স্টাফ রিপোর্টার::
গত সেপ্টেম্বর একমাস ও চলতি অক্টোবরে ১০ দিনসহ ৪০ দিনে ৪৫টি নালিশী আবেদন “ট্রিট ফর এফ আই আর’ হিসেবে গ্রহন করতে চকরিয়া থানাকে আদেশ দিয়েছে চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। এসব “এফ আই আর”-এ বেশিরভাগ আসামী হলেন বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা। ফলে শঙ্কায় ভোগছেন এসব নেতাকর্মী।
জানাগেছে, গত ৫ আগস্ট সৈরশাসকের পতনের পর থানাপুলিশের কর্মকান্ড অচল ছিল। সরকারের পতনের পর ৫ আগস্ট চকরিয়া ও পেকুয়ার বিভিন্ন স্থানে গণবিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসবের মধ্যে বিশেষ করে জমি-জমা পূনরুদ্ধার করতে গিয়ে মারামারির ঘটনা বেশি। কিন্তু ৫ আগস্টের পর বেশ কিছুদিন চকরিয়া ও পেকুয়া থানার কার্যক্রম স্থাবির থাকে। তদস্থলে সেনাবাহিনী আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রন করে। এদিকে থানার কার্যক্রম স্থবির থাকার সূযোগে কথিত ভুক্তভোগিরা চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশী আবেদন করে। এতে সিংহভাগ আবেদনই আদালতের বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট ট্রিট ফর এফ আই আর হিসেবে গ্রহন করতে আদেশ দেয়। বর্তমানে থানার কার্যক্রম সাভাবিক হলেও ‘ট্রিট ফর এফ আই আর’ আদেশ কমছেইনা বলে জানাগেছে।
চকরিয়া থানার রাইটার বাকিবিল্লাহ জানান, গত ৪০ দিনে ৪৫ ‘ট্রিট ফর এফ আই আর’ এসেছে চকরিয়া থানায়। অর্থাৎ চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ৪০দিনে ৪৫টি নালিশী আবেদন নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু এসেছে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, প্রায় ‘এফ আই আর’ গুলোতে আসামী হচ্ছেন বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা। ফলে সরকার পরিবর্তন হলেও মিথ্যা মামলা থেকে পরিত্রান পাচ্ছেনা বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা।
উপজেলা শ্রমিকদলের সহসভাপতি নাজেমউদ্দিন জানান, ৫ আগস্ট চকরিয়া থানা সেন্টারে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আমিনুর রশিদ দুলালের বাড়িতে হামলা করে তার প্রতিপক্ষরা, এ নিয়ে দুলাল কোর্টে নালিশী আবেদন করে। কোর্ট আবেদনটি এফ আই আর হিসেবে গ্রহন করতে আদেশ দেয়। এ মামলায় আমার পরিবারের নেতৃগোচের সবসদস্যকে আসামী করে।
কাকারা ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আবদুল মোনাফ জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা তার উপর হামলা করে মাথা ফেটে চৌচির করে দেয়। উল্টো তাদের বিরুদ্ধে ‘ট্রিট ফর এফআই আর’ নিতে থানাকে আদেশ দেন চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
চকরিয়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এনামুল হক বলেন-ক্ষমতার পরিবর্তনের পরও যদি বিএনপি-জামায়াতের লোকজন জুডিসিয়ারি হয়রানির শিকার হয়, তাহলে বুঝতে হবে সরকার পরিবর্তন হলেও পতিত সরকারের প্রেতাত্মাগুলো গুরুত্বপূর্ন স্থানে রয়েগেছে। এদের কার্যক্রম উদ্বেগের।
এদিকে গত ৫ আগস্টের পর চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও চকরিয়া জুডিসিয়ারি বিভাগের মধ্যে স্নায়ু দ্বন্দ্বের আভাস মিলেছে। গত ১১ সেপ্টম্বর আদালতের সাথে লাগোয়া উপজেলা পরিষদের দাবীকৃত ৩ শতক জমি নিয়ে সৃষ্টি হয় এ স্নায়ু দ্বন্দ্ব।
ওই সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, উপজেলা পরিষদের জমি আলালতের লোকজন আইনজীবীদের সহায়তায় দখল করতে আসলে তিনি নিষেধ করেছেন। নিষেধ না মানায় তিনি চলে যান।
জানাগেছে, সেই থেকে অদ্যবদি দুই বিভাগের মধ্যে স্নায়ু দ্বন্দ্ব লেগেই আছে।
এর জের ধরে ফোরদারি আদালতের বেশ কিছু নালিশী মামলার তদন্তভার উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের উপর দেয়া হচ্ছে। তা-ও তদন্তগুলোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হলে কারণ দর্শানো হচ্ছে। এতে দারুন বিব্রতকর পরিস্তিতিতে আছেন উপজেলা প্রশাসনের বেশ ক’জন কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব কথা বলেন ভুক্তভোগি কর্মকর্তারা।
ফৌজদারি মামলার তদন্ত প্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা বলেন, ফৌজদারি মামলা তদন্তের জন্য ফৌজদারি অপরাধ ও আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অভিজ্ঞতাও প্রয়োজন। যাদের নিকট নালিশী আবেদনের তদন্ত আসছে তারাতো ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত বিষয়ে জানেন না বললে চলে। এগুলো তদন্তের জন্য পুলিশ আছে, না হয় অন্যান্য সংস্থার লোকজনকে প্রদান করা হলে উত্তম হয়।
Leave a Reply