তৌহিদুল ইসলাম কায়রু,লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম:
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার সংরক্ষিত আসনের প্রাথীদের নিয়ে শুরু হয়েছে তোড়জোড়। বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার পাশাপাশি নারীদের উন্নয়নে বৃহৎ পরিসরে কাজ করতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ থেকে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন চান বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক নারীনেত্রী সাজেদা সুরাত।
নারী জাগরণে কাজ করার পাশাপাশি নারী ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহী করতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া-লোহাগাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজ করার সুবাদে সাজেদা সুরাত সফল নারী নেত্রী হিসেবে সুপরিচিত। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চুনতি গ্রামের বিখ্যাত শাহ মঞ্জিলে উনার জন্ম। উনার দাদা হজরত মাওলানা শাহ হাফেজ আহমদ (রঃ) প্রকাশ শাহ সাহেব কেবলা এতদঞ্চলের একজন স্বনামধন্য আধ্যাত্মিক বুজর্গ ব্যক্তি ছিলেন, যার সুনাম সারা বিশ্বে সমাদৃত। উনাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে ধর্মীয় আধ্যাত্মিক চেতনা ও মানবতার সেবা। উনার স্বীয় বাড়ি শাহ মঞ্জিলে অনুষ্ঠিত হয় ১৯ দিন ব্যাপী বিশ্বখ্যাত মাহফিলে সীরতুন্নবী (সঃ) মাহফিল যা বিগত ৫৪ বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
শাহ সাহেব হুজুরের একমাত্র ছেলে জনাব শাহজাদা জামাল আহমদ (রঃ) এর মেঝ মেয়ে সাজেদা সুরাত পেশায় একজন আর্কিটেক্ট। কানাডায় পড়াশুনার পাট চুকিয়ে বাংলাদেশে ব্যবসায় নিয়োজিত আছেন প্রায় দুই দশক ধরে। প্রবাসে লেখাপড়া করলেও মাটি ও মানুষের টানে দেশের জন্য ভালো কিছু করার অভিপ্রায়ে দেশে আসেন। নারী উদ্যোক্তা হিসাবে দেশের নারী সমাজকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে।
সাজেদা সুরাত একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মী। এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা সহ নানাবিদ খাতে উনার প্রশংসনীয় অবদান রয়েছে। পেশাগত জীবনে উনি ঢাকা ওমেন চেম্বার অফ কমার্স এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এর দায়িত্ব পালন করেছেন। বন্যা, ঘুর্ণিঝড় ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের কল্যাণে উনার কার্যক্রম এতদঞ্চলে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলে উনি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে এতদঞ্চলের গরীব দুঃখী মেহনতি মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে চান।
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে চট্টগ্রাম দক্ষিণ থেকে মনোনয়ন চাওয়া কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সাজেদা সুরাত বলেন, ঢাকা ওমেন চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে চট্টগ্রাম সহ সমগ্র বাংলাদেশের নারীদের শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে আমি কাজ করেছি। পরবর্তিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বৃহত্তর চট্টগ্রাম সহ সমগ্র বাংলাদেশের নারীদের শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে আমি কাজ করছি। চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে এই জনপদের সাথে আমার সম্পর্কের শিকড় গাঁথা৷
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মহিলা আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দিয়ে যে দ্বায়িত্ব দিয়েছেন সেই দায়িত্ব পালনে আমি সর্বদা সচেষ্ট আছি। আমার অবস্থান থেকে চট্টগ্রামের জন্য বিশেষ করে এখানকার নারীদের জন্য কিছু করে যেতে চাই। বিগত সংসদ নির্বাচনের পূর্ব থেকেই জননেত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় ও সংগঠনের সিদ্ধান্তে আমি এই চট্টগ্রাম অঞ্চলের দলের প্রচার প্রচারণায় নিয়মিত অংশ নিয়েছি।
সাজেদা সুরাত বলেন, সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতি, কলাউজান ও সাতকানিয়ার চরতীসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে আমার মনে হয়েছে এখানে আমাদের মা বোনেরা নানামুখী চাপের ভেতর বসবাস করছেন। আমার মনে হয় এসব নারীদের কাছে দেশের উন্নয়ন ও পরিকল্পনার বার্তা পৌঁছে দিতে মহিলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে সাজেদা সুরাত বলেন, ‘ছাত্রজীবন হতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম। আমার পুরো পরিবার মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের রাজনীতির সাথে যুক্ত। আমার বাবা শাহজাদা জামাল আহমেদ ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কখনো কারো সঙ্গে আপোষ করেননি। আমি সংরক্ষিত আসনে দলের মনোনয়ন চাইবো। নেত্রী যদি সুযোগ দেন, যোগ্য মনে করেন, তাহলে দেশ-জাতির জন্য কাজ করতে চাই। নারী উদ্যোক্তা হিসাবে দেশের নারী সমাজকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছি। চট্টগ্রামে মহিলা আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করা এবং মহিলাদের দলের প্রতি উদ্বুদ্ধ করাসহ বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত। নেত্রী যদি এমপি হিসাবে মনোনীত করেন ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করতে পারব।
উল্লেখ্য, সাজেদা সুরাতের দাদা, হাফেজ আহমদ প্রকাশ শাহ সাহেব কেবলা ১৯০৪ সালে চুনতী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্ব পুরুষ হযরত ওমর (রঃ)’র বংশধর। তাঁর পিতার নাম হযরত মাওলানা ছৈয়দ আহমদ, মাতার নাম হাজেরা খাতুন। দাদা কাজী হযরত মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ আলী। তার পূর্বপুরুষ হজরত শাহ আলম খন্দকার আরব দেশ থেকে স্থলপথে দিল্লি আসেন। হজরত মাওলানা শাহ হাফেজ আহমদ (রহ.) বাঁশখালীর ছনুয়া মাদরাসা, চন্দনপুরা দারুল উলুম আলিয়া মাদরাসা ও কলকাতা আলিয়া মাদরাসায় পড়ালেখা করেন। বিশ্বের একমাত্র ১৯ দিনব্যাপী সীরাতুন্নবী (সা.) প্রতিষ্ঠা করে সর্বশ্রেণীর মুসলমানদের জন্য প্রেরণার ঝর্ণাধারা এবং নজিরবিহীন দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করেছেন।
Leave a Reply