নিজস্ব প্রতিনিধি,পেকুয়া:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় স্ত্রীর ধর্ষণ মামলায় কারাগারে গেলেন স্বামী। স্ত্রীর দায়েরকৃত মামলায় পেকুয়া থানা পুলিশ সোমবার (১০ ফেব্রæয়ারী) তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম মো: আরকান (২২)। তিনি উপজেলার টইটং ইউনিয়নের ধনিয়াকাটা আবদুল্লাহ পাড়ার জাকের হোছাইনের পুত্র। তবে তাকে গ্রেপ্তার নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরী হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আরকানকে পেকুয়ার মেহেরনামা সাকুরপাড় স্টেশন থেকে দুপুর ১২ টার দিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। অপরদিকে গ্রেপ্তারকৃত আরকানের স্বজনরা জানান, কৌশলে আরকানকে রাজাখালী ইউনিয়নের পালাকাটা এলাকায় নিয়ে আসা হয়। বাদীর বড় বোনের বাড়িতে আটকিয়ে রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ওই বাড়ি থেকে ওই দিন সকাল ১০ টার দিকে আরকানকে আটক করা হয়। এমনকি পরবর্তীতে ধর্ষণ মামলা রেকর্ড করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
সুত্রে জানা গেছে, বিগত ২ বছর ধরে ধনিয়াকাটার আবদুল্লাহপাড়ায় জাকের হোছাইনের পুত্র মো: আরকান ও একই প্রতিবেশী মৃত রুহুল কাদেরের মেয়ে চকরিয়া সরকারী ডিগ্রি কলেজের এইচ,এস,সি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী রিমা আক্তারের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। আরকান চট্টগ্রাম শহরে দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করে। গত ২ মাস আগে রিমা আক্তার ও আরকান পালিয়ে গিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসে। তবে এ বিয়েতে দুই পরিবারেরই অভিভাবকদের জানানো হয়নি। প্রেমিক জুটি চট্টগ্রাম শহরে বাসা নিয়ে বসবাস করছিলেন। নোটারী পাবলিক চট্টগ্রামে হাজির হয়ে তারা হলফনামামূলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর তারা চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় নিকাহ রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ে গিয়ে কাবিননামা সম্পাদন করে। ৭ লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্র্র্র্র্র্য্য হয়েছে। ৫ লক্ষ টাকা বকেয়া ও ২ লক্ষ টাকা নগদ নির্ধারিত হয়। যার বালাম নং ৮/২৪। পৃষ্ঠা নং-৪৪। ওই বিয়ের কাবিননামায় দেখা গেছে কনের বড় ভাই মো: মানিক স্বাক্ষী হিসেবে দস্তখত করেছে। সম্প্রতি নব দম্পতির সংসারে টানা পোড়ন দেখা দিয়েছে। এ বিয়েতে ছেলে ও মেয়ের পক্ষের মধ্যে বিরোধ অধিক তীব্রতর হয়। রিমা আক্তার চট্টগ্রাম থেকে পেকুয়ায় চলে আসে। দু’পক্ষের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ধনিয়াকাটা বাজারে অন্তত ৫ দফা বৈঠক হয়েছে। তবে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়নি। ঘটনার দিন সকাল ১০ টার দিকে পুলিশ আরকানকে রাজাখালী ইউনিয়নের পালাকাটা থেকে আটক করে। এ ব্যাপারে আরকানের মা উম্মে সালমা জানান, ঘটনা ও মামলা কাল্পনিক। মেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে চট্টগ্রাম শহরে আমার ছেলেকে বিয়ে করেছে। ধনিয়াকাটায় ৫ বার বৈঠক হয়েছে। সমাজ কমিটির সর্দার নুরুচ্ছফা, আবুল কালাম, নুরুল হক, স্থানীয় জাফর আলম, মো: রফিক, পল্লী চিকিৎসক এহেছান, মাষ্টার মোস্তফা আলী, সেক্রেটারী মোক্তার, যুবদল নেতা আজমগীরসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশকার ছিলেন। স্থানীয় যুবদল নেতা মোহাম্মদ আজমগীর জানান, বিষয়টি মামলা হওয়ার পর্যায়ে যায়নি। তারাতো স্বামী-স্ত্রী। কাবিন হয়েছে। নোটারীতে হলফনামামূলে বিবাহ হয়েছে। ধরা পড়া নিয়ে মূলত দ্বন্ধ। আমরা ৫ দফা বৈঠক করেছি। জেনেছি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। মূলত রিমার বড় বোনের বাসা থেকে আরকানকে আটক করা হয়েছে। পেকুয়া থানায় চলতি মাসের ১০ ফেব্রæয়ারী মামলা রেকর্ড হয়েছে। যার নং-০৫। এ ব্যাপারে রিমা আক্তারের বড় ভাই মানিক জানান, বিয়ের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। রিমার বয়স হয়েছে ১৭ বছর ৬ মাস। কিভাবে বিয়ে হবে। লোহাগাড়ার নিকাহ রেজিষ্টার আবির আহমদ জানান, বিয়ে আমার এখানে হয়েছে। বিয়ের বয়স ৬ কম আছে। বয়স পূর্ণ হলে রেজিষ্টারে রেকর্ড হবে। তবে বিয়েতো সঠিক। পেকুয়া থানার এস,আই রুহুল আমিন জানান, বয়স কম আছে। মেয়েটি ক্ষতিগ্রস্ত দাবী করছে নিজকে। তাইতো মামলা হয়েছে।
Leave a Reply