।।।। তারেক আজিজ মাসউদ।।।
গেলো রবিবার ৭ জানুয়ারী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আশেক উল্লাহ রফিক ৩য় বারের মত কক্সবাজার-২
(কুতুবদিয়া-মহেশখালী) আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন। এদিন উৎসব মুখর পরিবেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারের উপস্থিতে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মহেশখালী উপজেলার ৮১টি কেন্দ্র এবং কুতুবদিয়া উপজেলার ৩৭টি কেন্দ্রে সর্ব মোট ১১৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হয়। উভয় উপজেলায় যথাক্রমে কুতুবদিয়া উপজেলায় ৯৫,৫২৫ জন এবং মহেশখালী উপজেলায় ২,৫২,৬০৪ জন। মোট ৩৪৮১২৭ জন ভোটার রয়েছে।
৭জানুয়ারি সকাল ৬ টা থেকে ভোটাররা দূর-দূরান্ত থেকে ভোট কেন্দ্রে আসতে শুরু করে। সকাল ৮টায় শুরু হওয়ার পর থেকে উৎসাহের সাথে সারাদিন ভোট গ্রহণ শেষে বিকেল ৪টায় কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। মোট কাস্টকৃত ভোট ১,৩৫,৫৬৮টি। মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ছিল ১,৩৪,০২৬। এতে বেসরকারীভাবে বিজয়ী হন বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জনাব আশেক উল্লাহ রফিক। তিনি মোট ৯৭,৬০৫টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) এর নোঙর মার্কার প্রার্থী জনাব শরীফ বাদশা সর্বমোট ভোট পেয়েছেন ৩৫,৬১৩ টি। দু’জনের ভোটের ব্যবধান ৬১,৯৯২।
যে কুতুবদিয়াতে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চার দলীয় ঐক্যজোটের জামায়তের প্রার্থী হামিদুর রহমান আজাদের কাছে বিশাল ব্যবধানে হেরেছিল আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. আনসারুল করিম সেই একই উপজেলায় দ্বিতীয়বারের মত বিশাল ব্যবধানে জয়ী হলেন আশেক উল্লাহ রফিক। এর কারণ হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন কর্মজজ্ঞ এবং কুতুবদিয়ার মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণে জনাব আশেক উল্লাহ রফিকের দৃঢ় পদক্ষেপের ফল হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
নির্বাচন শেষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক এমপি কুতুবদিয়া-মহেশখালীর জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। নির্বাচনের পরদিন তিনি কুতুবদিয়া উপজেলা ভ্রমণ করলে হাজার হাজার মানুষ তাঁকে একবার সম্ভাষণ জানানোর জন্য কুতুবদিয়া ঘাটে জয় বাংল স্লোগানে মুখরিত করে রাখে।
এদিকে গত ১১ই নভেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহেশখালীর মাতারবাড়ির জনসভায় আশেক উল্লাহ রফিককে জনগণের হাতে তুলে দিয়ে বলেছিলেন, “আপনাদের ছোট্ট এমপি সাহেব- আশিক, তাকে আপনাদের হাতেই দিয়ে গেলাম, এই যে আশিক, আশিককে আপনাদের হাতেই তুলে দিলাম।”
ঐদিন লক্ষ জনতার জনসভাস্থল থেকেই জনশ্রুতি হতে শুরু করে আশেক উল্লাহ রফিক এইবারও নৌকার নমিনেশন পাবেন এবং এমপি হয়ে কক্সবাজারে দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগের মন্ত্রী না থাকার শূন্যতা জনাব আশেক উল্লাহ রফিক গোছাবেন। গত ১১ই নভেম্বর এর পর থেকে সাধারণ মানুষ, দলীয় নেতা কর্মী এমনকি সারা জেলা জুড়ে রব উঠেছে আশেক উল্লাহ রফিক এবার মন্ত্রী হচ্ছেন। স্থানীয় সাধারণ জনগণ চায়ের দোকানে, পাড়ার আড্ডায় তখন থেকেই সকলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে আশেক উল্লাহ রফিক এর ভবিষ্যৎ মন্ত্রী হওয়ার গল্প। এ অঞ্চলের সকলের দাবি রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সামাজিক আন্তর্জাতিক বিষয়ে আশেক উল্লাহ রফিক একজন দক্ষ ব্যক্তি। ছোটবেলা থেকে কলেজে ছাত্ররাজনীতি এবং কলেজ সংসদের ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার মাধ্যমে ছাত্রদের নেতৃত্ব দানের দক্ষতা অর্জন করেন আশেক উল্লাহ রফিক। শেখ হাসিনা গত ১১ই নভেম্বর যে রফিক উল্লাহ সাহেবের কথা বলেছিলেন সেই জনাব এস.এ.এম রফিক উল্লাহ ছিলেন মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তারই পিতা আশেক উল্লাহ রফিক এর দাদা ছিলেন মরহুম মকবুল আহমদ মোক্তার বৃহত্তর মহেশখালী ঋণ শালীশী বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ও প্রতিষ্ঠাতা মহেশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। বিখ্যাত সমবায়ী বীর মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ সহচর জনাব এস.এ.এম রফিক উল্লাহর ঔরসজাত জনাব আশেক উল্লাহ রফিক স্বৈরাচার আন্দোলনের প্রাক্কালে চট্টগ্রাম কমার্স কলেজের একবার নির্বাচিত জিএস, একবার ভিপি ছিলেন। শিক্ষা জীবন শেষ করেন চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ থেকে বি.কম. এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্স বিষয়ে এম.কম.। রাজনৈতিক পরিবার থেকে বেড়া উঠায় পড়াশোনার পাশাপাশি মানুষের অধিকার আদায়ে, মানুষের জন্য সমাজের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনার অভিপ্রায়ে জনাব আশেক উল্লাহ রফিক রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে পারেন নি। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক, কক্সবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক, মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের দুইবারের সাধারণ সম্পাদক, জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশণা সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক ব্যক্তি হলেও ব্যবসায়ী হিসেবে আশেক উল্লাহ রফিক একজন সনামধন্য ব্যবসায়ী। তিনি শ্রিম্প হ্যাচারী এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর সভাপতি, সভাপতি কুতুবদিয়া মহিলা কলেজ, সভাপতি মহেশখালী কলেজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সেব) পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মহেশখালী আইল্যান্ড হাই স্কুল। সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাল্টিপারপাস সমিতি মহেশখালী উপজেলা। আজীবন সদস্য কক্সবাজার ডায়বেটিক হাসপাতাল। আজীবন সদস্য কক্সবাজার রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। আজীবন সদস্য থ্যালাসেমিয়া সেবা কেন্দ্র-বাংলাদেশ।
জনাব আশেক উল্লাহ রফিক দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়ীত্ব পালন করেছেন। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সদস্য ও আন্তর্জাতিক ক্লাইমেট পার্লামেন্ট এসোসিয়েশন এর নির্বাহী সদস্য।
শিক্ষানুরাগী শান্ত প্রকৃতির মেধাবী বুদ্ধিমান নেতা হিসেবে সকলে আশেক উল্লাহ রফিককে একজন রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তি হিসেবে মনে করেন।
কক্সবাজার জেলার সকল স্তরের নেতা কর্মীরা তার সাথে সলাপরামর্শ এবং যে কোন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে তিনি সবসময় ইতিবাচক স্ট্র্যাটেজিক্যাল পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
জেলার সাধারণ মানুষ, দলীয় নেতা-কর্মী সকলে মনে করেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদে সরকারের মন্ত্রী হিসেবে আশেক উল্লাহ রফিককে মনোনীত করলে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের আশা পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য বিজ্ঞ ব্যক্তিদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন।
Leave a Reply