নাইক্ষ্যংছড়ি ও উখিয়া সীমান্তের ওপারে অবিরাম গোলাগুলির ঘটনায় বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় তুমব্রু হিন্দু পাড়ার পবীন্দ্র ধর ৬৫ ও কোনারপাড়ার ১ নারী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
কক্সবাজার ৩৪ বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মাশরাকী ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
লেফটেনেন্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মাশরাকী প্রতিনিধিকে বলেন, আরাকান আর্মির যোদ্ধারা মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের ফাঁড়ি দখলে নিলে মায়ানমার বিজিপির ১৪ জন সদস্য পালিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এদের নিকট থেকে অস্ত্র নিয়ে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, ৪-২-২৪ইং রোবিবার সকাল থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি ও পালংখালী সীমান্তের ওপার থেকে গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসছে। এতে আতঙ্কে রয়েছে সীমান্ত এলাকার অনেকেই ঘর বাড়ি, দোকানপাট ছেড়ে নিরাপদে স্থানে চলে যাচ্ছে।
নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুনধুম সীমান্ত এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, গত শনিবার রাতে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের ৩৪ নম্বর রাইট ক্যাম্প দখলে নিতে আরাকান আর্মিরা হামলা চালালে শুরু হয় দুপক্ষের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ। মুহুর্মুহু গোলাগুলি আর মর্টার শেল নিক্ষেপের শব্দ শোনা যায় এসময়ে। যুদ্ধের এক পর্যায়ে রাতে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের ১৪ জন সদস্য প্রান বাঁচাতেয় বাংলাদেশে পালিয়ে এসে বিজিবির তুমব্রু ফাঁড়িতে আশ্রয় নেয়।
উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন প্রতিনিধিকে বলেন গত ২ দিন থেকে সীমান্ত এলাকায় তুমুল গোলাগুলির শব্দ শুনা যাচ্ছে।
সীমান্তের বিভিন্ন সূত্র বলছে, মিয়ানমারের রাখাইনে চলমান সংঘাতে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন জান্তা বাহিনীর ৩৪ নম্বর রাইট ক্যাম্প সহ বেশিরভাগ ক্যাম্প দখল করে নিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি।
Leave a Reply