পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় অপহৃত স্কুল শিক্ষক মো: আরিফের (৪৫) ১৪ দিন পর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেছে পেকুয়া থানা পুলিশ। নিহত শিক্ষক পেকুয়া সদর ইউনিয়নের আন্নর আলী মাতবরপাড়ার মৃত বজলুল করিমের ছেলে।
শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৪ টার দিকে অপহৃত শিক্ষক আরিফের নিজ বসতবাড়ির পরিত্যক্ত একটি পুকুর থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একই এলাকার বাবুলের ছেলে ছোটন ওই পুকুরে মাছ ধরতে যায়। সেখানে মৃত লাশ দেখতে পান। সে এসে পরিবারের সদস্যদের এসে খবর দেয়। পরে পুলিশ ও এলাকাবাসী গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
অপহৃত স্কুল শিক্ষক মোহাম্মদ আরিফের স্ত্রী মেহবুবা আনোয়ার লাইজু বলেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫ টার দিকে পারিবারিক প্রয়োজনে আমার স্বামী বাড়ি থেকে বের হন। এরপর অনুমানিক রাত সাড়ে নয়টার দিকে বাড়ি না ফেরায় আমি তাকে ফোন করি। কিন্তু রিং হলেও তিনি ফোন ধরেননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে আমি পেকুয়া থানায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিখোঁজ ডায়েরি করি। ওই দিন বাদে এশা এক ব্যক্তির সঙ্গে আমার স্বামীর জমি–জমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি বিষয়ে সালিশের কথা ছিল। এর পর রাত সাড়ে ১২ টার দিকে অজ্ঞাতস্থান থেকে আমার স্বামীর নাম্বার থেকে শ্বাশুড়ীকে ফোন করে ছেলে অপহরণের শিকার হয়েছে বলে জানানো হয়। এরপর রাত ২টার দিকে আমাকে এবং শাশুড়িকে ফোন করে চট্টগ্রাম নগরীর ফ্রিপোর্ট এসে আমার স্বামীকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন তারা। পরদিন ফ্রি পোর্ট এলাকায় গিয়ে স্বামীকে পাননি বলে জানান মেহবুবা আনোয়ার লাইজু। পরে মুক্তির জন্য ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা দাবি করে তারা। পরদিন বিকেল ৪টার মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীর নতুন ব্রিজ পুলিশ বক্সের সামনে আমাকে যেতে বলেন অপহরণকারীরা। পাশাপাশি তারা হুমকি দিয়ে বলেন, ‘কোন চালাকি অথবা পুলিশ, র্যা ব কিংবা আর্মির দ্বারস্থ হলে তোর স্বামীর মরদেহ পাবি।’ কিন্তু এরপর আবারও মোবাইল বন্ধ করে দেন অপহরণকারীরা। তবে বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধা ৬ টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত উল্লেখিত মুক্তিপণের টাকা নিয়ে আমার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ রাখে অজ্ঞাতনামা অপহরণকারীরা।
এদিকে মোহাম্মদ আরিফকে অপহরণের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে পেকুয়া থানায় অপহরণ মামলা করেছেন তার ছোট ভাই মোহাম্মদ রিয়াদুল ইসলাম।
এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল মোস্তফা জানান, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশ তদন্ত করছে।
Leave a Reply