পেকুয়া প্রতিনিধি;
কক্সবাজারের পেকুয়ায় সংষ্কার কাজ চলছে বারবাকিয়া ইউনিয়নের কুতুব পাড়া হাজী ফৌজিয়া জামে মসজিদে। পুনঃসংস্কারের আওতায় চলমান আছে মসজিদ পুনঃনির্মাণ কাজ। সংষ্কারের আওতায় মসজিদটির অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে।
জানা গেছে ১৯৬৪ ইং সালে কুতুব পাড়ায় হাজী ফৌজিয়া জামে মসজিদ প্রতিষ্টিত হয়েছিল। হাজী ফজর আলী নামক একজন মহৎ দানশীল ব্যক্তি মসজিদ ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রসারের জন্য নিজ মালিকাধীন জমি ওয়াকফনামা সম্পাদনের মাধ্যমে দলিল হস্তান্তর করেন। অনেক বছর ফৌজিয়া মসজিদটি মাটির দেয়াল ও টিনের চালায় সীমাবদ্ধ ছিল। তবে ইতিপূর্বে এ মসজিদটি আধুনিকায়ন করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এ উদ্যোগের অংশ হিসাবে মসজিদটি ইট, কংক্রিট ধারা অবকাঠামো উন্নয়ন স্বাধিত হয়। তবে শুধু ইবাদত বন্দেগীর জন্য একমাত্র মসজিদ ভবনেই ছিল। পরবর্তীতে ধর্মীয় শিক্ষা প্রসারিত হতে নির্মিত হয়েছে ইটের দেয়াল ও টিনের চালের ফোরকানিয়া মাদ্রাসা। গেল কয়েক বছর আগে সেখানে চালু করা হয় নুরানি শিক্ষা। সকালে মক্তবে পড়ানো হয় এলাকার শিশুদের আরবী শিক্ষা। শিক্ষা কারিকুলামের সূচী অনুযায়ী দিনে পড়ানো হয় নুরানিতে আরবী ও যুগোপযোগী শিক্ষা। আছে মক্তবে শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী এবং নুরানি শাখায় আছে ৭০/৮০ জন ছাত্র-ছাত্রী। কচিকাঁচার শিক্ষার্থীদের অধ্যায়নের জন্য আছে দুজন বেতনভূক্ত শিক্ষক। নুরানিতে আছে একজন মহিলাসহ দুজন শিক্ষক। মসজিদের জন্য পৃথক আছে একজন ইমাম।এ সবের বেতনভাতা চলে ওয়াকফ সম্পত্তির আয়ের উৎস থেকে। হাজী ফজর আলী ওয়াকফ সম্পত্তির ধারা হাজী ফৌজিয়া জামে মসজিদ, ফোরকানিয়া ও নুরানি মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
জানা গেছে হাজী ফজর আলীর সম্পত্তি সরকারের ধর্ম-মন্ত্রণালয়ের অধীনে ওয়াকফ প্রশাসক ধারা পরিচালিত হচ্ছে। যার ইসি নং ১৯৮৭২।
সম্প্রতি ফৌজিয়া জামে মসজিদে চলছে পুনঃসংষ্কার কাজ। মসজিদের ফ্লোরে বসানো হচ্ছে টাইলস। পূর্বে ভবন ছিল। তবে নিচে টাইলস ছিল না। এছাড়াও মসজিদে সম্প্রতি নির্মিত হয়েছে পাকা অজুখানা এবং প্রসাব পায়খানার জন্য পৃথক অবকাঠামো।
স্থানীয়রা জানান, মসজিদের ভিতরে ও বাহিরের দেয়ালে রংয়ের আবরণ ধারা সুভিত করা হচ্ছে। রং ও টাইলস খাতে সংষ্কার কাজের আওতায় ব্যয় হচ্ছে ৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। ১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে অজুখানা। এছাড়াও প্রস্রাব ও পায়খানা নির্মাণের জন্য ব্যয় হয়েছে পৃথক ১ লক্ষ টাকা।
আছে ৯ সদস্য বিশিষ্ট মসজিদ ও ফোরকানিয়া পরিচালনা কমিটি।
মসজিদের ইমাম মোঃ আলী জানান,অনেক কাজ হচ্ছে মসজিদে। টাইলস লাগানো হচ্ছে, অজুখানা ও পায়খানার জন্য আলাদা ভবন তৈরি হয়েছে।
কমিটির সভাপতি কামাল হোসেন এ মসজিদের জন্য সার্বক্ষণিক শ্রম ও মেধা ব্যয় করছেন।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারী মোস্তাক আহমদ জানান, প্রচুর উন্নয়ন হচ্ছে। সভাপতি কামাল একজন সৎ ও প্রশংসিত মানুষ। তিনি দায়িত্ব পালন করেন বলেই এসব হচ্ছে। ওয়াকফ’র আয় থেকে মসজিদসহ এ প্রতিষ্ঠানগুলি চলে। এখানে বাহিরের কোন আয় নেই।
Leave a Reply