জিয়াউল হক জিয়া:
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের সবচেয়ে জনবহুল গ্রামীণ সড়কের ভগ্নদশা।ফলে জন-র্দূভোগ চরম আকারে ধারণ করেছে,এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর।
খুটাখালী ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক ছৈয়দ আলম,যুগ্ম-আহবায়ক সাদেকুর রহমান ও ইউনিয়ন যুদলের সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা যুবদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মিজবাউল হক সোহেল বলেন-ফ্যাসিষ্ট আ’লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৭বছরে খুটাখালীর প্রতিটি ওয়ার্ডের জনবহুল গ্রামীণ সড়কে ভগ্নদশা।জনপ্রতিনিধির গাফিলতি না থাকলেও,উপজেলা চেয়ারম্যান,উপজেলা প্রশাসন সহ তৎকালীন এমপির কোন মাথা ছিল না।বিধায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। যে কারণে খুটাখালী খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে,খুটাখালী বাস-স্টেশনস্হ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক থেকে উত্তরপাড়া,মাইজপাড়া,বাক্কুমপাড়া,হাজীপাড়া,শান্তি বাজার,ইসলাম বাজার,নতুনবাজার,মসজিদ পাড়া,চেয়ারম্যান পাড়া যাওয়ার জনবহুল সড়কটি উজান থেকে আসা ঢলের পানিতে খালের বা নিচের দিকে ধসে গিয়েছে।এছাড়াও খন্ড-খন্ড ভেঙ্গে ছোট-বড় যানচলাচল ব্যাহত হলো।এভাবেই থাকলে ২,৩,৪,৫ ও ৭নং ওয়ার্ডের বসবাসরত মানুষের চরম র্দূভোগ শেষ হবে না।তাই কঁচি শিক্ষার্থী,প্রসূতি,বয়োবৃদ্ধ/বৃদ্ধা,রোগাক্রান্ত মানুষ আর প্রয়োজনীয় মালবাহী গাড়ী বিঘ্নতা থেকে যাবে।সুতরাং উন্নয়নের রুপকার প্রিয় নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছি।যদি সংস্কারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড আর উপজেলা প্রশাসন নজর না দেন।তাহলে উন্নয়ন হওয়া প্রশ্নেই উঠে না জানিয়েছেন।
১নং ওয়ার্ডের মেম্বার সেলিম উল্লাহ জানান-আমার ওয়ার্ডের পাগলিরবিল ছড়া সংলগ্ন হয়ে কোণাপাড়া আর পাগলিরবিল পশ্চিম পাশের ছড়া সংলগ্ন সড়ক ধসে যানচলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ জনগণের পায়ে হেঁটে চলা র্দূবিষহ হয়ে পড়েছে।এছাড়াও আরো কযেকটি সড়ক এখনো কাঁদা ভরা।সংস্কার করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।
খুটাখালী ইউপির ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার বোরহান উদ্দিন জানান-আমার ওয়ার্ডে সবচেয়ে জনবহুল কয়েকটি সড়কের বেহাল অবস্থা।সেগুলো হলো ইসমাইল হাজীর বসত ঘরের সংলগ্ন সড়ক,ফরেস্ট অফিসের পূর্বপাশে মৌলভী ছাবের আহমদ সড়ক,নুরুল আলম হেডম্যান সড়ক,মসজিদ পাড়া থেকে চিংড়ি ঘের ঘেষা মধ্যম মেদাকচ্ছপিয়া-কালাচাঁন সড়ক ও জালাল আহমদ সড়কে করুণ অবস্থা।কাদাযুক্ত সড়কগুলো সংস্কার খুবই জরুরী।
৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল আউয়াল জানান-পূর্ব হাজীপাড়া হয়ে পূর্ব-মধ্যম বাক্কুমপাড়া ড্রেইন সহ সড়ক,হেতালিয়াপাড়া সড়ক সহ আরো ছোট-কাট সড়ক ও কালভার্ট করা খুবই দরকার।পূর্ব হাজীপাড়া সড়ক সংস্কারের আবেদন করেছি।
৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার নুর মোহাম্মদ পেঠান মুন্সি জানান-আমার ওয়ার্ডের বাহাদুরের দোকান থেকে আলী আকবরের দোকান পর্যন্ত অর্থাৎ বাগানিয়া পাড়ার সড়ক,মহি উদ্দিন মধুর বসত ঘরের গেট থেকে আবুল ফজল হুজুরের বাড়ী পর্যন্ত সড়ক,স্কুলপাহাড় থেকে গোলডেপার জামে মসজিদ পর্যন্ত লম্বাতলী সড়ক,আমিনের দোকান থেকে নতুন রবি টাওয়ারের সংলগ্ন দরগাহপাড়া সড়কের ভগ্নদশা।আমি এসব সড়কগুলো সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার নুরুল আজিম ও সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার পারভিন আকতার জানান-উত্তর ফুলছড়ি কাশিমের টেক থেকে কাঠালিয়াপাড়ার সড়ক,খুটাখালী খালের রাবার ড্যামের ঘেষা দুইপাশের সড়ক যেন মরণফাঁদ।খালে আসা বর্ষার পানি নেমে না যাওয়া সহ জোয়ার-ভাটা হিসাবে পারাপার যেন কষ্ট দায়ক।লালগোলা ব্রীজ সংযোগ সড়কটি বাণিজ্যিক সড়কে পরিচিত।আজ সেই সড়কটি মৃত্যুকূপে পরিণত।যানচলাচল নয়,মানুষ চলাচলও বিপদজনক।সংস্কারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড আর উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার নুরুল আজিম জানান-দক্ষিণ ফুলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সড়ক,ফুলছড়ি দরগাহপাড়া সড়ক ও ছড়াপাড়া কাঁদাযুক্ত সড়কের বেহাল দশা।দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার জিশান শাহরিয়ার জানান-তমতলার সড়ক,পানিরছড়ার সড়ক,নাছিরের জুম সড়ক,দরদারির সড়ক ও আবু শামাপাড়ার কাঁদা মাটির সড়কের করুণ অবস্থা।সড়ক সংস্কারে অবহেলিত আমার ওয়ার্ড।জনগণকে দেওয়া ওয়াদা রক্ষা করতে পারেনি।তাই জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।
খুটাখালীর চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রহমান বলেন-খুটাখালী বাস-স্টেশনস্হ মহাসড়ক হয়ে খালের দুইপাশের সড়ক রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের শরণাপন্ন হব।তবে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের কাছে সংস্কারের আবেদন করেছি।এছাড়াও প্রতিটি ওয়ার্ডের জনবহুল অসংখ্য সড়ক এখনো কাঁদা মাটিতে ভরা।আ’লীগের ১৭ বছরের উন্নয়ন করার মত বাজেট পায়নি।যে কারণে উন্নয়নের দিক থেকে আমার ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়ক সংস্কারে নিয়ে অবহেলিত। যা ভাষায় বলে শেষ করা কষ্টকর।তাই জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহোযোগিতা কামনা করছি।
Leave a Reply