তৌহিদুল ইসলাম কায়রু
লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের চুনতি রেন্জের সাতগড় বনবিটের ১০০গজের মধ্যেই সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ৩০ বছরের প্রাচীন দুই শতাধিক সেগুন ও আকাশমনি গাছ কেটে সাবাড় করার অভিযোগ উঠেছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজসে একটি চিহ্নিত প্রভাবশালী চক্র এই অপকর্মে জড়িত বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের পাশেই চুনতি রেঞ্জের সাতগড় বন বিট কর্মকর্তার কার্যালয়ের সীমানাঘেষে পেরইত্যাঘোনাও পার্শ্ববর্তী আলতাফের জুম এলাকায় ১৯৯৭ সালে সৃজিত সেগুন ওআকাশমণি বাগান রয়েছে। ওই বাগানগুলো থেকে সাতগড় বনবিট কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বিগত ১ সপ্তাহ ধরে গাছ কাটা হচ্ছে। স্হানীয় একটি চিহৃিত সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে এসব বনের গাছ লুট হচ্ছে বলে জানা গেছে। যে সিন্ডিকেটের সাথে বন কর্মকর্তাদের প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত বৈঠক চলে বলে ও একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
এ নিয়ে স্থানীয় লোকজন বন বিভাগে গাছ উজাড়ের তথ্য দিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী একজন বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানানো হলে এই তথ্য গাছ লুটকারীদের কাছে বিদ্যুৎ গতিতে বনবিভাগের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকৃত কর্মচারি কথিত ক্যাশিয়ার (লাইন ক্লিয়ার) ওমর ফারুকের মাধ্যমে পৌঁছে যায়।ফারুক নিজে ও এসব সিন্ডিকেটের সাথে গাছ ব্যবসায় সরাসরি জড়িত এবং গাছ পাচারে ব্যবহৃত দুটি জীপ গাড়ীতে তার অংশীদারি বিনিয়োগ রয়েছে বলে ও জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাতগড় বনবিটে রফিকুল ইসলাম বিট অফিসার হিসেবে যোগদানের পর থেকেই স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অনিয়মে জড়িত। তাকে টাকা দিলেই মেলে সবকিছুর অনুমোদন। টাকার বিনিময়ে বনের বাগানের গাছ কেটে আন্তঃফসলের সুযোগ ও বসতবাড়ি নির্মাণের সুযোগ করে দেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, তিনি যোগদানের পরপরই সুফল বাগানের নার্সারী ও বনায়নের নামে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, বিট অফিসারের সঙ্গে চোরাকারবারিদের যোগসাজশ রয়েছে। তাকে ম্যানেজ করা হলে তিনি সেদিন আর বিট অফিসের এলাকায় থাকেন না অন্যত্র চলে যান।
সাতগড় বন বিট কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের নিকট বিটের এত কাছ থেকে এতগুলো গাছ সাবাড় ও এতে বনবিভাগের সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তবে গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বন থাকলে তো গাছ কাটবেই, আমার অফিসের কাছ থেকে বন বিভাগের কিছু গাছ কাটা গেছে।
এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্যের জন্য রেন্জ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে বলে মোবাইল সংযোগ কেটে দেন।
জানতে চাইলে চুনতি রেন্জ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি সবেমাত্র যোগদান করেছি, গাছ কেটেছে শুনেছি তবে বিস্তারিত আমার জানা নেই।
বন বিভাগের চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) ড.রেজাউল করিম মোল্যা বলেন, খোঁজ নিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply