ফয়সাল আলম সাগর:
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার গৃহবধূ আমেনা বেগমের (২৪) মৃত্যুর আগে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেছেন, শাশুড়ি তাঁকে জোর করে বিষ পান করিয়েছেন। শনিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে যোগ করা যাবে) দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর আগের দিন শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভিডিওটি ধারণ করা হয়। ভিডিওতে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় আমেনাকে বলতে শোনা যায়— “আল্লাহর কসম, ওর মা (শাশুড়ি) আমাকে বিষ খাইয়েছে। স্বামী জানতে চাইলে আমি বলব খাওয়ায়নি। কিন্তু আসলে খাইয়েছে।”
স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমেনা বেগম চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের মীরপাড়া এলাকার শফিক আহমেদের মেয়ে। গত শুক্রবার রাত আটটার দিকে সাতকানিয়ার সদর ইউনিয়নের বাহাদিরপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বিষপানের পর স্থানীয়রা তাঁকে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আমেনার স্বামী মোহাম্মদ ইউসুফকে আটক করেছে সাতকানিয়া থানা-পুলিশ। তিনি সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের বাহাদিরপাড়া এলাকার বক্কর আহম্মদের ছেলে। তবে ঘটনার পর থেকে আমেনার শাশুড়ি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্বজনেরা জানান, ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে আমেনা বেগমের সঙ্গে মোহাম্মদ ইউসুফের বিয়ে হয়। তাঁদের জান্নাতুল মাওয়া নামে দুই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। আত্মীয়স্বজনের অভিযোগ, বিয়ের পর প্রথম দিকে সংসার ভালোই চলছিল। তবে শাশুড়ির সঙ্গে বিরোধের জেরে গত আট মাস ধরে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি চলছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিস বৈঠকও হয়। সর্বশেষ গত ৫ জানুয়ারি স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের মাধ্যমে পারিবারিক বিরোধের সমাধান করা হয়েছিল বলে জানান স্বজনেরা।
রোববার রাতে লোহাগাড়ার পদুয়া ইউনিয়নের মীরপাড়ায় আমেনা বেগমের দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে পুলিশ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে।
আমেনার চাচাতো ভাই মো. ইউসুফ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, “আমাদের বোনকে পরিকল্পিতভাবে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিষ পান করিয়ে হত্যা করেছে। আমরা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।” তিনি আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আমেনার ভাগনে তাওসিফ ধারণ করেছিলেন।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক বলেন, “গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামীকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। মৃত্যুর আগে দেওয়া ভিডিওটি আমরা পেয়েছি এবং সেটিকে তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হবে। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
Leave a Reply