নিজস্ব প্রতিনিধি,পেকুয়া:
পেকুয়ায় অগ্রগতি নেই চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ সেলিনা হত্যা মামলার। কারাগারে নেই কোন আসামী। অধরা আছে মামলার সব আসামীরা। এরই মধ্যে পলাতক আছে তিনজন আসামী। জামিনে রয়েছে ওই মামলার ১৮ জন এজাহার নামীয় আসামী। এ দিকে ওই হত্যাকান্ডের ঘটনায় জখমী চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের মেধাবী ছাত্র নাজমুল সাকিবসহ গুলিবিদ্ধ দুইজনের অবস্থাও এখনো পর্যন্ত অপরিবর্তিত রয়েছে। এ সবের মধ্যে মেধাবী ছাত্র সাকিবের শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে গেছে। তার শারীরিক অবস্থারও অবনতি হয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেছে। তবে অঙ্গহানি হওয়া নাজমুল সাকিব ও সাইফুল ইসলামের অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন। প্রায় সময় হাসপাতালের বেডে থাকতে হয় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বেঁচে যাওয়া এ দুই যুবক। পেকুয়ায় গৃহবধূ সেলিনা হত্যার এ চাঞ্চল্যকর মামলার নেই গতি। ধোঁয়াশার মধ্যে অগ্রগতি ছাড়াই মামলাটি অনেকটা নিষ্প্রভ অবস্থায় আছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ দাবী করছেন। ৩ বছর ৯ মাস ১৬ দিন পেরিয়ে গেছে হত্যাকান্ডের ঘটনা। নেই মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। সুত্র জানান, ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল গভীর রাতে উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের বুধামাঝিরঘোনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ওই এলাকার ফরিদুল আলমের স্ত্রী সেলিনা আক্তার (৪০) নিহত হন। একই ঘটনায় সেলিমুল্লাহর পুত্র বিশ^বিদ্যালয় ছাত্র নাজমুল সাকিব (২৭), নুরুল আবছারের পুত্র সাইফুল ইসলাম (৩২) গুলিবিদ্ধসহ মারাত্মক জখম হন। ওই হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত গৃহবধূ সেলিনা আক্তারের স্বামী ফরিদুল আলম বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় হত্যা মামলা রুজু করে। বারবাকিয়া ইউনিয়নের বুধামাঝিরঘোনার মোহাম্মদ হোছনের পুত্র মাহামুদুল করিমকে প্রধান আসামীসহ ২২ জনের নাম ও অজ্ঞাত আরো ১০/১৫ জনকে এজাহার নামীয় আসামী করে। ওই দিন ঘটনাস্থল থেকে ২ জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই মামলার চার্জশীট আদালতে পাঠানো হয়েছে। চার্জ গঠনে এজাহার নামীয় আসামীদের মধ্যে একজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। জানা গেছে, জায়গা জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে ঘটনার দিন রাতে আসামীরা স্বশস্ত্র অবস্থায় বুধামাঝির ঘোনায় হানা দেয়। জমি জবর দখলকে কেন্দ্র করে গুলি ছোঁড়া হয়। এ সময় ফরিদুল আলমের স্ত্রী সেলিনা আক্তার, বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র নাজমুল সাকিব ও সাইফুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হন। পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সেলিনাকে মৃত ঘোষণা করে। গুলিবিদ্ধ জখমী সাকিব ও সাইফুলকে মুমূর্ষু অবস্থায় চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করে। মামলার প্রধান আসামী মোহাম্মদ হোসেনের পুত্র মাহামুদুল করিমসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা রুজু আছে। এ ৩ জন পলাতক রয়েছে। মামলার বাদী ফরিদুল আলম জানান, আমার স্ত্রী হত্যার আমি সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবি এডভোকেট লুৎফুল কবির জানান, চার্জ গঠন হয়েছে। সব আসামী এখনো রেকর্ডভূক্ত হয়নি। মামলাটি এখনো মাননীয় সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলমান রয়েছে। পেকুয়া থানার ওসি সিরাজুল মোস্তফা জানান, পলাতক আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply