তৌহিদুল ইসলাম কায়রু
লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।
“আমি আমার জেলা ছাত্র শিবিরের সহ-সভাপতি পদে ছিলাম। আপনার বিষয়টি লামা উপজেলা শিবিরকে জানিয়ে দিচ্ছি। অলরেডি লোহাগাড়া শিবিরকে বলা হয়েছে।” এমন খুদে বার্তা হোয়াটসঅ্যাপে দৈনিক যুগান্তরের লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি নাজিম উদ্দীন রানার মোবাইলে পাঠান চট্টগ্রাম দক্ষিন বনবিভাগের সহকারি বন সংরক্ষক দেলোয়ার হোসেন।
গত ১২ নভেম্বর বিকেলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের চুনতি রেন্জের আওতাধীন সাতগড়ে সুফল বাগানের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিষয়ে মুঠোফোনে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তারপর উপরোল্লিখিত ক্ষুদে বার্তাটি পাঠিয়ে হুমকি দেন। সংবাদ প্রকাশিত হলে মামলা করার হুমকিও দেন তিনি।
তাৎক্ষনিক প্রতিবেদক বিষয়টি চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক ড. মোল্যা রেজাউল করিম ও চট্টগ্রাম দক্ষিনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনকে অবহিত করেন।
সংবাদ প্রকাশে বিরত রাখার জন্য সাংবাদিককে বনকর্মকর্তার হুমকি দেয়ার বিষয়টি প্রচার হলে স্হানীয় সাংবাদিকদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করে। উর্ধ্বতন কর্মকর্তা অচিরেই হুমকিদাতার বিরুদ্ধে ব্যবস্হা না নিলে লোহাগাড়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা কর্মসূচির ঘোষনা দেবেন বলেও জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন আচরণ দুঃখজনক। তিনি কেন এমন বার্তা পাঠিয়েছেন সে বিষয়ে উনাকে জবাবদিহিতা করতে হবে।
জানা যায়, সাতগড় বনবিটের পূর্বপাশের তেরপোলা, কইন্যারতলী, বড়তলীর দক্ষিণে, বাগপাচা ঝিরি পর্যন্ত এলাকায় বনবিভাগ যে ৪০ হেক্টর বাগান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার হিসেব শুধু কাগজে-কলমে ও সাইনবোর্ডে সীমাবদ্ধ। সাইনবোর্ডে বাগানের চারার সংখ্যা ও গাছের প্রজাতির কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে তার কোন মিল পাওয়া যায়নি।
এছাড়াও বাগানের সাইনবোর্ডে গামার, চিকরাশি, আকাশমনি, পিতরাজ, ধারমারা, সোনালু, কাজুবাদাম, ছাতিয়ান, সিভিট, রক্তচন্দন, খয়ের, আমলকি, হরিতকী, বহেরা, অর্জুন, কাঞ্চলভাদী, নিম, বকাইন, শিমুল, পলাশ, কাঞ্চন, চাকুয়া কড়ই, তেতুয়া কড়ই, কড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির ১ লাখ গাছের চারা লাগানোর কথা থাকলেও সরেজমিনে সাইনবোর্ডের প্রজাতির সাথে বাস্তবতার কোন মিল পাওয়া যায়নি। কয়েকটি প্রজাতির দেখা মিললেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লাগানো হয়েছে আকাশমনি ও অন্য গাছ। এ বিষয়টি নিয়ে সহকারি বন সংরক্ষক দেলোয়ার হোসেনের নিকট বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করলে তিনি সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে হুমকি দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক ড. মোল্যা রেজাউল করিম বলেন, সুফল বাগানের অনিয়মের বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
Leave a Reply