নিজস্ব সংবাদদাতা:
কক্সবাজারের চকরিয়ার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ভূমি দস্যূতা রোধ করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের এস আই ফারুক। এ ঘটনায় পুলিশের ওই এসআই ফারুকের বিরুদ্ধে ঘুস না পেয়ে অন্তসত্ত্বা নারীর পেটে লাথি মারার অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার আরিফা খাতুন (৪০) ও মোঃ রফিক ওরফে লেডু (৪৭)এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত ৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আরিফা খাতুন পুরাতন ঘর ভেঙে নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলে রফিক ওই জমির মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করেন। নিরুপায় হয়ে আরিফা খাতুন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেন।
পরে চকরিয়া থানার নির্দেশে তদন্ত কেন্দ্রের এসআই ফারুক হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সাথে কথা বলেন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে নিরপেক্ষ সার্ভেয়ার দিয়ে জমি পরিমাপ করে বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দেন। তবে রফিক এতে রাজি না হয়ে কাজ বন্ধে হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে নির্মাণ সামগ্রী চুরির ঘটনাও ঘটে বলে জানা যায়।
পরদিন রফিক থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় এবং উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ থানায় উপস্থিত হতে বলে। এতে আরিফা খাতুন অসন্তোষ প্রকাশ করে থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন।
গত ৭ এপ্রিল আরিফা খাতুন তদন্ত কেন্দ্রে গিয়ে তার দুরবস্থার কথা জানালে এসআই ফারুক হোসেন পুনরায় ঘটনাস্থলে যান। এ সময় রফিকের পক্ষের লোকজন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে এবং পুলিশের উপর আক্রমন করে। এছাড়া হামলাকারিরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করে বলে পুলিশের দাবি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রফিককে হেফাজতে নেয়। পরে তার পরিবারের সদস্যরা তদন্ত কেন্দ্রে আবারও আক্রমনাক্তক আচরণ করেন। রফিকের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠে, অন্তসত্ত্বা এক গৃহবধুকে লাথি মেরেছে এসআই ফারুক। লাথিতে আহত হয়েছেন ওই গৃহবধু।
জানতে চাইলে এস আই ফারুক জানান, অভিযোগ থেকে রেহাই পেতে বানোয়াট অভিযোগ তুলেছে, লাথি মারলে ওই মহিলা হাসপাতালে থাকার কথা, কিন্তু সে ফাঁড়িতে এসে পুলিশের সাথে বাড়াবাড়ি কিভাবে করলো?
মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক হিমেল হাসান জানান, এসআই ফারুক হোসেন কোনো ধরনের মারধর বা অনৈতিক লেনদেনে জড়িত নন। গর্ভবতী নারীকে আঘাত করার অভিযোগ সত্য নয় বরং তাদের অপরাধ আড়াল করতে বানোয়াট অভিযোগ বলে দাবি করেন তিনি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান হিমেল হাসান।
Leave a Reply