তৌহিদুল ইসলাম কায়রু
লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।
জায়গা-জমির বিরোধে চাচা মফিজুর রহমান গং এর হামলায় ভাতিজা গুরুতর আহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। ভিকটিম মোহাম্মদ হেলাল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় আছে।
২১ অক্টোবর (সোমবার) সকালে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলাধীন বড়হাতিয়া ইউনিয়ন সেনেরহাট মাষ্টার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে ভিকটিমের ভাই চাচাত ভাই এনামুল হক বাদী হয়ে চাচা মফিজুর রহমান সহ মোহাম্মদ সোহেল, আরজু আরা বেগম, সাদিয়া আক্তার ও অজ্ঞাত ৪/৫জনকে বিবাদী করে লোহাগাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
বাদী এনামুল হক সাংবাদিককে জানান, “পূর্ব থেকেই জমিজমার বিরোধ নিয়ে দুপক্ষের মাঝে কলহ চলে আসছিল। এর প্রেক্ষিতে ঘটনার দিন অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ সংঘবদ্ধ ও পূর্বপরিকল্পিতভাবে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হেলাল এর উপর হামলা করে। এসময় বিবাদীগণের অতর্কিত সশস্ত্র হামলায় হেলালের বাম হাত ভেঙে যায়। এসময় শোরচিৎকারে তার স্ত্রী তাছমিন আক্তার এগিয়ে গেলে হামলাকারীগণ তাকেও আক্রমণ করে তার গলায় থাকা দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার হেলালের অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে চমেক হাসপাতালের প্রেরণ করেন তার তার স্ত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।” তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ এক যুগ ধরে আমাদের চাচা মফিজ বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে সন্ত্রাসমূলকভাবে আমাদের নিজস্ব জমি ভোগদখল করতে দেন নাই। এমনকি তার কারণে আমাদের নিজস্ব বসতবাড়িতে থাকতে পারিনি। এসময় আমরা নিজস্ব ঘরহীন মানবেতর জীবন যাপন করেছি। যা চাচা মফিজের অত্যাচার শিরোনামে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।” বাদী এনাম বলেন, “বিগত সরকার পতনের পর আমরা স্বাধীন ও স্থায়ীভাবে নিজ বাড়িতে বসবাস শুরু করি। এর পর থেকেই আমাদের চাচা মফিজ আমাদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র রটাতে থাকেন। একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে তিনি আমার চাচাত ভাই হেলালের উপর আক্রমণের এ ঘটনা ঘটান। এর পূর্বেও আমরা চাচা মফিজের বিরুদ্ধে আমরা লোহাগাড়া থানা পুলিশ এবং লোহাগাড়া অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পে বিচার দিয়েছি, যা এখনও বিচারাধীন আছে। কিন্তু তিনি কোনোকিছুরই পরোয়া না করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে চলেছেন।”
তথ্যানুসন্ধানে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বৃদ্ধ বলেন, “তাদের চাচা-ভাতিজার কলহ দীর্ঘদিনের। তাদের এ গৃহযুদ্ধে এলাকার লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। বিগত সময়ে মফিজ বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংদেরকে মাধ্যমে ভাতিজাদেরকে এলাকায় আসতে বাধা সৃষ্টি করেছে।”
অভিযুক্ত মফিজের পুত্র সোহেল জানান, “আমার চাচাত ভাইয়েরা আমার আব্বার উপর হামলা করে। হামলার শিকার হয়ে আমার আব্বা বর্তমানে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।”
লোহাগাড়া থানার অফিসার-ইন-চার্জ আরিফুর রহমান বলেন, “বড়হাতিয়ায় জায়গা-জমির বিরোধে হামলার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সহকারে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
Leave a Reply