পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় মাদ্রাসার সাইনবোর্ড দিয়ে দখলে নিল ১ একর বনের জায়গা। জবরদখল কুমানসে একটি ভূমিদস্যুচক্র চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের জায়গায় ইতিমধ্যে তৈরী করে ফেলেছে একটি কুঁড়েঘর। সেখানে টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড। উপজেলার টইটং ইউনিয়নের গুদিকাটার পূর্বদিকে চেপ্টামোড়ার পশ্চিমে বনবিভাগের গহীন অরণ্যে বনদখলের চেষ্টা শুরু হয়েছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, টইটংয়ের গুদিকাটার পূর্বদিকে পাহাড়ের গলাচিরা অংশে নতুন করে ১ একর জায়গা জবর দখল চেষ্টা চলছে। একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যুচক্র বনের ওই জায়গার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্টা নিতে সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে জায়গা দখলের মহোৎসবে মেতেছে। দেখা গেছে, গুদিকাটা হামিউছুন্নাহ নুরানী মাদ্রাসার সাইনবোর্ড দেওয়া হয়েছে বনের জায়গায়।
স্থানীয় রহিম উল্লাহ জানান, জায়গাটি বনবিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন সম্পত্তি। বনবিভাগ ওই স্থানে অংশীদ্বারিত্ব বনায়ন সৃজন করে। টইটং বনবিট থেকে ওই স্থানটির দূরত্ব হবে মাত্র ১০ চেইন। বারবাকিয়া রেঞ্জের অধীনে টইটং বনবিট কর্মকর্তার কার্যালয়ের নিকটবর্তী স্থান হলেও সেখানে জবরদখল তৎপরতা চলমান রয়েছে। স্থানীয়রা আরো জানান, ওই চক্রটি বনবিভাগের স্থানীয় বিট কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে সেখানে প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে ১ একর জায়গায় নিজদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলেছে। দেখা গেছে, হামিউছুন্নাহ নুরানী মাদ্রাসার নামে গুদিকাটার স্থানীয় এখলাছুর রহমান নামক ব্যক্তি একটি কুঁড়েঘর নির্মাণ করেছে। ছড়ের বেড়া ও পলিথিনের ছাউনি দিয়ে অনেকটা তড়িঘড়ি করে বনের ভেতরে ওই চক্র অবৈধ অনুপ্রবেশসহ স্থাপনা তৈরী করেছে। প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। এ দিকে গুদিকাটাসহ চেপ্টামোড়ার ওই অংশে বনবিভাগের সামাজিক বাগান সৃজিত রয়েছে। বনজ গাছের সৃজিত বাগানও উজাড় হচ্ছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জের আওতাধীন টইটং বনবিটের অধীনের ১ একর জায়গা বেহাত হওয়া নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণ ও অংশীদ্বারিত্ব বনের উপকারভোগীরা উদ্বেগসহ ক্ষোভ জানিয়ে এ বিষয়ে প্রতিকার চাওয়া হলেও তারা কোন ধরনের নৈতিক সহায়তা পাননি বলে দাবী করা হয়। অপরদিকে বনবিভাগের নাকের ডগায় বনের জায়গা বেহাত হওয়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে বনের জায়গায় কুঁড়েঘর নির্মাণ করে জবরদখল চেষ্টাকারী এখলাছুর রহমান জানান, জায়গাটি বনবিভাগের। তবে লেখাপড়ার স্বার্থে এ জায়গাটি বেছে নিয়েছি। কারো কাছ থেকে অনুমতিও নিই নাই। আপত্তি থাকলে স্থাপনা সরিয়ে ফেলবো।
এ ব্যাপারে টইটং বনবিট কর্মকর্তা জমির হোসেন জানান, বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে। আমি জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব। অবশ্যই বনবিভাগের জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনাটি উচ্ছেদ করা হবে। চট্টগ্রামের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, আমি এখন খবর নিচ্ছি। কোন অবস্থাতেই বনের জায়গা বেহাত হতে দেওয়া যাবে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply